ধীমান রায়, কাটোয়া: বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে গিয়ে শনিবার ধুন্ধুমার কাণ্ড কাটোয়ায়। পুরকর্মীদের কাছে কিছুদিন সময় চেয়েছিলেন গৃহকর্তা। কিন্তু তাতেও পুরসভার কর্মীরা বাড়ি ভাঙতে শুরু করলে দোতলার ছাদ থেকে ঝাঁপ দিলেন গৃহকর্তা। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শনিবার বিকেল নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার জেরে ক্ষিপ্ত জনতা তুমুল বিক্ষোভ দেখায় পুরকর্মীদের ঘিরে। উত্তেজিত জনতা এক কাউন্সিলর ও এক পুরকর্মীর দুটি বাইকে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়। কয়েকজন পুরকর্মীকে মারধর করেন স্থানীয়রা। শেষে তাঁরা পালিয়ে প্রাণ বাঁচান। সমগ্র ঘটনায় কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। শেষে বিশাল পুলিশবাহিনী এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়ার পানুহাট পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা গণেশচন্দ্র দত্ত (৬৫) নামে এক ব্যবসায়ীর বাড়ি ভাঙতে গিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। গণেশবাবু মুদিখানা ও স্টেশনারি ব্যবসা করেন। কাটোয়ার ১২ নম্বর ওয়ার্ডে নন্দলাল বসু রোডে তার দোকান। ওই দোকানের সামনাসামনি ঘোষহাট মৌজায় ৩৬৮ ও ৩৭০ নম্বর দাগে একটি জায়গায় গণেশবাবুরা নতুন একটি বাড়ি নির্মাণ করছেন। একতলার পর দোতলায় কাজও সম্পূর্ন হয়ে গিয়েছে। নির্মিত ওই বাড়িটির দোতলায় বেশ কিছুটা বাড়িয়ে বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল বলে পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কাটোয়া পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছিল। পুরসভা থেকে খতিয়ে দেখার পর বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয় নির্মাণ ভেঙে দেওয়া হবে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে শনিবার সকাল সাড়ে নটা নাগাদ পুরকর্মীরা পুলিশবাহিনী সঙ্গে নিয়ে নির্মাণ ভাঙতে যায়। জানা গিয়েছে, ওই বাড়ির পূর্ব দিকে প্রায় ৭ বর্গমিটার ও দক্ষিণ দিকে দেড় বর্গমিটার অংশ ভাঙা শুরু হয়। তখন গণেশবাবু পুরকর্মীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কাজ বন্ধ না হলে গৃহকর্তা গণেশবাবু আচমকা দোতলার ছাদ থেকে ঝাঁপ দেন। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকেন বেশ কিছুক্ষণ।

বাড়ি ভাঙার শুরুর সময় থেকেই স্থানীয় বেশকিছু লোকজন জড়ো হয়েছিলেন। গণেশবাবু ঝাঁপ দেওয়ার পরেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা। তাঁরা ঘেরাও করে মারধর শুরু করেন পুরকর্মীদের। শুরু হয় ইঁটবৃষ্টি। ওই সময় নির্মাণ ভাঙার কাজের তদারকির জন্য ছিলেন ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ভাস্কর মণ্ডল। ক্ষিপ্ত জনতা তাঁকেও তাড়া করে। ভাস্করবাবু ও পুরকর্মী অভয় মণ্ডলের বাইকদুটিতে আগুন ধরিয়ে দেন উত্তেজিত জনতা। আহত হন পুরকর্মীদের তিনজন ও পুরসভার গাড়িচালক। স্থানীয়রাই বাড়িমালিক গণেশবাবুকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার ছেলে পুর্ণেন্দু দত্ত বলেন, ‘শুক্রবার আমাদের কাছে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তারপর শনিবার ভাঙতে আসে। আমরা ৭ দিন সময় চেয়েছিলাম। সময় দেওয়া হয়নি। পুর্ণেন্দুবাবুর অভিযোগ কাটোয়া শহরে বহু বেআইনি নির্মান থাকলেও পুরসভা সেগুলি ভাঙার উদ্যোগ নিচ্ছে না। অথচ বিরোধী দল করার জন্যই তাঁদের বাড়ি ভাঙতে আসা হয়েছে বলে অভিযোগ পুর্ণেন্দু দত্তর। যদিও এই অভিযোগ মানতে চাননি পুরসভার চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যান জানিয়েছেন পুরকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ছবি- জয়ন্ত দাস
সর্বশেষ খবর
-
কলকাতা, হাওড়ায় পুরভোট নভেম্বরের শেষেই! ৬০টি ওয়ার্ডে ভাগ হবে হাওড়া
-
১৬০ কোটির সন্দেহজনক লেনদেন, তৃণমূলের টাকাতেই বিমান-হেলিকপ্টার কেনে সংস্থা! প্রকাশ্যে বিস্ফোরক তথ্য
-
দাঙ্গায় মদত, অপপ্রচার! বারুইপুর কাণ্ডে সুজন-সহ ৪ সিপিএম নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
-
ফের জ্বলছে হরমুজ! ২৪ ঘণ্টায় তৃতীয় জাহাজে হামলা, বিশ বাঁও জলে শান্তিচুক্তি
-
গুরুতর অসুস্থ রাজেশ শর্মা! ভর্তি হাসপাতালে, কী হয়েছে অভিনেতার?