সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পরীক্ষার সময় পড়ুয়াদের বেজায় চাপ। কীভাবে চাপ কমানো যায়? সে প্রশ্ন বারবার করে পড়ুয়ারা। এবার তাদের আলোর দিশা দেখাতেই আসরে নেমেছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ বিষয়ে তাঁর ভাষণ স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে সম্প্রচারের নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক। তবে বাংলায় তা সম্প্রচারিত হবে না। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাফ জানালেন, পরীক্ষার মুখে ভাষণ শোনার দরকার নেই পড়ুয়াদের।
[ ভারী তুষারপাত, সিকিমে বন্ধ ছাঙ্গু-বাবামন্দির যাওয়ার রাস্তা ]
মন-কি-বাত অনুষ্ঠানের এক পর্বেই পড়ুয়াদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু বক্তব্য রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কীভাবে চাপ কমিয়ে পরীক্ষায় সফল হওয়া যায়, বা জীবনের ক্ষেত্রেও কীভাবে সফলতার রাস্তা খুঁজে পাওয়া যায়, সে বিষয়ে মূল্যবান মতামত জানিয়েছিলেন। পরে তা বই হিসেবে প্রকাশেরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সরাসরি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে সম্প্রচারেরও সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক। উদ্দেশ্য, প্রধানমন্ত্রী পড়ুয়াদের হিতার্থে যা বলছেন, তা অবলম্বন করে যদি তাঁরা সাফল্য পান তবে ক্ষতি কী! সেইমতো রাজ্যে রাজ্যে নির্দেশিকাও জারি করা হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তকে ফের অগ্রাহ্যের পথে রাজ্য। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, “স্ট্রেস কমানোর জন্য অভিভাবক, শিক্ষকরা রয়েছেন। ভাষণ শোনানোর মতো ব্যাপার আগে কখনও কোনওদিন হয়নি। মানবসম্পদ দপ্তর এমন কিছু করলে করুক, আমরা আর কী বলব! তবে সামনেই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা আছে। এখন এসব শোনার সময় নেই পড়ুয়াদের। এটা কী জাতীয় ভাষণ যে শোনাতেই হবে? আগে ছেলেময়েরা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিক।” তাঁর প্রশ্ন, পরীক্ষার থেকেও কি ভাষণ জরুরি? খামোখা ভাষণ শোনানোর জন্য কেনইবা পড়ুয়াদের স্কুল-কলেজে টেনে আনা হবে! পরীক্ষার মুখে পড়ুয়াদের পড়াশোনা করাই দস্তুর। আর কোনও সমস্যায় পড়লে শিক্ষক থেকে অভিভাবকরা সহায়তা করবেন। সেখানে আলাদা করে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শোনার কোনও যৌক্তিকতা দেখছে না রাজ্য। ফলে বাংলায় এই ভাষণ সম্প্রচার হচ্ছে না।
[ ট্রলিব্যাগে যুবতীর দেহ উদ্ধার, ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ]
এর আগে স্বামী বিবেকানন্দ ও দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মদিন পালন নিয়েও কেন্দ্র বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছিল। যদিও রাজ্য কেন্দ্রের কথা মানেনি। বরং নিজেদের মতো করেই জন্মদিনে সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছিল মহাপুরুষদের। কিন্তু যে কোনও ইস্যুতে কেন্দ্রের বেঁধে দেওয়া নিয়ম মানতে যে রাজ্য নারাজ, তা ফের এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হল। এদিন শিক্ষামন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, সব নির্দেশ যে মানতেই হবে এমন কোনও কথা নেই। যদিও পার্থর কথাতে অনেকেই রাজনীতির ভূত দেখছেন। অনেকে বলছেন, কেন্দ্রের বিরোধিতা করতে গিয়েই এহেন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে রাজ্য। অন্যদিকে অভিভাবকদের একাংশের বক্তব্য, রাজ্যের সিদ্ধান্ত সঠিক। প্রধানমন্ত্রী ভাষণ শোনার বদলে, পরীক্ষার আগে পড়ুয়াদের প্রস্তুতিতেই জোর দেওয়া উচিত।
সর্বশেষ খবর
-
হামের মারণ হানা বাংলাদেশে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ৬০৫
-
পশুপাখির ঘর কেড়ে ১০ হাজার কক্ষের রিসর্ট! ট্রাম্পের জামাইয়ের বিরুদ্ধে জনগর্জন আলবেনিয়ায়
-
অফিসে জোর করে ধর্মান্তর! টিসিএসের পর উইপ্রো, বিস্ফোরক অভিযোগে ফের উত্তাল মহারাষ্ট্র
-
নেত্রী নাকি পরামর্শদাতা? মমতার ভূমিকা নিয়ে এবার ‘আসল তৃণমূলে’ও ফাটল!
-
সকাল থেকে নেই সাড়া! দিঘায় হোটেল থেকে উদ্ধার দম্পতির দেহ