Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬

বন্যা থেকে বাঁচতে অভিনব উদ্যোগ, জ্যাকের সাহায্যেই উঁচু হল দোতলা বাড়ি

বাড়ি উঁচু করতে কত খরচ পড়ছে জানেন?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০১৮, ১৩:১০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০১৮, ১৩:১০

options
link
বন্যা থেকে বাঁচতে অভিনব উদ্যোগ, জ্যাকের সাহায্যেই উঁচু হল দোতলা বাড়ি zoom
ছবি: প্রতিবেদক

চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল: বাড়ি না ভেঙেই অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার কথা শোনা ছিল৷ এবার তা চাক্ষুস করলেন আসানসোলবাসী৷ জ্যাকের সাহায্যে আস্ত দোতলা দালান বাড়িকে চারফুট উপরে তুলে দিলেন ইঞ্জিনিয়াররা৷ আসানসোলের ৮৫ নম্বর ওয়ার্ড মহিশীলা কলোনির সানভিউ পার্কে এই দৃশ্য দেখতে ভিড় জমান সাধারণ মানুষ৷ পেশায় শিক্ষক বিকাশচন্দ্র সাধু বর্ষায় বন্যার হাত থেকে বাঁচতে এই প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েছেন৷ হরিয়ানা থেকে বিশেষজ্ঞরা এসে এই কাজটি করছেন গত কয়েকদিন ধরে৷

২০০৩ সালে সানভিউ পার্কে বাড়ি তৈরি করেন বিকাশবাবু৷ পরবর্তীকালে পুরসভার তরফ থেকে এলাকার রাস্তাঘাট তৈরি হলে রাস্তা উঁচু হয়ে যায়৷ রাস্তার থেকে বাড়ির মেঝে নিচু হয়ে যাওয়ায় অল্প বর্ষাতেই বাড়িতে রাস্তা ও নর্দমার জল ঢুকতে থাকে৷ দু-তিন বছর ধরে এই সমস্যায় ভোগার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন বাড়িটিকে উঁচু করতে হবে৷ কিন্তু দোতলা বাড়িকে ভেঙে উঁচু করা যথেষ্ট খরচসাপেক্ষ ব্যাপার৷ বাড়িটি না ভেঙে নতুন করে বাড়ির উচ্চতা বাড়াবেন কী করে সেই নিয়ে অনলাইনে নানা উপায় সার্চ করতে থাকেন বিকাশবাবু৷ আর প্রযুক্তির যুগে অসম্ভব কিছুই নয়৷ প্রত্যাশামতোই এই কাজে বিশারদ ও অভিজ্ঞ হরিয়ানার একটি সংস্থার সন্ধান পেলেন তিনি৷ যোগাযোগও করে ফেলেন৷

Advertisement

[মা ও ছাত্রীকে ধর্ষণে অভিযুক্ত, লকআপের বাইরে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে শিক্ষক]

গত ১৮ আগস্ট থেকে বাড়ি না ভেঙে ও বাড়ির কোনও ক্ষতি না করেই মেঝের উচ্চতা বাড়ানোর কাজ শুরু করে ওই সংস্থা৷ এমনকী কাজ শুরুর আগে তারা ১০০ শতাংশ গ্যারান্টি দিয়ে কোর্ট পেপারে চুক্তি করতে সম্মত হয়৷ বিকাশ সাধু উৎসাহিত হন৷ বৃহস্পতিবার দেখা যায় বাড়িটি একফুট উপরে উঠে গিয়েছে৷ সংস্থার ৩০ জন কর্মী ১৭০টি জ্যাকের সাহায্যে বাড়িটি তুলতে ফেলতে সক্ষম হন৷ এবার ধীরে ধীরে ৪ ফুট পর্যন্ত বাড়িটিকে উঁচু করা হবে৷ তারপর নতুন করে ভিত, দেওয়াল ও মেঝে তারাই তৈরি করে দেবেন৷ সংস্থার সুপারভাইজার কৃষ্ণমার বলেন, প্রতিদিন এক ফুট করে বাড়িটিকে মাটি থেকে তোলা হবে৷ সম্পূর্ণ ১৭৫০ স্কোয়ার ফুটের দ্বিতল বাড়িটির কাজ শেষ হবে ৪৫ দিনে৷

বাড়িটি শূন্যে ভেসে উঠতেই স্থানীয় লোকেদের মধ্যে উৎসাহ ছড়িয়ে পড়ে৷ এলাকায় ভিড় করতে থাকেন তাঁরা৷ কেউ কেউ ছবি তোলাও শুরু করেন৷ সংস্থার কর্মীরা জানান এর আগে এ রাজ্যে তাঁরা এরকম ২০টি বাড়িকে উঁচু করেছেন৷ তারমধ্যে কিছু চলমানও ছিল৷ অর্থাৎ ১৫ ফুট পর্যন্ত দূরে ঠেলেছেন বিল্ডিংকে৷ বাড়ির মালিক বিকাশ সাধু বলেন, ২০০৩ সালে বাড়ি যখন করেন তখন বসতবাড়ি কম ছিল৷ পরে এলাকাটি উন্নত হয়৷ পুরনিগম থেকে রাস্তাও তৈরি হয়৷ কিন্তু তারপরই শুরু হয় বিপত্তি৷ ঘরের মেঝে নিচু হয়ে যায় রাস্তা থেকে৷ ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বাড়িতে জল ঢুকতে থাকে৷ দশ মিনিটের বৃষ্টিতে বাড়ির মেঝেতে ৭ ইঞ্চি পর্যন্ত জল জমে যায়৷ বর্ষাকালে মনে হয় বন্যা হয়ে গিয়েছে৷ তখন পরিবারের সবাইকে দোতলায় থাকতে হয়৷ তাই অভিনব পদ্ধতিতে বাড়ি উঁচুর কাজটি তিনি করাচ্ছেন৷ বাড়ি উঁচু করতে মোট ৫ লক্ষ টাকা খরচ হবে৷ আর ফিনিশ করতে ১০ লক্ষ টাকার বাজেট ছুঁয়ে যাবে বলে জানান রানিগঞ্জ শিয়ারশোলের মাস্টারমশাই বিকাশ সাধু৷

[দু’পায়ে শিকল পরে হাঁটছেন যুবক, অমানবিক ছবি কাঁথির রাস্তায়]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.