BREAKING NEWS

২৮ শ্রাবণ  ১৪২৭  বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০ 

Advertisement

‘রেশন নিয়ে কেউ আন্দোলন করলে হাত-পা ভেঙে দাও’, ফের বিতর্কিত নিদান অনুব্রতর

Published by: Sucheta Sengupta |    Posted: July 16, 2020 10:19 am|    Updated: July 16, 2020 10:22 am

An Images

নন্দন দত্ত, সিউড়ি: রেশন নিয়ে উত্তেজনার পারদ চড়ছে বীরভূমে। গ্রামবাসীদের সামনে রেখে রেশন দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ডিলারদের উপর হামলা করছে বিজেপি। তার জেরে ময়ূরেশ্বর ব্লকের ৫৭ জন ডিলার নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। মঙ্গলবারই গণইস্তফা দিয়েছেন। আর বুধবার মল্লারপুরের কর্মিসভা থেকে সেই প্রসঙ্গে টেনে তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal) কর্মীদের নির্দেশ দিলেন, রেশন নিয়ে কেউ আন্দোলন করতে এলে হাত-পা ভেঙে দিতে। তাঁর এই নিদানে ফের তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

বুধবারের সভায় কর্মীদের উদ্দেশ্যে অনুব্রত বলেন, “ঠুঁটো জগন্নাথের মত দেখছিস? হাত-পা নাই নাকি তোদের? নুলো হয়ে গিয়েছিস? বেড়িয়ে হাত-পা ভেঙে দে। ইয়ার্কি বটে! কাজ নাই, কম্ম নাই, ফ্ল্যাগ হাতে চলে যাবে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবি নাকি? আমি মুখে না বলতে পারি কাজ কিন্তু বন্ধ রাখবি না। তাহলে ছাড়ব না বলে রাখলাম।” আর নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। পালটা জবাব দিয়েছে বিজেপিও। গেরুয়া শিবিরের জেলা সম্পাদক অতনু চট্টোপাধ্যায় পালটা বলেছেন, “তৃণমূল চোরেদের বাঁচাতে চাইছে। চোর রেশন ডিলারদের বিরুদ্ধে আন্দোলন হবেই। তাতে কেউ যদি ইট ছোঁড়ে, আমরা পালটা পাটকেল দেব। এক পা ভাঙলে, দুই পা ভেঙে দেব। ছাড়ব না।”

[আরও পড়ুন: মৃত্যুও আলাদা করতে পারল না ওদের, বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত পাঁচ শিশু]

পাকুরিয়াতে রেশন ডিলারের বাড়িতে হামলার প্রসঙ্গ টেনে অনুব্রত বলেন, “ওখানে রেশন ডিলারের বাড়িতে অন্যায়ভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। একটা ডিলারের কাছে আট হাজার কার্ড থাকে। কোনও গরমিল হতেই পারে। তা বলে আইন হাতে তুলে নেবে?” এ পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। কিন্তু সভা থেকে তিনি যে দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিলেন, রেশন নিয়ে আন্দোলনকারীদের পা ভেঙে দিতে, তাতে তো আইনভঙ্গ করা হচ্ছে বলে বিরোধীরা অভিযোগ তুলছেন। এই প্রশ্নের জবাবে অনুব্রতর সাফ কথা, ‘‘মাঠে চলতে চলতে যদি গরু বসে যায়, তাহলে তাকে দু’ঘা দিতে হবে।” এমনিতেই রাজ্যের শাসকশিবিরের এই ভরসাযোগ্য সেনাপতির সঙ্গে বিতর্ক ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে সবসময়। তিনি যা-ই বলেন, তাতেই বিতর্কের গন্ধ পান বিরোধীরা। সুতরাং, রেশন দুর্নীতি নিয়ে তাঁর এহেন মন্তব্য নিয়েও যে জলঘোলা হবে, তা স্বাভাবিক।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement