সুব্রত বিশ্বাস: ‘মা বলে ডাকলে বলে দুঃখ থাকে না। আঁচলে খাবার বাঁধা সেও খেলি না রে বাবা, এই দ্যাখ আমি তোর মা।’ লক্ষ জনের মাঝে এভাবেই মাতৃত্বকে তুলে ধরছেন শিল্পীরা। বাদাবনের লোকসংগীতকে মানুষের মনে স্থান করে দিতে এবার হাওড়া স্টেশনকে বেছে নিল দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার তথ্য সংস্কৃতি বিভাগ।
দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী আসছেন এই স্টেশনে। গন্তব্য গঙ্গাসাগর। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার এই তীর্থক্ষেত্রের জনপ্রিয়তা আদিকালের। পৌরাণিক কাহিনির হাত ধরে গঙ্গাসাগরের ইতিহাস সকলের জানা হলেও ওই একই জেলার লোকগান জানেন না কেউই। এই তীর্থক্ষেত্রের সঙ্গে লোকসংগীতের মেলবন্ধন ঘটাতে লোকশিল্পীরা বুধবার পৌঁছে গেলেন হাওড়া স্টেশনে। কষ্টের শরীর, হাড়ভাঙা খাটুনিতে তা আরও জীর্ণ। তবু এই শিল্পকে বাঁচানোর অদম্য ইচ্ছাতেই শিল্পীরা নিজেদের বাঁধা সেই গান নিয়ে হাজির স্টেশনের তীর্থযাত্রীদের মাঝে। লক্ষ মানুষের মাঝে হারিয়ে না যেতে নিজেদের সাজিয়েছেন।
[আরও পড়ুন: বাজির আড়ালে ভয়ংকর বিস্ফোরক, নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণে কাঁপল এলাকা]
মাথায় মুকুট, রংচঙে পোশাক। মুখে মাতৃত্বের গুণগান, পরিবেশ রক্ষার তাগিদ বা সংহতি রক্ষার জন্য তাঁদের বাঁধা গানসমূহ। ভাষার ব্যবধানে অনেকেরই বোধগম্য হচ্ছে না সে লোকগাঁথা। কেউ বা উপভোগ করছেন সুরের মাধুরী। আটঘরা ব্লকের বাসিন্দা শিল্পী অষ্ট মণ্ডল জানান, তাঁদের স্টেশনে এসে গান করার ব্যবস্থা করেছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার তথ্যসংস্কৃতি দপ্তর। মাসিক হাজার টাকা ভাতাও পান এই শিল্পীরা। সগারমেলার করিডর হাওড়া, শিয়ালদহে প্রচুর তীর্থযাত্রীর সমাগম হয়। বাদাবনের মানুষজনের সুখ, দুঃখ, ভালবাসা সবই গানের মাধ্যমে মানুষের কাছে তুলে ধরার উদ্দেশে তাঁদের হাওড়া স্টেশনে আসা। আগামী শনিবার শিয়ালদহে যাবেন একই উদ্দেশ্যে। এই শিল্পীদের জন্য হাওড়ায় অস্থায়ী কিয়স্ক করা হয়েছে। সেখানে সাগরমেলার সব তথ্যপঞ্জি, ফোন নম্বর দেওয়া রয়েছে। যাতে বিশেষ সুবিধা পাবেন তীর্থযাত্রীরা। এঁদের সহযোগিতাও করবেন শিল্পীরা।
সর্বশেষ খবর
-
‘আঁধার করে আসে’… বিকেলেই নামল রাত, কলকাতাজুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাত
-
বাংলার খেলাকে ধ্বংস করেছেন অরূপ! ময়দানকে স্বজনপোষণমুক্ত করার অঙ্গীকার নয়া ক্রীড়ামন্ত্রীর
-
অরূপ-স্বরূপের ফ্ল্যাটে পাপের সুরক্ষিত আড়াল! গোপন ঘরে পাপের ধুলো
-
মৃতের পরিবারকে দেওয়া আর্থিক সাহায্যেও কাটমানি! গ্রেপ্তার তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান
-
ক্ষোভের আগুনে জন্ম, সরকার বিরোধী আন্দোলনে ‘আরশোলা’