স্টাফ রিপোর্টার, বারাসত: গাড়ির খালাসি স্বামী প্রায়ই মাঝরাতে মদ্যপান করে বাড়ি ফিরত। প্রায়শই ঝগড়া হত স্বামী-স্ত্রীর। এর মধ্যেই স্বামীর ‘বন্ধু’র সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল দীপার। কয়েক মাস আগে এই সম্পর্কের কথা জেনে স্ত্রীর প্রেমিক প্রসেনজিৎকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল দীপার স্বামী দিলীপ। লক্ষ্মীপুজোর রাতে নিজের বাড়িতেই প্রসেনজিতের সঙ্গে দীপাকে একান্ত ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলে দিলীপ। তখনই ধারলো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে খুন করে প্রসেনজিৎকে। শুধু তাই নয়, খুন করার পর স্ত্রীর প্রেমিকের বাড়ি গিয়ে তার মাকে ছেলের লাশ খুঁজে আনতে বলে দিলীপ। দিলীপের হাত ছিল রক্তমাখা।
[হিন্দু ভাইয়ের ক্যানসার, মহরমের শোভাযাত্রা বাতিল করে খরচ জোগালেন মুসলিমরা]
এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে বারাসত থানা এলাকার বড়বড়িয়ায়। অভিযুক্ত দিলীপ পলাতক। আজ সকালেও ব্যান্ডেলে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে একটা নাগাদ বারাকপুর রোডের ধারেই এমন ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রক্তমাখা হাতে দিলীপকে দেখেই প্রসেনজিতের খোঁজে এদিক-ওদিক তল্লাশি চালান বাড়ির লোকেরা। তার বাড়ির কাছেই এক আস্তাকুঁড় থেকে উদ্ধার হয় ক্ষতবিক্ষত দেহ। হাত ও পায়ের শিরা কাটা ছিল। বুকের বেশ কিছু জায়গায়ও ধারালো অস্ত্রের দাগ ছিল।
[গদ্দাররাই এমন আচরণ করে, নাম না করে মুকুলকে আক্রমণ পার্থর]
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, বছরখানেক আগে থেকেই বছর ছাব্বিশের প্রসেনজিৎ বারিকের সঙ্গে বছর ৩২-এর দীপা অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দিলীপের সঙ্গেই দিনমজুর ও গাড়ির খালাসির কাজ করত সে। দু’জনেই দু’জনের বাড়িতে যাতায়াত করত। দু’জনের সম্পর্ক নিয়ে দীপা-দিলীপের প্রায়ই অশান্তি হত। প্রসেনজিতের বউদি জানিয়েছেন, বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় দীপাকে নিমন্ত্রণ করে প্রসাদ খাওয়ায় প্রসেনজিৎ। পরে আবার ফোনে দীপা ডেকে নেয় প্রসেনজিৎকে। প্রসেনজিতের বাড়ির লোক জানান, দিলীপ আগেও একটি খুন করেছিল। দিলীপ জেলে থাকার সময় থেকেই প্রসেনজিৎ-দীপার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। তবে কেউ কেউ দীপার বিরুদ্ধেও অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, দীপাই ষড়যন্ত্র করে দিলীপকে ডেকে এই খুন করিয়েছে। গত রাতে বাড়িতে ঢোকার সময় দিলীপের সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিল বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন। তারা কতটা খুনের সঙ্গে জড়িত, সে ব্যাপারে তল্লাশি করছে পুলিশ। দিলীপের বাড়িতে পাশাপাশি অনেক ঘরেই তার পুত্র ও বাড়ির লোকজন থাকতেন। সবাই বাড়িতে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই নৃশংস খুন করা গেল, তা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। দিলীপকে ধরতে পারলেই সব রহস্য পরিষ্কার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
[কবিগুরুর মূর্তিতে মদ ঢেলে স্নান করাল দুষ্কৃতীরা, নিন্দার ঝড়]
সর্বশেষ খবর
-
থাইল্যান্ড ভ্রমণে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি ভারতীয় দূতাবাসের, প্ল্যান করার আগে জানুন খুঁটিনাটি
-
হাজার বছরের ধর্মচর্চা, আর্জেন্টিনার জার্সি নীল-সাদার নেপথ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ইতিহাস!
-
‘দেশবিরোধী শক্তিগুলো হিন্দুধর্মকে কলঙ্কিত করছে’, রাম মন্দিরে চুরি নিয়ে বিবৃতি সঙ্ঘের
-
ফ্রিজে রাখলেও গলছে আইসক্রিম! কোথায় গন্ডগোল? বাড়িতেই করুন এ-ফোর পেপার টেস্ট
-
দেশের এই প্রাচীন মন্দির এড়িয়ে চলেন স্থানীয়রা, দেবীর দিকে তাকালে কেন হাড়হিম হয়ে আসে?