চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল: অঙ্গহানি মানুষের জীবনকে আমূল বদলে দিতে পারে। শুধু শারীরিক নয়, মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত করে দেয় অঙ্গহানি। উলটোদিকে আবার মানসিক শক্তিই পারে অঙ্গহানির মতো বড় মাপের শারীরিক বিপর্যয়কে হেলায় জয়কে করতে। তেমনই জয়ের খতিয়ান লিখছেন আসানসোলের বিপিন সিংহ। দুটি পা হারিয়েও তিনি দমে যাননি। নকল পা’কেই নিজের শরীরে আপন করে নিয়েছেন। তারপর সাধের বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন বিশ্বজয়ে। পেশায় কম্পিউটার মেকানিক আর প্যাশন বাইক রাইডিং। শখের মোটর বাইক ছুটিয়ে কখনও সিকিম, সান্দাকফু কখনও নেপাল। কৃত্রিম পা নিয়েই আড়াই হাজার কিলোমিটার বাইক রাইডিং শেষ করেছেন বিপিন। ৩৩ বছরের এই যুবকের পরের গন্তব্য হিমাচল। দূরত্ব চার হাজার কিলোমিটার। দিনটা ছিল ২০০৭-র অক্টোবর মাস। পুজোর ছুটিতে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে বাদ যায় দুটি পা। এরপরেই বদলে গেল যুবক বিপিনের দৈনন্দিন রোজনামচা। অ্যাম্পুটেশন বা অঙ্গচ্ছেদের দু’বছর পর নকল পা বসানো হল। তারপর শুরু অপট্রিক্যাল ট্রেনিং, হিপ মুভমেন্ট। এককথায় হাঁটার সময় পায়ের ছন্দ অক্ষত রয়েছে কিনা তার সবটাই খতিয়ে দেখা হয়।
[৪০ বছরের দাবি পূরণ, অবশেষে চালু হল ওদলাবাড়ির গ্রামীণ হাসপাতাল]
আসল ও নকল পায়ের হাঁটার ফারাক দূর করতে লাগাতার প্র্যকাটিস ও নির্দিষ্ট থেরাপি শুরু করে বিপিন। শুধু দৈনন্দিন জীবন নয়, পেশাগত জীবনেও নকল পা’কেই আসল ছন্দে নিয়ে আসেন বিপিন সিংহ। কুলটির নিয়ামতপুরের এই যুবক কিন্তু আর পাঁচজনের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। অন্যদের মতোই স্বাভাবিক ছন্দে জীবনযাপন করতে ভালবাসেন। দুর্ঘটনায় দুটি পা বাদ পড়ে যাওয়ার ধাক্কা যেখানে অন্যরা সামলে উঠতে পারেন না, সেখানে বিপিন কৃত্রিম পা নিয়ে আরও দামাল হয়ে উঠেছেন। বিপিন জানান, পা দুটি যখন অক্ষত ছিল তখন বাইক চালিয়ে বাঁকুড়ার গণ্ডি তিনি পার হননি। অথচ দুর্ঘটনার পরেই তিনি বাইক চালিয়ে দেশভ্রমণ শুরু করেছেন। তাঁর ভিতরে অদম্য জেদটা জুগিয়েছেন তাঁরা বাবা। তিনি ঘুরতে দারুণ ভালবাসেন। সেই ভ্রমনে যদি দুর্গম আর রোমাঞ্চের গন্ধ থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। কেউ তাঁকে আটকাতে পারবে না। মনে জমে থাকা এই ভ্রমণের ইচ্ছেপূরণ করছেন বাইকে চড়ে। তাঁর শখের কেটিএম ডিউক ২০০-তে চড়ে ইতিমধ্যেই ঘুরে ফেলেছেন নেপাল, সান্দাকফু, চিন সীমান্তের সিল্ক রুট ও নেপালের তুংলিং।
কেটিএম ডিউকের গিয়ার ফাংশনটি বানিয়েছেন নিজের মতো, যাতে কৃত্রিম পা নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে অপারেট করতে পারেন। যেখানে তাঁকে কারও সাহায্য নিতে হয় না। কারও মুখাপেক্ষিও হতে হয় না। ২০১০ সালে ধানবাদের এক মোটরবাইক শো-রুমের উদ্যোগে বুদ্ধগয়া অভিযান করেন বিপিন। সেই সফর ছিল চার দিনের। ২০১৩-র ডিসেম্বরে কুলটি বাইকার্স ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে দেড় হাজার কিলোমিটার পাড়ি দেন বিপিন। মোটরবাইক ছুটিয়ে আট দিনের অভিযানে সিকিম যান। ২০১৪-র জুনে ওই একই দলের সঙ্গে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার রাস্তা পেরিয়ে নেপাল অভিযানও করেন।
[শিলিগুড়িতে চিতার আতঙ্ক, ভুয়ো ফোনে নাজেহাল বনদপ্তর]
সর্বশেষ খবর
-
ট্রাম্পের চাপে লাল কার্ড বাতিল, কিন্তু হ্যারি কেনদের আবেদন খারিজ ফিফার! বিশ্বকাপে ফের বিতর্ক
-
বদলার ম্যাচে নিষ্ফলা মরক্কো, এমবাপে-দেম্বেলে জোড়া ফলায় সেমিফাইনালে ফ্রান্স
-
বিশ্বজয়ের পাঁচ মাসেই পথ হারাল টিম ইন্ডিয়া! আয়ারল্যান্ডের পর ইংল্যান্ডের কাছেও সিরিজ হার শ্রেয়সদের
-
মহারাষ্ট্রে ফের বিরোধী শিবিরে ভাঙন! পওয়ারের ‘অস্থিরচিত্ত’ বিধায়কদের ‘সন্দেহ’ কংগ্রেসের
-
১৬ বছর পর কলকাতা পেল মহিলা ওসি, একসঙ্গে রদবদল ৩৩ ইন্সপেক্টরের