Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ আষাঢ় ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ৮ জুলাই ২০২৬

রাখা হল না মাকে দেওয়া কথা, কুমেরু অভিযানে মৃত্যু পুরুলিয়ার শুভজিতের

অ্যান্টার্কটিকার মৈত্রী বেসক্যাম্পে চিরনিদ্রায় প্রতিভাবান তরুণ গবেষক ৷

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৫, ২০১৯, ১৪:৪১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৫, ২০১৯, ১৪:৪১

options
link
রাখা হল না মাকে দেওয়া কথা, কুমেরু অভিযানে মৃত্যু পুরুলিয়ার শুভজিতের zoom

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: রবার্ট স্কটের পথেই হারিয়ে গেলেন বাংলার তরুণ অভিযাত্রী৷ কুমেরু অভিযানে গিয়ে মৃত্যু হল পুরুলিয়ার শুভজিৎ সেনের৷ একটি কনভয় অপারেশনের সময় ঘটা দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২৩ বছরের ওই ভূতত্ত্বের ছাত্র ও গবেষক৷

[প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সরগরম দিল্লি, ক্ষুব্ধ সোলি সোরাবজি]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

জানা গিয়েছে, ৩৭তম ‘ইন্ডিয়ান সাইন্টিফিক এক্সপিডিশন টু আন্টার্কটিকা’-র সদস্য ছিলেন শুভজিৎ৷ ২০১৭ সালের নভেম্বর ওই দলটি কুমেরু রওনা দেয়৷ বেশ কিছু গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ফিরে আসার কথা ছিল তাদের৷ তার আগেই ঘটে যায় ভয়ঙ্কর ঘটনাটি৷ গত সোমবার ‘আইস শেলফে’ একটি কনভয় অপারেশনে ছিলেন শুভজিৎ৷ ওই অভিযান চলাকালীনই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তিনি৷ মারাত্মক জখম হন তিনি৷ ওই অবস্থায় তাঁকে নিয়ে আসা হয় ‘মৈত্রী’ বেসে৷ উল্লেখ্য, কুমেরুতে ভারতের বেসক্যাম্প ‘মৈত্রী’৷ সেখান থেকেই অভিযান চালাচ্ছিলেন অভিযাত্রীরা৷ সঙ্গে সঙ্গেই শুভজিতের চিকিৎসা শুরু করেন ক্যাম্পের চিকিৎসকরা৷ তবে চিকিৎসকদের চেষ্টা বিফল করে ওইদিন রাত প্রায় ১২ টা ১০ মিনিট নাগাদ মৃত্যু হয় তাঁর৷

মৈত্রী বেসক্যাম্পেই রয়েছে শুভজিতের দেহ৷ তবে কবে দেহ বাড়িতে আনা হবে তা এখন জানা যায়নি৷ আকস্মিক দুর্ঘটনার খবরে শোকে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের লোকজন৷ শুভজিতের বাবা শয্যা নিয়েছেন৷ বাক্যহারা হয়েছেন মা৷ চোখের জল ধর রাখতে পারছেন না দাদা শুভঙ্কর৷ পুরুলিয়ার নডিহা-দুলামি এলাকার ভুঁইয়াপাড়ার বাসিন্দা শুভজিৎ৷ পরিবার বলতে বাবা-মা ও দাদা৷ মিষ্টির ব্যবসা করেন বাবা দিলীপ কুমার সেন৷ তাঁকে সাহায্য করেন দাদা শুভঙ্কর৷ আগামী ১৬ এপ্রিল জন্মদিন ছিল শুভজিতের৷ মা পারমিতা দেবীকে বলে গিয়েছিলেন যে বাড়ি ফিরে জন্মদিন পালন করবেন৷ তা সেই আশা আর পূরণ হল না৷ পারমিতা দেবী জানান, “ছেলের পড়াশোনা নিয়ে কখনও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিইনি আমি৷ জানতাম এতে বিপদ রয়েছে তাও তাঁকে বারণ করিনি৷” এই প্রতিভাবান পড়ুয়া ও গবেষকের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে৷ প্রতিবেশীরা জানান, জীবনে উন্নতি করলেও অত্যন্ত নম্র ছিল শুভজিৎ৷

পুরুলিয়ার মানভূম ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমক পাশ করেন শুভজিৎ৷ তারপর ২০১৪ সালে জগন্নাথ কিশোর কলেজ থেকে ভূতত্ত্বে স্নাতক হন তিনি৷ তারপরই আইআইটি ভুবনেশ্বরের ‘আর্থ ওশান এন্ড ক্লাইমেট সাইন্স’-এ ভূতত্ত্বে নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি৷ তারপর যোগ দেন গোয়ার ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর আন্টার্কটিক এন্ড ওশান রিসার্চ’ সংস্থায়৷ সেখান থেকেই অ্যান্টার্কটিকা যাওয়ার জন্য আবেদন করে অভিযাত্রী দলে জায়গা পান তিনি৷ কুমেরু নিয়ে একটি বিশেষ গবেষণা করছিলেন তিনি৷ সব মিলিয়ে এহেন প্রতিভাবান তরুণের এই মৃত্যুতে শোকাহত বাংলা৷

[এলাকা দখল নিয়ে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত আলিপুর, আহত অন্তত ২৫]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.