Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
Belgharia

টাকা না দিলে খুনের হুমকি! দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেল, তোলাবাজির অভিযোগ বেলঘরিয়ার তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে

পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা বেলঘরিয়া টাউন তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ সাহার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন তাঁরই ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কর্মী।

অর্ণব দাস
অর্ণব দাস

শেষ আপডেট: মে ১১, ২০২৬, ১৪:১৮

link
অর্ণব দাস
অর্ণব দাস

শেষ আপডেট: মে ১১, ২০২৬, ১৪:১৮

options
link
টাকা না দিলে খুনের হুমকি! দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেল, তোলাবাজির অভিযোগ বেলঘরিয়ার তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে zoom
অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ সাহা (বাঁ দিকে)। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী রৌনক রক্ষিত (ডান দিকে)।
Advertisement

ছাব্বিশের নির্বাচনে ক্ষমতার হাত বদল হতে না হতেই তৃণমূলের অন্দরের ক্ষোভের পাহাড় প্রকাশ্যে। এবার কামারহাটি পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা বেলঘরিয়া টাউন তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ সাহার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন তাঁরই ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কর্মী। দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেল করে তোলাবাজির অভিযোগ তুললেন বেলঘরিয়ার ব্যবসায়ী রৌনক রক্ষিত।

কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী রৌনকের অভিযোগ, “২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ সাহা যে দামি মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করেন, তার দাম প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। সেই ফোনটি আমার কিনে দেওয়া। এমনকী মাসিক যে ওষুধের খরচ লাগে, তাও আমার কাছ থেকেই আদায় করেন উনি।” রৌনকের দাবি, “কখনও ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বিশ্বজিৎ। আপাতত হিসেব বলছে ৫ লক্ষেরও বেশি টাকা আমার থেকে আদায় করেছেন বিশ্বজিৎ সাহা। গত দু’তিন বছরের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট বের করলে অর্থের পরিমাণ আরও বেশি দেখা যাবে।” ওই ব্যবসায়ী জানান, “২০২২ সালের পুরভোটে আমিই ওঁর নির্বাচনী এজেন্ট ছিলাম। জেতানোর দায়িত্ব ছিল আমার। গোটা বেলঘরিয়াজুড়ে কী করেন, আমি সব জানি। নিজেকে বেলঘরিয়ার রাজা মনে করতেন। আমি একা নই, বেলঘরিয়ার প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৮০ জনই ওঁর কাছ থেকে টাকা পায়। দিনের পর দিন মানুষের টাকা তছরুপ করে গিয়েছেন। এবার আমার উপরে হামলা হতে পারে।”

Advertisement

এতদিন ‘প্রভাবশালী’ থাকায় ভয়ে সিঁটিয়ে ছিল গোটা এলাকা। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এবার সাহস পেয়েছেন বলে দাবি করেন ওই ব্যবসায়ী। রৌনক একা নন, কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন অন্য এক স্থানীয় ব্যবসায়ীও। তাঁদের দাবি, গত দুর্গাপুজোয় লাইট ও মাইক ভাড়া বাবদ ৮৫ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। বারবার টাকা চেয়েও কাউন্সিলরের কাছ থেকে কোনও সদুত্তর মেলেনি। এলাকার অন্যান্য ব্যবসায়ীদেরও অভিযোগ, বিভিন্ন বাহানায় কাউন্সিলর তাঁদের কাছ থেকে তোলা আদায় করতেন।

যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ সাহা। অভিযোগকারী রৌনক রক্ষিতকে ‘বাচ্চা ছেলে’ বলে তাঁর দাবি, “আমি নিজেও একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। কেন আমি অন্যের দেওয়া ফোন ব্যবহার করব? আর পুজোর বকেয়া টাকা নিয়ে কমিটির সঙ্গে কথা বলে জানা উচিত আমাকে কেন দায়ী করা হচ্ছে?” তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে বদনাম রটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বেলঘরিয়ার বিজেপি নেতা সুদীপ্ত রায়ের বক্তব্য, “এঁদের মতো নেতারা সমাজের জন্য ক্ষতিকারক। নিজের দলের ছেলেকেই খুনের হুমকি দিয়ে তোলবাজি করছে। তাহলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কী করতে পারে এঁরা। কাউন্সিলরের শাস্তি পাওয়া উচিত। না হলে এলাকায় শান্তি ফিরবে না।” নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের অন্দরে জ্বলছে ক্ষোভের আগুন। একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগে রীতিমতো অস্বস্তি ঘাসফুল শিবিরে। নতুন সরকারের আমলে এইসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটাই এখন দেখার।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.