নন্দন দত্ত, সিউড়ি: মহম্মদবাজারে ১৪৪ ধারার ভাঙার অভিযোগে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। প্রশাসনের একাংশের সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা বহিরাগত। শনিবার মহম্মদ বাজারে মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে প্রায় নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই ১৫ জন। মনোনয়নে অশান্তি বাধানোর জন্য প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ড থেকে তারা এসেছে। যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। তাদের দাবি, ওই ১৫ জনই দলীয় কর্মী।
[প্রেসক্রিপশনের আড়ালে মনোনয়নপত্র, ভণ্ডুল বিক্ষুব্ধ তৃণমূল প্রার্থীদের কৌশল]
শনিবার মনোনয়নের ষষ্ঠ দিনেও দিনভর উত্তপ্ত ছিল বীরভূমের মহম্মদবাজার এলাকা। অভিযোগ, গত পাঁচদিনে বিরোধীরা এই এলাকায় একটিও মনোনয়ন পত্রও জমা দিতে পারেনি। তাই শনিবার অস্ত্রশস্ত্র-সমেত তিনটি মিছিল করে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে আসে বিজেপি। পুলিশ তাঁদের পথ আটকালে শুরু হয় ব্যাপক সংঘর্ষ। পালটা বিজেপির অভিযোগ, পুলিশ নয়, মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেয় তৃণমূলকর্মীরা। দুই দলের সংঘর্ষে শনিবার কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় আদিবাসী অধ্যুষিত এই এলাকা। মুড়ি-মুড়কির মতো বোমা পড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত এসপি-র নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মিছিলে থাকা বিজেপির কর্মী সমর্থকদের হাতে তীর ধনুক ছিল। উপস্থিত পুলিশবাহিনী তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। এই সময় বিডিও অফিস চত্বরে উপস্থিত তৃণমূল কর্মীরাও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিজেপির মিছিলকে রোখার চেষ্টা করে। ততক্ষণে তিন রাস্তা দিয়ে ব্লক অফিসের সামনে চলে এসেছে বিজেপির মিছিল। আর মিছিলের মাঝখানে আটকা পড়েছে পুলিশ ও তৃণমূলকর্মীরা। এমতাবস্থায় মিছিল লক্ষ্য করে শুরু হয় বোমা বর্ষণ। পালটা হিসেবে বিজেপি কর্মীরাও বোমা ছুঁড়তে শুরু করে। এককথায় রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা মহম্মদবাজার এলাকা। অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আসরে নামেন জেলার পুলিশ সুপার নীলকান্ত সুধীর কুমার। স্পেশ্যাল আইজি জাভেদ শামিম ও আইজি রাজীব মিশ্র। মারমুখী জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এরপর সংঘর্ষ থামলেও গোটা এলাকা থমথমে হয়ে যায়। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে মহম্মদবাজার থানার পুলিশ। শনিবার রাত থেকে এখনও পর্যন্ত ১৪৪ ধারা ভাঙার অভিযোগে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রশাসনের একাংশের বক্তব্য অনুসারে ধৃতরা বহিরাগত। এলাকায় অশান্তি বাধানোর অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও স্থানীয় বিজেপির দাবি, ধৃতেরা এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় আঙ্গারগরিয়া, পুরাতন বাজার ও মহম্মদ বাজারেই তাদের বাড়ি। যদিও গ্রেপ্তারির কথা স্বীকার করেনি পুলিশ।
এদিকে মহম্মদবাজারের সংঘর্ষের ঘটনায় অভিযুক্তদের বহিরাগত হিসেবে দাবি করেছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তিনিন বলেছেন, বহিরাগতরা জেলায় অশান্তি বাধানোর উদ্দেশ্যে প্রতিবেশী ঝাড়খণ্ড রাজ্য থেকে এসেছে।
[গ্রামের ১৩টি আসনেই মহিলা প্রার্থী, মানবাজারের বিশরীতে নজির তৃণমূলের]
সর্বশেষ খবর
-
ইটিএফ না মিউচুয়াল ফান্ড, বিনিয়োগের জন্য কোনটি বাছবেন? জেনে নিন বিস্তারিত
-
পরকীয়ার জের? ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার পর নিখোঁজ, পরে ক্লাবে মিলল বধূর দেহ!
-
ইজরায়েলের হানায় প্যালেস্টাইনের গোলরক্ষকের মৃত্যু! এখনও নীরব কেন ফিফা? চরমে বিতর্ক
-
আর্থিক অনটন? সংসারে ফিরবে মা লক্ষ্মীর কৃপা, ঘরে রাখুন মাটির তৈরি এই জিনিসগুলি
-
আসানসোল পুরবোর্ড ভেঙে দিল রাজ্য, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে প্রাক্তন পুর কমিশনার অদিতি চৌধুরী