BREAKING NEWS

২ আশ্বিন  ১৪২৭  শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

দু’-তিন দিনেই অমিল হবে পাউরুটি, কিনে রাখুন এখনই

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 26, 2016 11:04 am|    Updated: May 26, 2016 11:04 am

An Images

স্টাফ রিপোর্টার: সকালে বাঙালি তার চাহিদামতো পাউরুটি পাবে? বোধহয় না৷ বুধবার অধিকাংশ বেকারি তাদের উৎপাদন অর্ধেকেরও কম করে দিয়েছে৷ কেউ আবার একেবারেই উৎপাদন করেনি৷ ফলে চাহিদামতো যোগান থাকবে না বাজারে৷ দিল্লিতে নমুনা পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ পাউরুটিতে পটাশিয়াম ব্রোমেট ও আয়োডেট মিলেছে বলে জানানোর পরই আতঙ্কে ভুগছে বাঙালি৷ বুধবারই বাজারে টান পড়েছিল৷ মঙ্গলবার প্রায় ৩০ শতাংশ কম উৎপাদন হয়েছিল৷ পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে, আগামী দু’-তিন দিনের মধ্যে বাজারে আদৌ পাউরুটি মিলবে কি-না তা নিয়ে সন্দেহ আছে৷ বুধবার বেকারি মালিকরা বৈঠকে বসেন৷ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন৷ যে সমস্ত কারখানা থেকে ময়দার জোগান আসে, তারা যে পটাসিয়াম ব্রোমেট ব্যবহার করে না সেই সংক্রান্ত শংসাপত্র চাওয়া হচ্ছে তাদের কাছে৷ অদূর ভবিষ্যতে হয়তো ‘রাসায়নিকহীন’ বলে বিশেষ বিজ্ঞপ্তিও থাকতে পারে পাউরুটির প্যাকেটে৷
পাউরুটি তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ময়দা, ঘি, চিনি, ক্যালসিয়াম, নুন৷ থাকে অ্যান্ট-অক্সিজেন৷ দ্রূত যাতে ছত্রাক আক্রমণ না করতে পারে, তার জন্য প্রিজারভেটিভ হিসাবে এনজাইম থাকে৷ কিন্তু যে দুটি রাসায়নিক ঘিরে এত বিতর্ক, উদ্বেগ ও আতঙ্ক সেই দুটি এ রাজ্যে তাঁরা ব্যবহার করেন না বলে দাবি মালিকদের সংগঠনের৷ তবুও মানুষের ধন্দ কাটছে কোথায়?
কাটছে না তার প্রমাণ, বাজারে ধস নামা৷ বুধবার দুপুরের পর বেশ কিছু বেকারি উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়৷ অনেকে দিনে বন্ধ রেখে রাতটুকু উৎপাদন চালিয়ে গিয়েছে৷ স্রেফ ব্যবসা চালু রাখা ও কারখানা চালানোর খরচ তোলার তাগিদে৷ বেশ কিছু দোকানদার বেকারির কোনও পণ্য আপাতত রাখতে চান না৷ কেউ চান সামান্য রেখে কাজ চালিয়ে নিতে৷ পরিস্থিতি থিতু হলে ফের ভাববেন তাঁরা৷ দোকানদারদের বরাত মেলেনি বলেই বেকারির ভ্যান-ভেন্ডাররা তাঁদের বরাতও কমিয়ে দিয়েছেন৷ ফলে ধাক্কা গিয়ে লেগেছে সেই শিল্পেই৷ যে শিল্প অধিকাংশই অসংগঠিত৷ অথচ যা রুটি-রুজি দেয় কয়েক লক্ষ মানুষের৷
তবে আশার কথা এটাই, বেশ কিছু নামি হোটেল, বিমানবন্দরে এদিনও বিভিন্ন বেকারিতে রুটির বরাত মিলেছে৷ অর্থাৎ এই রাজ্যে আমজনতা আতঙ্কে ভুগলেও সব ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়েনি৷ তাই বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় বেকারিমহল৷ তাঁরা বলেন, দিল্লিতে কোনও অনিয়ম মানেই সব রাজ্যে তা চলছে, এমনটা তো নয়৷ স্রেফ বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছে বাঙালি৷ নানা ডিজাইনের স্লাইস ও ব্রাউন ব্রেড ঘিরেই আতঙ্কটা বেশি৷ সেই তুলনায় বিস্কুট, খাস্তা ও অন্যান্য নানা স্বাদের মুখরোচকে ধাক্কাটা লেগেছে কম৷
কিন্তু বেকারি মালিকরা জানাচ্ছেন, খাস্তা বা ওই ধরনের বিস্কুট তৈরিতে হালটা হল ‘যত্র আয় তত্র ব্যয়৷’ বরং স্লাইস ব্রেড কিছুটা বাঁচিয়ে রাখে বেকারিকে৷ সেটাই চলে যাচ্ছে কোমায়৷ সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন৷ যদি না রাজ্য কোনওরকম প্রচারে নামে এবং কেন্দ্রের খাদ্য নিরাপত্তা পর্ষদ জানায় বাংলায় উৎপাদিত রুটিতে কোনও ক্ষতিকর রাসায়নিক নেই৷
এই পরিস্থিতিতে এদিন বৈঠকে বসেছিলেন বেকারি মালিকরা৷ ওয়েস্ট বেঙ্গল বেকারি অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক তথা তৃণমূল সাংসদ ইদ্রিশ আলির বক্তব্য, “স্রেফ ভ্রান্ত ধারণার জেরে সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে এই শিল্প৷ হঠাৎ করে চাহিদা কমায় এর সঙ্গে যুক্তরাও সংকটে৷”

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement