১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট রক্তে ভেসেছিল কলকাতা! হাজার হাজার মানুষ ‘খুন’ হয়েছিলেন। সেই ঘটনাই ইতিহাসে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ নামে পরিচিত। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন সেই ইতিহাসের কথাই মনে করালেন। মুখ্যমন্ত্রী ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’কে ‘ইতিহাসের অন্ধকার-মর্মান্তিক অধ্যায়’ বলে বার্তা দিয়েছেন। ১৪ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী মৌলালি যুবকেন্দ্রের অনুষ্ঠানেও ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ সম্পর্কে বার্তা দিয়েছিলেন।
এদিন সামাজিক মাধ্যমে ওই ‘অন্ধকার’ দিনকে মনে করিয়ে বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি লিখেছেন, “১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট, কলকাতা সহিংসতা ও রক্তপাতের এক ভয়াবহ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছিল। আমাদের ইতিহাসের এক অন্ধকার ও মর্মান্তিক অধ্যায় হলো এই দিনটি; যখন তৎকালীন শাসকের মদতে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছিল এবং হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। সেই বিপর্যয়কর দিনগুলোতে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাঁদের স্মৃতির প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। তাঁদের সেই অকথ্য যন্ত্রণা এবং অপূরণীয় ক্ষতির কথা যেন আমরা কখনোই বিস্মৃত না হই।” তিনি আরও লিখেছেন, “আসুন, আমরা অতীতের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়ার শপথ নিই—যাতে তোষণ-নীতির প্রভাবে মানবতার এমন ভয়াবহ অবক্ষয় আর কখনও আমাদের দেখতে না হয়।”
আরও পড়ুন:
On 16th August, 1946, our beloved Kolkata plunged into a horrific abyss of violence and bloodshed, forever etched in our collective memory as “Direct Action Day” and “The Great Calcutta Killings.”
This date marks a dark and tragic chapter in our history, where communal hatred… pic.twitter.com/HJnblrTSNC— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) August 16, 2026
১৯৪৬ সালের ওই দিন কলকাতায় বাস করা হিন্দুদের উপর আক্রমণ নেমে এসেছিল। মধ্য কলকাতার বাসিন্দা গোপাল মুখোপাধ্যায় সেসময় রক্ষা করেছিলেন হিন্দু বাঙালিদের। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর তাঁর নামে কলকাতার একটি রাস্তার নামকরণও হয়েছে। ১৪ আগস্ট মৌলালি যুবকেন্দ্রের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেও তাঁর মুখে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’য়ের প্রসঙ্গ শোনা গিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘ভারতকে বিভাজিত করার নামে দুটি হিন্দু গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। একটি একাত্তরে বাংলাদেশ, আরেকটি ছেচল্লিশের গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং, নোয়াখালি গণহত্যা। এসব ভুলব কী করে? গোপাল মুখোপাধ্যায় সেদিন না থাকলে হিন্দুরা শূন্য হয়ে যেত।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘দেশভাগের পর এই এলাকা সবচেয়ে বিধ্বস্ত হয়। সেদিন একমাত্র রুখে দাঁড়িয়েছিলেন গোপাল মুখোপাধ্যায়। তিনি না থাকলে আজ হিন্দুরা থাকতেন না। কলকাতার একটা রাস্তার নাম ছিল সুরাবর্দি না কী। সেটা পালটে আমরা ‘গোপাল মুখার্জি অ্যাভিনিউ’ করেছি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সোনা দিয়ে রূপচর্চা! হুজুগে ‘২৪ ক্যারাট গোল্ড সিরাম’ কিনেছেন? ছোট্ট ভুলে হতে পারে বিরাট ক্ষতি
-
আর জি করে রোগীর মৃত্যু, চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ পরিবারে, অবস্থা সংকটজনক ছিল দাবি হাসপাতালের
-
‘মহিলা’দের ইভেন্টে পদকজয় দুই ‘পুরুষে’র, ঐতিহাসিক টেস্টজয়ের দিনই কলঙ্ক বাংলাদেশের
-
ভব্য’ স্কিমে ফিরছে হারানো গৌরব! আসানসোলের বন্ধ ঢাকেশ্বরী কটন মিল ঘিরে নতুন আশার আলো
-
স্বাধীনতা দিবসে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে বাধা! সোনিয়ার নিন্দায় শুভেন্দু, কংগ্রেস নেত্রীকে চিঠি বঙ্কিমের প্রপৌত্রের