ব্রতীন দাস, শিলিগুড়ি: রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে অভিযুক্ত বিমল গুরুংয়ের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাঁর জন্য ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলে খবর। সূত্রের খবর, গুরুং যাতে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বাইরে আসতে পারেন, সে জন্য মোর্চার তরফে ওই মর্মে আবেদন করা হয়। গুরুংকে ওয়াই ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যাপারে বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রামমাধব ও দার্জিলিংয়ের সাংসদ এস এস আলুওয়ালিয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে মধ্যস্থতা করছেন বলে জানা গিয়েছে। এদিকে ওই সুপারিশের খবর জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য চরমে। ইউএপিএ-তে অভিযুক্ত গুরুংকে কীভাবে এমন নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, প্রশ্ন উঠছে তা নিয়েই। বিষয়টি ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক মহলে পৌঁছেছে। তাঁরা বিষয়টিতে নজর রাখছেন। গুরুংয়ের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আজ, শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি হওয়ার কথা। রাজে্যর আবেদনের ভিত্তিতে ওই শুনানির দিকেই আপাতত তাকিয়ে রয়েছে রাজ্য প্রশাসন।
[গুরুংকে সরিয়ে মোর্চার মসনদে বিনয়, রোশনের জায়গায় অনীত]
তাঁর দিল্লি-যাত্রা ও আইনজীবীর ফি নিয়ে জিটিএ-র প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা মোর্চার নয়া সভাপতি বিনয় তামাং চ্যালেঞ্জ ছুড়তেই আড়াল থেকে পাল্টা তোপ গুরুংয়ের। বৃহস্পতিবার হোয়াটস অ্যাপ বার্তায় বিনয় তামাংকে তৃণমূলের ‘বি-টিম’ বলে কটাক্ষ তাঁর। একইসঙ্গে গুরুংয়ের আক্রমণ, নিজের স্বার্থপূরণের জন্য পাহাড়বাসীর স্বপ্ন বিক্রি করে দিয়েছেন বিনয়রা। কেন্দ্রের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলছে দাবি করে ওই বার্তায় গুরুং জানিয়েছেন, তিনি দ্রুত দিল্লি যাচ্ছেন। পাহাড়বাসীকে তাঁর উপর ভরসা রাখার আর্জি জানিয়ে তাঁর আশ্বাস, গোর্খাল্যান্ডের স্বপ্ন শীঘ্রই পূরণ হবে। আগেই পাহাড়ে রাজনৈতিক জমি হারিয়েছেন গুরুং। মোর্চা থেকেও সপার্ষদ বিতাড়িত হয়েছেন দলের একদা ‘সুপ্রিমো’। পাহাড়বাসীর কাছেও এখন তাঁর কোনও গুরুত্ব নেই। নিজের অস্তিত্ব প্রমাণে মাঝে মধ্যে অডিও বার্তা জারি করলেও তাতে কোনও প্রভাব পড়ছে না শৈলশহরে। ফলে বাধ্য হয়েই গুরুং এবার পাহাড়ের নতুন নেতা বিনয় তামাংকে আক্রমণের রাস্তা বেছে নিচ্ছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।
পিনটেল ভিলেজে রাজ্যের সঙ্গে পাহাড় নিয়ে চতুর্থ দফার বৈঠকের পর গুরুংকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বিনয় তামাং জানিয়ে দেন, ক্ষমতা থাকলে দার্জিলিংয়ে পা রেখে দেখান গুরুং। কেনইবা বাগডোগরা হয়ে না গিয়ে নেপাল হয়ে তিনি দিল্লি যাওয়ার চেষ্টা করছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিনয়। শুধু তাই নয়, টাটা-বিড়লাদের আইনজীবীকে দু’কোটি টাকা ফি দিয়ে গুরুং কীভাবে নিয়োগ করলেন, কোথা থেকে এল সেই টাকা, আয়কর ফাইল থেকে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হোক বলে মন্তব্য করেন মোর্চার নয়া সভাপতি। শৈলশহরবাসী গুরুং-রোশনকে কোনওদিন আর পাহাড়ে পা রাখতে দেবেন না বলেও জানিয়ে দেন তিনি। মুখে অনেককিছু বললেও গুরুং অবশ্য কোনওভাবেই প্রকাশ্যে আসার সাহস দেখাতে পারছেন না। দিল্লি যাবেন বললেও জানাননি কোনও দিনক্ষণ। সেকারণেই এখন বিজেপির তরফে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে গুরুংয়ের ওয়াই ক্যাটাগরির নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে তাঁকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসার। কেন্দ্রের নিরাপত্তা পেলে গুরুং দিল্লিও যেতে পারবেন।
সর্বশেষ খবর
-
ই-রিকশা হ্যাকে ৩ বছরের জেল, ৫ লক্ষ জরিমানা! চিনা অ্যাপের কারসাজি রুখতে কড়া কেন্দ্র
-
‘ভালোবাসা কখনও…’, আমিরকে বিয়ের শুভেচ্ছা জানিয়ে সলমনের জন্য মন কেমন ‘প্রাক্তন’ সোমির!
-
চার্জে বসানো পাওয়ার ব্যাঙ্ক ফেটে পুড়ল ইউটিউবারের ঘর, জেনে নিন কীভাবে সাবধান হবেন
-
সিনেমা ও ওটিটি’র কনটেন্ট চুরি! কেন্দ্রের রোষে টেলিগ্রাম, ১৫ দিনের মধ্যে জবাব তলব
-
প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোৎস্না মাণ্ডির কার্যালয়ে তরোয়াল! উদ্ধার লাঠির বান্ডিল, কাঁড়ি কাঁড়ি ত্রিপল