তৃণমূল নেতার বাড়িতে মিলল তাঁর স্ত্রীর অগ্নিদগ্ধ মৃতদেহ। মঙ্গলবার সাতসকালে ওই ঘটনা ঘটেছে দুর্গাপুরের (Durgapur) জামুড়িয়া থানা এলাকায়। মৃতার নাম পম্পা মণ্ডল। তিনি পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূলের প্রাক্তন যুব সভাপতি নরোত্তম মণ্ডলের স্ত্রী। ‘আত্মহত্যা’ নাকি অন্য কিছু? সেই প্রশ্ন উঠেছে। এই রহস্যমৃত্যুর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ওই তৃণমূল নেতাকে আটক করা হয়েছে।
জামুড়িয়া থানার কেন্দা ফাঁড়ির অন্তর্গত সোনপুর গ্রামের বাসিন্দা নরোত্তম মণ্ডল। তৃণমূলের শাসনকালে বেশ প্রভাবশালীও ছিলেন তিনি। একসময় পাণ্ডবেশ্বর তৃণমূলের প্রাক্তন যুব সভাপতি পদে ছিলেন তিনি। তাঁর স্ত্রীরই অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় দেহ পাওয়া গেল। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ ওই তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে ধোয়া বার হতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন:
স্থানীয়রা সন্দেহ করেছিলেন বাড়ির ভিতর কোথাও আগুন লেগেছিল। কিন্তু ডাকাডাকি করেও ভিতর থেকে কারও সাড়া মেলেনি। প্রতিবেশীরা বাড়ির সঙ্গে লাগোয়া সিঁড়ি দিয়ে ব্যালকনিতে উঠেছিলেন। ডাকাডাকিতে ওই দম্পতির নাবালক ছেলে ভিতর দিয়ে আটকানো দরজাটি খুলে দেয়। স্থানীয়রা বাড়ির ভিতরে ঢুকে দেখতে পান ওই গা শিউরে ওঠা ঘটনা। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় মেঝেয় পড়ে থাকতে দেখা যায় ৪০ বছর বয়সী পম্পাকে।
স্থানীয়রাই জামুড়িয়া থানার কেন্দা ফাঁড়ির পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে জানিয়ে দেয় পম্পা মৃত। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওই তৃণমূল নেতা বাড়িতে সেসময় ছিলেন না বলে খবর। ফোন করে তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়। কিন্তু কীভাবে ওই আগুন লাগল? নিছক দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যা? নাকি ঘটনার পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ? সেই প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গিয়েছে, নরোত্তম মণ্ডলের সঙ্গে পম্পার ১০ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে। বেশ কিছুদিন হল স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা ছিল না। ডিভোর্সের মাম্লাও চলছে দু’জনের মধ্যে। সেজন্য একই বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী এখন আলাদা থাকছিলেন বেশ কিছুদিন ধরে। তাহলে কি এই খুন? সেই প্রশ্নও উঠেছে। নরোত্তম মণ্ডলকে পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
স্থানীয় বিজেপির বুথ সভাপতি রঞ্জিত কুমার সিনহা অভিযোগ করেন,”নরোত্তম মণ্ডল অত্যন্ত প্রতাপশালী তৃণমূলের নেতা ছিল। এলাকার মানুষদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও অত্যাচার করত। এমনকী নিজের স্ত্রীকেও ছাড়ল না। এরকম অত্যাচারীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া দরকার।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
এবার সিলেবাস থেকে মুছে গেলেন মুজিব! বাংলাদেশের পাঠ্যবইয়ে খালেদা-জিয়াউরের অবদান
-
নাবালিকাকে বিয়ে করে যৌন নির্যাতন! শুভেন্দুর হুঁশিয়ারির পরই পকসো আইনে ২০ বছরে জেল ‘স্বামী’র
-
শুধু নির্মাণ নয়, দীর্ঘস্থায়ী পরিকাঠামো গড়তে বার্জার হাউসে বিশেষ কর্মশালা
-
জাপানের বিরুদ্ধে হোঁচট ভারতের, শেষ বলে গিয়ে অতিকষ্টে ম্যাচ জিতলেন শ্রেয়সরা
-
ওজন বৃদ্ধিতে লাগাতার কটাক্ষ ক্যাটরিনাকে, রিচার হুঁশিয়ারি, ‘মায়েদের নিয়ে মজা করলে…,’