সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পাহাড়ে নিয়ে তৃতীয় দফার সর্বদল বৈঠক নবান্নে। বৈঠক ইতিবাচক বলে দাবি করলেও, সোমবার পাহাড় থেকে বাহিনী প্রত্যাহার নিয়ে ফের কেন্দ্রকে একহাত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা না করেই একতরফাভাবে পাহাড়ে থেকে বাহিনী প্রত্যহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। এই সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক। মমতার সাফ কথা, ‘আমরা নিজেদের উৎসর্গ করতে পারি। কিন্তু, দার্জিলিংকে নয়।’ আগামী ২১ নভেম্বর চতুর্থ দফার সর্বদল বৈঠক হবে পিনটেল ভিলেজে।
[পাহাড় থেকে আচমকা তুলে নেওয়া হল কেন্দ্রীয় বাহিনী, ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী]
প্রথমে নবান্ন, তারপর শিলিগুড়ির উত্তরকন্যা। সোমবার ফের পাহাড় নিয়ে সর্বদল বৈঠক হল নবান্নে। মোর্চার আলোচনাপন্থী নেতা ও জিটিএ চেয়ারম্যান বিনয় তামাং, অনীত থাপা তো ছিলেনই। রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দপ্তরে সর্বদল বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন তিন বিধায়ক-সহ পাহাড়ের সবকটি রাজনৈতিকদল দলের প্রতিনিধিরা। ছিলেন না শুধু হরকা বাহাদুর ছেত্রীর জন আন্দোলন পার্টি বা জাপের প্রতিনিধিরা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে পাহাড় সমস্যা নিয়ে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। সব রাজনৈতিক দলই দার্জিলিংয়ে শান্তি ফেরাতে একযোগে কাজ করতে সহমত। কেউ পাহাড়ে অশান্তি চায় না। তিনি বলেন, ‘ দার্জিলিং রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই পাহাড়ের সমস্যা আমাদেরই সমাধান করতে হবে।’ তবে এদিন সর্বদল বৈঠকের পর ফের পাহাড় ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দার্জিলিং অশান্তিতে ইন্ধন দিচ্ছেন বিজেপির নেতা-মন্ত্রী। রাজ্য বিজেপির রিপোর্টের ভিত্তিতে পাহাড় থেকে বাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে খারাপ সিদ্ধান্ত।
[পুড়ে ছাই গুরুং ঘনিষ্ঠদের বাড়ি, নিশানায় মোর্চা সুপ্রিমোর খাসতালুক]
প্রসঙ্গত, পাহাড়ে এখন অস্তিত্ব সংকটে মোর্চা। ইউপিএ ধারায় মামলা রুজু হওয়ার পর, গ্রেপ্তারি এড়াতে পাহাড়ে-জঙ্গলে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুং। মোর্চা সুপ্রিমোর অনুপস্থিতিতে প্রভাব বাড়ছে বিনয় তামাং-অনীত থাপার জুটি। বিনয় তামাং জিটিএয়ের চেয়ারম্যান হওয়ার পর, পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। তবে পলাতক বিমল গুরুংকে ধরতে গিয়ে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে। শুক্রবার ভোরে গুরুংয়ে খোঁজে শিরুবাড়ির জঙ্গলে অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। মোর্চা সমর্থকের গুলিতে মৃত্যু হয় এসআই অমিতাভ মালিকের। পাহাড়ে মোর্চা অস্ত্রভাণ্ডারেও হদিশ মিলেছে। এই প্রেক্ষাপটেই রবিবার আচমকাই পাহাড় থেকে বাহিনী প্রত্যাহারে সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
[পাহাড়ে গ্রেপ্তার গুরুংপন্থী নেতা দীপক তামাং, উদ্ধার বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার]
সর্বশেষ খবর
-
বিধায়কদের ক্লাস করাতে এসে শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ওম বিড়লা! মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় বাম-তৃণমূল
-
বিজ্ঞান জগতেও সমাদৃত শ্যামাপ্রসাদ! নতুন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার নামকরণে ‘ভারত কেশরী’
-
ব্রিজে ওঠার মুখে গাড়ির উপর ভেঙে পড়ল লোহার বার, বন্ধ বাগুইআটি ফ্লাইওভার
-
মিলবে ৫০ শতাংশ এরিয়ার! রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে পেনশনভোগীদের জন্য বিরাট সুখবর
-
‘আকাশ’ থেকে ‘মনোজ’, আত্মসমর্পণের পথে না হেঁটে নতুন নামে আড়াল খুঁজছেন মাওবাদী নেতা