৯ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২৬  শুক্রবার ২৪ মে ২০১৯ 

Menu Logo নির্বাচন ‘১৯ দেশের রায় LIVE রাজ্যের ফলাফল LIVE বিধানসভা নির্বাচনের রায় মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

ব্রতদীপ ভট্টাচার্য, বারাসত: দফায় দফায় তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে সোমবার গভীর রাতে উত্তপ্ত বারাসত৷ এদিন রাতে বিজেপি নেতা অরবিন্দ মেননের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের বিরুদ্ধে৷ অন্যদিকে, ভিন রাজ্যে থেকে লোক ঢুকিয়ে এবং টাকা ছড়িয়ে ভোট প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করছে বিজেপি৷ এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন বারাসতের তৃণমূল প্রার্থী কাকলি ঘোষ দস্তিদার৷

[ আরও পড়ুন: পার্টি অফিসে ধর্ষণের চেষ্টা, বিজেপি নেতাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে পুলিশের দ্বারস্থ নেত্রী ]

জানা গিয়েছে, এদিন রাতে প্রসাদপুরে জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তুহিন মণ্ডলের বাড়িতে বৈঠকে বসে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। ওই বৈঠকে ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা অরবিন্দ মেনন-সহ অন্য রাজ্যের প্রতিনিধিরাও। বৈঠকে শেষ করে ১০টি গাড়িতে করে ফিরছিলেন বিজেপি নেতারা। বারাসত পুরসভার কাছেই গাড়িগুলি আটকে চড়াও হয় তৃণমূলের লোকজন। তৃণমূলের অভিযোগ, ওই গাড়িতে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র ও টাকা রয়েছে। পাঁচটি গাড়িতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে। পুলিশ গাড়িগুলিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনাচক্রে সেই সময় অরবিন্দ মেনন জেলা বিজেপি নেতা তুহিন মণ্ডলের বাড়িতেই ছিলেন। ওই বাড়িতেও হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পরে গ্রিল, দরজা ভেঙে মেনন-সহ চার বিজেপি নেতাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। গভীর রাত পর্যন্ত তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলে। ভাঙচুর হওয়া গাড়িগুলিও পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। পরে থানার মধ্যে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে তুমুল হাতাহাতি বাধে। থানায় পোঁছান বারাসত লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর অভিযোগ, “গুজরাত থেকে বিজেপি নেতারা এসে টাকা ছড়াচ্ছেন। গাড়ি করে অস্ত্র নিয়ে এসেছেন।” অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি নেতা মুকুল রায় বলেন, “তল্লাশির নাম করে হয়রানির মুখে ফেলা হচ্ছে বিজেপি নেতাদের। তল্লাশিতে কোথাও টাকা উদ্ধার হয়নি।”

[আরও পড়ুন: ভোটের দিন পুরুলিয়ায় নাবালিকার শ্লীলতাহানির অভিযোগ, ধৃত বিএসএফ জওয়ান ]

বাসত থানার আইসি, জেলার পুলিশ সুপারকে অবিলম্বে বদলের দাবি তুলেছে বিজেপি। অরবিন্দ মেননকে কড়া পুলিশি প্রহরায় গভীর রাতে বারাসত থানা থেকে বেশ কিছুটা দূরে দোলতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বিজেপি কর্মীরা তাঁকে অন্যত্র নিয়ে যান। তবে এদিন রাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারাসত শহরে দফায় দফায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে ছিল জটলা। এছাড়া সোমবার রাতে পাটুলিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় টামটার গাড়িতেও তল্লাশি চালায় কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টিম। সোমবার রাজ্যে প্রচারে আসেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় টামটা। এদিন রাতে পাটুলির ঘোষপাড়া এলাকায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর গাড়ি প্রায় ৪০ মিনিট ধরে তল্লাশি করে বিশাল পুলিশ বাহিনী। মন্ত্রীর কনভয়ে থাকা অন্য গাড়িগুলিতেও তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির পর মন্ত্রীর গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশের বক্তব্য, ১৯ মে কলকাতায় লোকসভা নির্বাচন। তার আগে রুটিন মাফিক নাকা তল্লাশি চলানো হয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর গাড়ি তল্লাশিকে ভাল চোখে দেখছে না বিজেপি। কেন্দ্রের শাসক দলের বক্তব্য, তৃণমূলের নির্দেশে কাজ করছে রাজ্যের পুলিশ। ইচ্ছাকৃতভাবে হয়রানি মুখে ফেলা হচ্ছে। পাল্টা তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা বাংলায় এসে গাড়ি করে বিভিন্ন জায়গায় টাকা পৌঁছে দিচ্ছেন।

[ আরও পড়ুন: টিউশন থেকে ফিরে আত্মঘাতী দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী, চাঞ্চল্য নাকাশিপাড়ায় ]

এমনকী, বারাসত শহরের একাধিক হোটেলে ম্যাজিস্ট্রেটকে সঙ্গে নিয়ে সোমবার তল্লাশি অভিযান চালায় পুলিশ। তৃণমূলের অভিযোগ, ভিন রাজ্যের বিজেপি নেতারা হোটেল থেকে টাকা বিলি করছে। এদিন টাকি রোডের উপর একটি হোটেলে তল্লাশি চালানোর সময় বিজেপি নেতাদের সঙ্গে পুলিশের তুমুল বচসা বাধে। ওই হোটেলে গুজরাট থেকে আসা কয়েকজন বিজেপি নেতা ছিলেন। রাজ্য বিজেপি নেতা বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরিও সেখানে ছিলেন। পুলিশ ঘর তল্লাশি চালাতে গেলে তিনি বাধা দেন বলে অভিযোগ। এরপরই বিজেপি নেতার সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন পুলিশ আধিকারিকরা। পুলিশের দাবি, তারা রুটিন মাফিক তল্লাশিতে এসেছে। যদিও বিশ্বপ্রিয়বাবু বক্তব্য, “সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়া ঘরে ঢুকে তল্লাশি করা যায় না।” পালটা যুক্তিও দেখায় পুলিশ। যা নিয়ে বিশ্বপ্রিয়বাবুর সঙ্গে পুলিশের তুমুল বাকবিতন্ডা বাধে। ভিন রাজ্য থেকে যে সমস্ত বিজেপি নেতা এসেছেন, তাঁদের প্রচার শেষ করেই বারাসত ছাড়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং