সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মতুয়াদের নাগরিকত্ব ইস্যুতে যুযুধান একই দলের সাংসদ, বিধায়ক। বনগাঁর (Bongaon) বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর (Santanu Thahur)মতুয়াদের সঙ্গে, দলের সঙ্গে ব্ল্যাকমেল করছেন বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলেন বনগাঁ উত্তরের ‘বেসুরো’ বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস। এবার তারই পালটা জবাব দিলেন মতুয়া মহাসংঘের অন্যতম সংঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুর। তাঁর পালটা অভিযোগ, বিশ্বজিৎ দাসকে এভাবে বিরুদ্ধ মত পোষণ করতে কেউ বা কারা উসকানি দিচ্ছেন। কাদের চাপে পড়ে তিনি এমনটা করছেন, তা আগে বলুন।
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে বনগাঁর বিজেপি (BJP) বিধায়ক তথা মতুয়া কেন্দ্র ঠাকুরবাড়ির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য শান্তনু ঠাকুরের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক। সাংবাদিক বৈঠকে বিশ্বজিৎ দাস প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলে বলেন, ”শান্তনু ঠাকুর দলের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। মতুয়াদের ব্যবহার করে দলের উপর অন্যায়ভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন। দলের সঙ্গে ব্ল্যাকমেল করে বনগাঁকে আলাদা সাংগঠনিক জেলা করিয়েছেন। দলকে তিনি রাস্তায় এনে দাঁড় করিয়েছেন।” CAA ইস্যুতেও তাঁর তোপ, ”সিএএ (CAA) নিয়ে শান্তনু অনেক কিছু বলছেন। বলছেন, আজই সিএএ চালু করতে হবে। আমি মনে করি, যাঁরা ভোট দেন, তাঁরা সকলেই নাগরিক। তাঁদের ভোটেই তো আমি বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছি। তাঁরা তো আর অবৈধ নাগরিক নন।”
[আরও পড়ুন: দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম ছেলে, ২ ঘণ্টার মধ্যে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড হাতে পেয়ে স্বস্তি মায়ের]
এরই জবাব দিতে গিয়ে শান্তনু ঠাকুর পালটা সতর্ক করে দিয়েছেন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসকে। বনগাঁর সাংসদের বক্তব্য, ”কে কার সঙ্গে প্রতারণা করছে, তা মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজনকে জিজ্ঞেস করলেই তো স্পষ্ট হয়ে যাবে। CAA নিয়ে দল যা ঠিক মনে করেছে, তাইই করেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই মতুয়াদের বার্তা দিতে এসেছিলেন। আর উনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হয়ে এসব বলছেন! এত মন্তব্য করলে পরবর্তীতে জনপ্রতিনিধি হতে সমস্যায় পড়বেন।”
[আরও পড়ুন: মতুয়াদের অনুষ্ঠানে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে মমতাবালা ঠাকুর, অনুন্নয়ন নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী]
সম্প্রতি খানিক বেসুরো বনগাঁ উত্তর বিজেপি বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস। গত সপ্তাহেই তিনি বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। তারপর থেকে তাঁর দলবদল নিয়ে চলছে তুমুল জল্পনা। আবার গত ॥১১ তারিখ ঠাকুরনগরে অমিত শাহর সভায় তাঁকে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর নেপথ্যেও বিশ্বজিৎ দাস দায়ী করেছেন শান্তনু ঠাকুরকেই। ফলে জল্পনা আরও বেড়েছে। যদিও ভোটের আগে বিজেপি ছেড়ে ফের তৃণমূলে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে এখনও মুখে কুলুপ বিধায়কের। সবমিলিয়ে, মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে বিজেপির অন্দরের কোন্দল এবার প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে, যা বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের শাসক শিবিরের কাছে অস্ত্র হতে পারে।
সর্বশেষ খবর
-
শৈশবের ট্রমা সহজে কাটে না! প্রভাব পড়তে পারে প্রেমের সম্পর্কেও, বোঝা যায় এই লক্ষ্মণেই
-
সপ্তাহে ২ দিন হাওড়ার মঙ্গলাহাটে হকারদের বসার অনুমতি, শর্ত বেঁধে দিল প্রশাসন
-
এবার রাডারে অভিষেকের ডায়মন্ড হারবার এফসি, ‘টাকা আসত কোথা থেকে?’, প্রশ্ন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথের
-
উন্নত রাডারেও অদৃশ্য! চিন-পাকিস্তানের চিন্তা বাড়িয়ে ভারতকে সু-৫৭-এর প্রস্তাব পুতিনের
-
কল্যাণীতেই হবে বিমানবন্দর, জোরালো বার্তা শান্তনুর, ওয়াটার মেট্রো নিয়ে কী বার্তা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর?