Advertisement
Advertisement
দক্ষিণ দিনাজপুর

ধস নামিয়ে রাজ্যে প্রথম জেলা পরিষদ দখল বিজেপির, গেরুয়াময় দক্ষিণ দিনাজপুর

জেলা পরিষদ হাতছাড়া হওয়াতেও মাথা ঘামাতে নারাজ তৃণমূল সভানেত্রী অর্পিতা ঘোষ৷

BJP is going to capture South Dinajpur Jela Parishad from TMC
Published by: Tanujit Das
  • Posted:June 24, 2019 8:21 pm
  • Updated:June 24, 2019 8:21 pm

রাজা দাস, বালুরঘাট: জল্পনা কাটিয়ে অবশেষে বিজেপিতে যোগ দিলেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি বিপ্লব মিত্র৷ তাঁর সঙ্গেই গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন সভাধিপতি-সহ জেলা পরিষদের ১০ জন সদস্য। ফলে তৃণমূলের হাতছাড়া হল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদ। এ রাজ্যে প্রথম কোনও জেলা পরিষদের দখল নিল বিজেপি৷ যদিও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ জেলা তৃণমূল সভানেত্রী অর্পিতা ঘোষ৷ এরপরেও জেলা পরিষদ এবং এখানকার দু’টি পুরসভা তৃণমূলেরই দখলে থাকবে বলে দাবি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের তাঁর।

[ আরও পড়ুন: ‘ক্ষমতায় এলে অপরাধীদের এনকাউন্টার’, ফের বিস্ফোরক মন্তব্য দুই বিজেপি নেতার ]

Advertisement

লোকসভা নির্বাচনে বালুরঘাট আসনটি তৃণমূলের হাতছাড়া হতেই তৃণমূল জেলা সভাপতির পদ থেকে বিপ্লব মিত্রকে সরিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এরপর থেকেই বিপ্লব মিত্রের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে জল্পনা চলছিল। সরাসরি না বললেও, দিন কয়েক আগে বিজেপিতে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি নিজেও। অবশেষে সোমবার দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে বিপ্লব মিত্র বিজেপিতে যোগ দিলেন৷ তাঁর সঙ্গেই গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা রায়-সহ ১০ সদস্য, যথাক্রমে কর্মাধ্যক্ষ তথা সদস্য মফিজউদ্দিন মিঞা, বিশ্বনাথ পাহান, শিপ্রা নিয়োগী, চিন্তামণি বিহা, প্রতিভা মন্ডল, ইরা রায়, শংকর সরকার, পঞ্চানন বর্মন এবং গৌরী মালি৷ এই যোগদানের ফলে স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড ভেঙে যাবে। এবং ১৮ আসন বিশিষ্ট জেলা পরিষদের দখল হারাবে শাসকদল৷

Advertisement

জানা গিয়েছে, এবার শাসক দলের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাদের দখলে থাকা গঙ্গারামপুর এবং বুনিয়াদপুর পুরসভা৷ এই দুই পুরসভাও হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কেননা ওই দুটি পুরসভার অধিকাংশ কাউন্সিলর রয়েছেন বিপ্লব মিত্রের অনুগামী বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। এবং এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়েই ইতিমধ্যে দফার দফায় বৈঠক করছেন তৃণমূল জেলা সভাপতি অর্পিতা ঘোষ।

গঙ্গারামপুর পুরসভায় থাকা ১৮ জন কাউন্সিলারের মধ্যে ৯ জনকে নিয়ে ইতিমধ্যে বৈঠক করেছেন অর্পিতা। আবার বালুরঘাটেও জেলা নেতাদের সঙ্গে পর পর বৈঠক করে জেলা পরিষদ ও পুরসভা দখলে রাখার রণকৌশল ঠিক করেছেন তিনি। বিপ্লব মিত্রর এই দলত্যাগকে পাত্তা দিতে নারাজ তৃণমূল জেলা সভাপতি৷ অর্পিতা ঘোষ বলেন, ‘‘কেউ অন্য দলে যেতেই পারে৷ সেটা তাঁর নিজস্ব ব্যাপার। তবে তৃণমূলের টিকিটে যারা নির্বাচিত তাঁরা পদত্যাগ করে যেখানে খুশি যাক। ওই জনপ্রতিনিধিরা তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়ে ছিল বলেই মানুষ ভোট দিয়েছে।’’ এখানেই শেষ নয়, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বালুরঘাটের প্রাক্তন সাংসদ বলেন, ‘‘জেলা পরিষদের যে সদস্যরা বিজেপিতে গিয়েছেন, তাঁরা ফোন করেছিল। তাঁদের জোর করে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফিরে এসে ফের তৃণমূলে যোগ দেবেন। জেলা পরিষদ আমাদেরই থাকছে।’’ পাশাপাশি গঙ্গারামপুর ও বুনিয়াদপুর পুরসভায় অধিকাংশ কাউন্সিলারই তৃণমূলের সঙ্গে আছেন বলেই জানান তিনি। সংখ্যাগরিষ্ঠ তারাই। ফলে সেই পুরসভা তাদের থাকছে। পাশাপাশি বুনিয়াদপুর পুরসভার কোন কাউন্সিলার বিপ্লব মিত্রর সাথে যায়নি। সুতারাং ওই পুরসভা হাতছাড়া হওয়া প্রশ্ন নেই বলেই দাবী তৃণমূল জেলা সভাপতি অর্পিতা ঘোষের।

[ আরও পড়ুন: মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মনের গাড়িতে ইট নিয়ে হামলা, কাঠগড়ায় বিজেপি ]

বিজেপিতে যোগ দিয়েই পুরনো দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন বিপ্লব মিত্র৷ জানান, ‘‘একটা সময় যাঁরা তৃণমূলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে, তাঁরাই আজ অসম্মানিত হচ্ছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে কেউ এখানে সম্মানের সঙ্গে থাকতে পারবে না। আমি প্রতিবাদের মাধ্যমে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ভাঙনের সূচনা করলান। ধীরে ধীরে এবার সবাই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসবে।’’ একই সঙ্গে এদিন বিজেপিতে নাম লেখান উত্তরবঙ্গের কালাচিনির বিধায়ক উইলসন চম্প্রমারিও৷ 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ