টুলু মণ্ডল (Tulu Mondal)-কাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন খুলছে রহস্যের নতুন দরজা! একদিকে টুলুর বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়ে তদন্ত চলছে, অন্যদিকে তাঁর সাম্রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত একের পর এক ব্যক্তির নাম এবং নথি সামনে আসছে। সেই মামলাতেই নতুন মোড়। আদালতে টুলু মণ্ডলের দুই ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিক ও নইমুদ্দিন মণ্ডলকে তোলা হলে বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্যে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর ‘অক্টোপাস’ তত্ত্ব।
সীতেশ প্রামাণিকের হাতে লেখা হিসাবের নথিও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। সেই লেখাগুলির সত্যতা নিশ্চিত করতে আদালতে হ্যান্ডরাইটিং বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সরকারি আইনজীবীর দাবি, এই মামলার মাথা একটি হলেও টুলুর হাত অক্টোপাসের মতো চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে। অর্থাৎ টুলুকে কেন্দ্র করে আরও বহু ব্যক্তি ও ব্যবস্থার যোগ থাকতে পারে বলেই তদন্তে ইঙ্গিত মিলছে। দুই ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে বলেও আদালতে জানান তিনি।
তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে উঠে এসেছে ডিসিআর বা পাথর সংক্রান্ত নথি। পুলিশ টুলুর বিভিন্ন ডেরা থেকে যে ডিসিআর উদ্ধার করেছিল, সেগুলির সবকটিই জাল বলে ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক নিশ্চিত করেছেন বলে আদালতে দাবি করা হয়। সরকারি আইনজীবীর আরও দাবি, ওই জাল ডিসিআর ব্যবহার করেই প্রতি বছর অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়ে থাকতে পারে। যদিও এই বিষয়ে আরও গভীরে গিয়ে তদন্তে পুলিশ আধিকারিকরা। এখানেই শেষ নয়, সীতেশ প্রামাণিকের হাতে লেখা হিসাবের নথিও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। সেই লেখাগুলির সত্যতা নিশ্চিত করতে আদালতে হ্যান্ডরাইটিং বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি মামলায় আরও চারটি ধারা—জালিয়াতি, প্রতারণা, প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা এবং জাল নথি ব্যবহার—যুক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে।
ফলে প্রশ্ন আরও ঘনীভূত, টুলুর সাম্রাজ্যের আসল পরিধি কতটা? আর সেই ‘অক্টোপাস’-এর কতগুলি হাত এখনও তদন্তের নাগালের বাইরে? তদন্ত এগোতেই এখন সেই উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। অন্যদিকে এদিন টুলু মন্ডল ঘনিষ্ঠ আউশগ্রামের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক মন্ডল-সহ একাধিক বাড়িতে হানা দেয় বীরভূম পুলিশ। আউসগ্রামের কাঁটাটিকুরি গ্রামে এই অভিযান ঘিরে সোমবার সকাল থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা।
টুলু মণ্ডলের পরিচিত পাথর ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক মণ্ডলের বাড়িতে অভিযান শুরু করে বীরভূম জেলা পুলিশের বিশাল বাহিনী। অভিযানে বীরভূম পুলিশের পাশাপাশি ছিল পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের ছোড়া ফাঁড়ির পুলিশও। শুধু মোজাম্মেলের বাড়ি নয়, তাঁর ভাইপো মুর্শিদ কালাম মণ্ডল ওরফে কাজলের বাড়িও ঘিরে তল্লাশি চালায় পুলিশ।
সর্বশেষ খবর
-
শক্তি বাড়িয়ে এগোচ্ছে নিম্নচাপ! প্রবল বর্ষণের সম্ভাবনা, দক্ষিণবঙ্গে জারি রেড অ্যালার্ট
-
কামতাপুরি নাকি রাজবংশী! জনগণনা শুরু হতেই উত্তরে ভাষা বিতর্ক চরমে
-
‘পাকিস্তানের প্রেমে মরে যাচ্ছেন…’, ফের নাসিরুদ্দিনকে নজিরবিহীন তোপ কঙ্গনার
-
সিনেমার কায়দায় কীভাবে খুন? চ্যাটজিপিটির পরামর্শে আমেরিকায় মা-ভাইকে হত্যা ভারতীয় বংশোদ্ভূতর!
-
অবসর বা অনির্দিষ্টকালের ছুটি নয়, পিতৃশোক কাটাতে মাঠেই ফিরলেন মেসি, চোখের জলে স্বাগত মায়ামির