স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: ভিন রাজ্যে পরিবার-সহ আত্মঘাতী ডোমজুড়ের সোনার কারিগর। কারিগরের নাম স্বরূপগোপাল দাস(৩৭)। গত ক্রবার মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে হায়দরাবাদের সেকেন্দ্রাবাদে। ওই দিন রাতেই ডোমজুড়ের বাড়িতে এসে পৌঁছয় মৃত্যুর খবর। তারপরেই শোকের ছায়া নেমেছে গোটা এলাকায়। ছেল, বউমা, নাতি ও নাতনির মৃত্যুর খবর শুনে দিশেহারা মা চন্দনা দাস। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তিনি। ভেবে পাচ্ছিলেন না কীভাবে এমনটা ঘটল।
[ফের অকুস্থল চা-বাগান, চিতাবাঘের মৃত্যুতে ডুয়ার্সে চাঞ্চল্য]
শুক্রবার রাতে সেকেন্দ্রাবাদের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে স্ত্রী সন্তান-সহ স্বরূপগোপাল দাসের দেহ উদ্ধার হয়। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন স্ত্রী দীপালি দাস (৩০), তিতলি দাস (৭) ও দম্পতির তিন মাসের এক পুত্রসন্তান। ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেকেন্দ্রাবাদের মহানকালি থানার পুলিশ এই চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আর্থিক সংকটের জেরেই ওই যুবক সপরিবার আত্মহত্যা করেছেন। তবে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সেকেন্দ্রাবাদের পুলিশ। দাদার মৃত্যুর খবর পেয়েই শনিবার রাতে সেকেন্দ্রাবাদে রওনা দিয়েছেন স্বরূপগোপালের ভাই। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পরিবারের অন্ত্যেষ্টি সম্পন্ন হবে সেকেন্দ্রাবাদেই।
স্বরূপবাবুরা দুভাই। প্রায় ১২ বছর আগে তাঁদের বাবা মারা যান। তারপর থেকে সংসারের হাল ধরতে সোনা কাজে নামেন স্বরূপ। কাজ শিখে সোনার কারিগর হয়ে গেলে ভিনরাজ্যে কাজ শুরু করেন। বছর দশেক আগে মুম্বই রওনা দেন তিনি। মুম্বই যাওয়ার বছর দুই বাদে তিনি বিয়ে করেন। তখন মাঝে মাঝেই ছুটি পেলে ডোমজুড়ে ঘোষপাড়ার বাড়িতে আসতেন স্বরূপগোপাল। এমনকী, তখন ডোমজুড়ে বাড়ির সঙ্গেও স্বরূপ ও তাঁর স্ত্রী দীপালির নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। বছর পাঁচেক আগে মুম্বই থেকে পরিবার নিয়ে সেকেন্দ্রাবাদে চলে যান। এইসময় থেকেই ডোমজুড়ে বাড়ির সঙ্গে তাঁর সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্বরূপের যে তিন মাসের একটি পুত্রসন্তান হয়েছে তাও জানতে পারেনি তাঁর পরিবার। এদিকে কী কারণে সেকেন্দ্রাবাদের ভাড়াবাড়ি থেকে তাঁদের মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল, বুঝে উঠতে পারছেন না পরিবারের লোকেরা। বছর পাঁচেক আগেও স্বরূপ যখন ডোমজুড়ে ঘোষপাড়ার বাড়িতে আসতেন তখন তাঁর মধ্যে কোনওরকম অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি। কোনও পারিবারিক সমস্যার কথা জানাননি তিনি।
[ত্রিকোণ প্রেমের টানাপোড়েনে গুলি চলল দুর্গাপুরে, গুলিবিদ্ধ ১ যুবক]
এই প্রসঙ্গে স্বরূপের পরিবারের এক সদস্যা জানালেন, আর্থিক কষ্টের জেরে স্বরূপ যে আত্মহত্যা করতে পারেন তা তাঁরা ভাবতেও পারেন না। তবে দীর্ঘ পাঁচ বছর পরিবারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখেননি তিনি। এরমধ্যে পরিবার নিয়ে সেকেন্দ্রাবাদে কী অবস্থায় ছিলেন স্বরূপবাবু, তার কিছুই জানত না ডোমজুড়ের পরিবার। অন্যদিকে ভিনরাজ্যে শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পেয়েই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা এলাকার বিধায়ক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বরূপের পরিবারকে সবরকমভাবে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। সবমিলিয়ে রীতিমতো শোকের ছায়া নেমে এসেছে ডোমজুড়ের ঘোষপাড়ায়। প্রতিবেশীরা অনেকেই জানিয়েছেন, সোনার কারিগরের কাজ করতে গিয়ে যদি আর্থিক সংকটেই পড়েন, স্বরূপ তাহলে বাড়ি ফিরে এলেন না কেন ? বাড়ি ফিরলে অনেকেই তাকে সাহায্য করতে পারত। আত্মহত্যার পথ বাছলেন কেন তিনি? এই প্রশ্নটাই এখন ডোমজুড়ের ঘোষপাড়ায় ঘোরাফেরা করছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সেকেন্দ্রাবাদ থানার পুলিশ।
সর্বশেষ খবর
-
কলকাতা, হাওড়ায় পুরভোট নভেম্বরের শেষেই! হাওড়ায় হবে ৬০টি ওয়ার্ড
-
১৬০ কোটির সন্দেহজনক লেনদেন, তৃণমূলের টাকাতেই বিমান-হেলিকপ্টার কেনে সংস্থা! প্রকাশ্যে বিস্ফোরক তথ্য
-
দাঙ্গায় মদত, অপপ্রচার! বারুইপুর কাণ্ডে সুজন-সহ ৪ সিপিএম নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
-
ফের জ্বলছে হরমুজ! ২৪ ঘণ্টায় তৃতীয় জাহাজে হামলা, বিশ বাঁও জলে শান্তিচুক্তি
-
গুরুতর অসুস্থ রাজেশ শর্মা! ভর্তি হাসপাতালে, কী হয়েছে অভিনেতার?