Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
আজাদ

‘দেশে এমন কোনও জেল নেই আজাদকে বন্দি করতে পারে’, পুলিশকে হুঁশিয়ারি ধৃতের

গ্রেপ্তারের পর থেকেই পুলিশকর্মীদের নানা রকম হুমকি দিতে শুরু করে আজাদ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৩, ২০১৯, ২০:২২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৩, ২০১৯, ২০:২২

options
link
‘দেশে এমন কোনও জেল নেই আজাদকে বন্দি করতে পারে’, পুলিশকে হুঁশিয়ারি ধৃতের zoom

সন্দীপ মজুমদার, উলুবেড়িয়া: নাম শেখ আজাদ। তাই বোধহয় ছয়-সাতটা অপরাধমূলক ঘটনার পরেও নতুন অভিযোগে বন্দিও হয়ে মুক্তির স্বপ্ন দেখে সে। অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। অথচ পুলিশকে রীতিমত হুমকি দিয়ে সে বলে, “ভারতবর্ষের এমন কোনও জেল নেই যেখানে আজাদকে বন্দি রাখা যায়।” এই হুমকি যে শুধু কথায় নয়, কাজেও সে করে দেখাতে পারে। বন্দি অবস্থায় চার-চার বার হাতকড়া খুলে ও তিনজন পুলিশকর্মীকে কামড় দিয়ে সে তার কথার প্রমাণ রেখেছে।

[ আরও পড়ুন: ঘর ওয়াপসি তিন সদস্যের, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদ পুনর্দখলের পথে তৃণমূল ]

Advertisement

বাগনান থানার খাদিনান খাঁ পাড়ার বাসিন্দা শেখ আজাদ ওরফে অন্তুকে পুলিশ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছয় নম্বর জাতীয় সড়কে খাদিনান মোড় থেকে প্রায় ২৫ কেজি গাঁজা সমেত পাকড়াও করে। আজাদ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রকম অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। এই কারণে এর আগে তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘদিন ধরে আজাদ সংশোধনাগারে থাকার পর বছর খানেক আগে সে জামিনে মুক্তি পায়। তারপর থেকেই এলাকায় একের পর এক বিভিন্ন রকম অপরাধমূলক ঘটনা বাড়তে থাকায় পুলিশ তাকে ধরতে যায়। কিন্তু দু’বার সে নদী টপকে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় দু’টি বাইক ও একটি গাড়ি নিয়ে বাগনান থানার খাদিনান মোড়ের কাছে আজাদকে ঘিরে ফেলে। এবং ৬-৭ জন পুলিশকর্মী অতর্কিতে আজাদকে জাপটে ধরে ফেলে। তার কাছ থেকে অন্তত ২৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়। তাকে মাদক আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গ্রেপ্তারের পর থেকেই আজাদ পুলিশকর্মীদের নানা রকম হুমকি দিতে শুরু করে। রাতে তাকে খাবার দেওয়া হলে সে বলে, “এই খাবার কুকুরেও খায় না।” তার জন্য বিরিয়ানি আনার দাবি জানায় সে।

শুক্রবার যখন পুলিশ প্রহরায় আজাদকে গাড়িতে করে হাওড়া আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন গাড়ির ভিতরেই সে তার আস্ফালন দেখাতে শুরু করে। পুলিশকর্মীদের হতবাক করে দিয়ে গাড়ির ভিতরেই সে চার-বার তার হাতের হাতকড়া খুলে ফেলে। গাড়ির ভিতরে থাকা পুলিশকর্মীরা তার হাত ধরতে এলে আজাদ তিনজন পুলিশকর্মীর গায়ে কামড় দিয়ে, তাঁদের ধাক্কা মেরে, মুখে থুথু ছিটিয়ে গাড়ি থেকে পালাতে উদ্যত হয়। অনেক চেষ্টা করে কোনওরকম ভাবে পুলিশকর্মীরা আজাদকে বাগে আনতে সক্ষম হন। শনিবার পুনরায় যখন পর্যাপ্ত সংখ্যক ব়্যাফ ও পুলিশকর্মী পরিবেষ্টিত অবস্থায় আজাদকে হাওড়া আদালতের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়িতে তোলা হয় তখন সে পুলিশ আধিকারিক থেকে শুরু করে অন্যান্য পুলিশ কর্মীদের উদ্দেশ্যে ‘শোলে’ ছবির গব্বর সিংয়ের ভঙ্গিমায় চিৎকার করে বলে ভারতবর্ষের এমন কোনও কারাগার নেই যেখানে তাকে বন্দি করে রাখা যাবে। তার নাম আজাদ সে চিরদিন আজাদই থাকবে। একই সঙ্গে সে জেল থেকে বেরিয়ে এসে এইসব পুলিশ আধিকারিক ও পুলিশ কর্মীদের খুন করারও হুমকি দেয়। আজাদের এই আস্ফালন দেখে পুলিশকর্মীরা বেশ কিছুটা হকচকিয়ে যান। এই ঘটনায় তাঁদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

[ আরও পড়ুন: ‘জয় শ্রীরাম’ বলায় শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে হামলার অভিযোগ, উধাও লক্ষাধিক টাকা ]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.