BREAKING NEWS

১২ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

রোয়ানু-র প্রভাবে বঙ্গে দেরিতে আসবে বর্ষা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 21, 2016 9:18 am|    Updated: May 21, 2016 9:18 am

An Images

স্টাফ রিপোর্টার: ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’-র প্রভাবে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে হলুদ সতর্কতা জারি করল আলিপুর আবহাওয়া দফতর৷ দফতর সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতেই ‘রোয়ানু’ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে শনিবার গভীর রাতে আছড়ে পড়বে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে৷ ‘রোয়ানু’-র প্রভাবে আজ শনিবার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ও দুই ২৪ পরগনায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে৷ আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার সকালের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি দক্ষিণবঙ্গ ও পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলভাগ ঘেঁষে এটি ধাবিত হবে বাংলাদেশের দিকে৷ এদিন কেন্দ্রীয় আবহবিজ্ঞান মন্ত্রকের পূর্বাঞ্চলীয় ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল গোকুলচন্দ্র দেবনাথ বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলার খুব কাছ দিয়ে বয়ে যাওয়ায় সমুদ্র লাগোয়া জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৬০-৭০ কিলোমিটার বেগে বইবে ঝোড়ো হাওয়া৷ পাশাপাশি সমুদ্রে এক থেকে দেড় মিটার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে৷ যে কারণে উপকূলবর্তী জেলার মৎস্যজীবীদের সমু্দ্রে যেতে বারণ করা করা হয়েছে৷ পরিস্থিতির আগাম আঁচ করে বিপর্যয় ঠেকাতে শুক্রবার তড়িঘড়ি নবান্নে যান গোকুলবাবু৷ সেখানে মুখ্য সচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বরাষ্ট্র সচিব মলয় দে এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন৷
এদিকে তাপবিধ্বস্ত দক্ষিণবঙ্গকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ রাজ্যের বর্ষাভাগ্যকে প্রশ্নচিহের সামনে দাঁড় করিয়ে দিল মনে বলে করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা৷ তাঁদের কথায়, প্রাক বর্ষার মরশুমে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় বর্ষাকে বিলম্বিত করার মূল কারিগর৷ এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তাঁরা জানিয়েছেন, দেশে বর্ষাকে টেনে আনার জন্য আরবসাগর আর বঙ্গোপসাগরের তাপমাত্রা, বায়ুচাপ-সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক অনুষঙ্গের মধ্যে ভারসাম্য প্রয়োজন৷ কিন্তু এই ধরনের আকস্মিক নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় সেই ভারসাম্য নষ্ট করে দেওয়ায় স্বাভাবিক ছন্দ হারায় বর্ষা৷

যেমনটা হয়েছিল ২০০৯ সালের ২৫ মে৷ সে বছর ঘূর্ণিঝড় ‘আয়লা’-র আগমন যাবতীয় বর্ষা ও বাষ্প শুষে নিয়েছিল৷ ফলে ঘূর্ণিঝড়ের হাত ধরে জুন মাসে সেরকমভাবে ভেজেনি রাজ্য৷ ২০১৫ সালেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল৷ ওই বছর পূর্ব-মধ্য আরবসাগরে থাকা নিম্নচাপটি শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড় ‘অশোবা’-য় পরিণত হয়৷ সেটি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয়ে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি ঘটায় কর্নাটক, কোঙ্কন, গোয়া এবং দক্ষিণ গুজরাতে৷ ফলে বঙ্গোপসাগরের কেরল শাখাটি আরও দুর্বল হয়ে পড়ে৷ গত বছর নির্দিষ্ট সময়ের ঠিক চার দিন পরে ৫ জুন কেরলে বর্ষা প্রবেশ করে৷ যার ফলে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা যাত্রা শুরু করে ১৯ জুন অর্থাত্‍ নির্দিষ্ট সময়ের ১১ দিন পর৷
২০১৪ সালে প্রায় একই জায়গায় তৈরি হয়েছিল একটি নিম্নচাপ৷ পরে তা ঘূর্ণিঝড় ‘নানৌক’-এ পরিণত হয়৷ সেই ঘূর্ণিঝড়ের দৌলতে দ্রূত মুম্বই পেরিয়ে গুজরাত উপকূলে ঢুকে পড়ে বর্ষা৷ কিন্তু উত্তর-পূর্ব ভারত এবং উত্তরবঙ্গের কিয়দংশে ঢোকা বর্ষা ফের নড়াচড়া শুরু করে ঘূর্ণিঝড় দুর্বল হয়ে যাওয়ার পর৷ শেষমেশ ১৮ জুন কলকাতায় পৌঁছয় বর্ষা৷ এক দশকের মধ্যে ২০০৫ সালে এতটা দেরি করে (২০ জুন) মহানগরে ঢুকেছিল বর্ষা৷ সে বছর বাংলাদেশ উপকূলে থাকা নিম্নচাপ মৌসুমি বায়ুকে নামিয়ে এনেছিল দক্ষিণবঙ্গে৷ এবছর বঙ্গোপসাগরের বিরূপ পরিস্হিতি আঁচ করতে পেরেই আগেভাগেই ঘোষণা করা হয় কেরলের বর্ষার সময়কাল এক সপ্তাহ পিছিয়ে যেতে পারে৷ স্বাভাবিক অবস্থায় মৌসুমি বায়ু নির্ঘণ্ট মেনে কেরলে বর্ষা পৌঁছে যাওয়ার এক সপ্তাহ পর অর্থাত্‍ ৮ জুন বর্ষা চলে আসে বাংলায়৷ ঘূর্ণিঝড়ের থাবায় ২০০৫ সালে ২০ জুনের সেই রেকর্ড এবার ভেঙে যাবে কি না তা নিয়ে জল্পনা শুরু করে দিয়েছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement