রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: নিচুতলায় সংগঠনের হাল এতটাই তলানিতে যে বহু বুথে প্রচারের লোক পাওয়া যাচ্ছে না। পুরনো কর্মীরা মাঠেই নেই। অশনি সংকেত দেখছে বঙ্গ বিজেপি। অধিকাংশ লোকসভা কেন্দ্রে কর্মীর অভাব, কোথাও আবার আদি-নব্য দ্বন্দ্ব প্রবল। প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ তো প্রকাশ্যেই চলছে। তাই সংগঠনে আস্থা হারিয়ে মোদির প্রার্থী বলে প্রচারে মরিয়া বিজেপি। নিচুতলায় সংগঠন না থাকলে মোদির হাওয়া তুলে যে ভোট বৈতরণী পার করা যাবে না এটা মানছেন গেরুয়া শিবিরের বড় অংশই।
রাজ্যে ৮০ হাজার ৫৩০টি বুথ রয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ৫৪ হাজারের মতো বুথে কমিটি তৈরি করা গিয়েছে বলে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি। তার মধ্যে আবার অনেক বুথে কমিটির লোকজন থাকলেও সাধারণ কর্মী নেই। ৩০ হাজারের বেশি বুথেই বিজেপির ‘ঢাল নেই, তরোয়াল নেই নিধিরাম সর্দার’—এর মতো অবস্থা। উত্তরবঙ্গে বুথ কমিটির অবস্থা তুলনায় ভাল হলেও, দক্ষিণবঙ্গের হাল খুবই খারাপ। দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, বীরভূম, মালদহ, মুর্শিদাবাদে সংগঠনের অবস্থা খুবই খারাপ। দলের কাছে শেষ যা রিপোর্ট, এই জায়গায় বুথ সংগঠন একেবারেই মজবুত নয়, বুথ সদস্যদের খোঁজই নেই। নিচুতলায় প্রার্থীর প্রচারে বা সভা করতে বহু জায়গায় কর্মী বা সমর্থক পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও সংখ্যায় কম। বারাসত, দমদম, বরানগর, দক্ষিণ কলকাতা, পুরো দক্ষিণ ২৪পরগনা জেলা, হাওড়া সদরের ও উলুবেড়িয়া এবং হুগলির একটা বড় অংশে নিচুতলায় সেরকম কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না।
[আরও পড়ুন: আদৌ জোটের ভোট মিলবে? সিঁদুরে মেঘ দেখছে সিপিএম-কংগ্রেস]
বারাসত , বারাকপুর, দমদম, বরানগর, হুগলি, হাওড়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, বোলপুর সহ একাধিক জায়গায় পুরোনো কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ, চলছে আদি ও নব্য কোন্দল। কোথাও আবার গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামনে এসে গিয়েছে। বরানগর বিধানসভার উপনির্বাচনে বহিরাগত প্রার্থীকে নিয়েও ক্ষোভ চরমে বিজেপির আদিকর্মীদের মধ্যে। দমদম ও বরানগরে আদি নেতারা ঘরে বসে রয়েছেন। বুথ এলাকায় পুরনো নেতা-কর্মীদের মাঠে নামাতেই হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। হাতে যেটুকু সময় আছে সেটাকে কাজে লাগিয়ে বুথে-বুথে টিফিন বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতসব করেও লাভ কতটা হবে তা নিয়ে অবশ্য গেরুয়া শিবিরের মধ্যেই সন্দেহ রয়েছে।
গত বছরই অমিত শাহ থেকে জেপি নাড্ডা রাজ্যে এসে দলীয় বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, দ্রুত বুথ সংগঠন শক্তিশালী করতে হবে। তা না হলে লোকসভা ভোটে ভাল ফল করা যাবে না। তার পর চার দফায় বুথ সশক্তিকরণ কর্মসূচিতে নেমেছিল রাজ্য বিজেপি। তা করেও অর্ধেক বুথে লোক মিলছে না বলে খবর। শুধু তাই নয়, লোকসভা ভোটের আগে রাজ্যজুড়ে গত জুন থেকে আগস্ট, এই তিন মাসে ১ হাজার সভার টার্গেট বঙ্গ নেতাদের দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সেই টার্গেটের ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেনি রাজ্য বিজেপি। রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক হাল নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ কুণাল ঘোষের বক্তব্য, “বিজেপির কিছু সংগঠনই নেই। এদের পুরোটাই হাওয়ায় হাওয়ায়। যেটুকু আছে সেটাও গোষ্ঠীবাজি।” অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যর দাবি, “ঠিক সময়ে স্বরূপে বিজেপিকে দেখবেন। এবার চব্বিশের ভোটে প্রাপ্ত আসনের সংখ্যা ২৪—এর পর থেকে গোনা শুরু হবে।”
[আরও পড়ুন: বিজেপিতে না এলেই ‘অব কে বার তিহাড়’! গেরুয়া শিবিরকে আক্রমণ মহুয়ার]
সর্বশেষ খবর
-
ইতিহাস মোদির, নেহরুর রেকর্ড ভেঙে ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী! প্রশংসায় রাষ্ট্রপ্রধানরা
-
আরও বিপাকে অভিষেক! এবার ডায়মন্ড হারবার থানায় এফআইআর ববির
-
অ্যাপাচের পর এবার ধ্বংস মার্কিন MQ 9 ড্রোন! শান্তি সম্ভাবনায় দাঁড়ি টেনে সম্মুখ সমরে আমেরিকা-ইরান
-
তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব, সুখেন্দুকে রাজ্যসভায় ফেরাতে তৎপর বিজেপি! জল্পনা তুঙ্গে
-
এক ক্লিকেই কেল্লাফতে! এবার বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে বসে স্বাদ পাবেন মালদহের আমের