BREAKING NEWS

৭ আশ্বিন  ১৪২৭  বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

অধিগ্রহণ ছিল ঐতিহাসিক আত্মহত্যা, আজ গণদেবতার জয়: মমতা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 31, 2016 4:39 pm|    Updated: August 31, 2016 4:39 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: একটা আন্দোলনের পথ পৌঁছে গিয়েছিল প্রশাসনে৷ আজ সেখান থেকেই পথ গিয়ে যেন মিশল আন্দোলনের সাফল্যে৷ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ যেন এক বৃত্তপূরণ৷ যে সিঙ্গুর আন্দোলন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পৌঁছে দিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে, সেই কুর্সি থেকেই আজ সিঙ্গুরবাসীকে স্যালুট জানালেন তৃপ্ত মমতা৷

২০০৬ সালে সিঙ্গুরে প্রায় হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল বাম সরকার৷ টাটাদের সুবিধা পাইয়ে দিতে কৃষকদের উপর সিপিএম ও পুলিশ যৌথ হামলা চালিয়েছে বলেই খবর যায় তদানন্তীন বিরোধী দলের প্রধান নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে৷ সেই ২০০৬ এর ডিসেম্বরেই পথ খুলে যায় এক রাজনৈতিক সংগ্রামের৷ জমি আন্দোলনের সেই ভিত্তি ধরেই বঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের শুরু৷ বেআইনি জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে টানা ২৬ দিন অনশন করেছিলেন মমতা৷ যার জেরে ফিরতে হয় টাটাদের৷ মাটির সেই আন্দোলনই মানুষের সমর্থন আদায় করে নিয়ে মমতাকে মুখ্যমন্ত্রী করে তোলে৷ সরকারে এসেই তাই সিঙ্গুর আইন করে জমি ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন অনিচ্ছুক কৃষকদের, কিন্তু আইনি জটিলতায় তা পেরে ওঠেননি৷ আজ যখন সুপ্রিম কোর্ট সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণকে অবৈধ বলে ঘোষণা করল, তখন শুধু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নয়, তাঁর তৃপ্ত মুখ মনে করিয়ে দিল সেদিনের জননেত্রীকেও৷ তিনি হেসে তাই বলছেনও, যে কোনও আন্দোলনের সফলতাই তো তৃপ্তির৷

যে সিঙ্গুর আন্দোলন এখন দেশের জমি অধিগ্রহণ নীতিও রীতিমতো বদলে দিতে পারে, সেই আন্দোলনের সাফল্য সিঙ্গুরের মানুষকেই উৎসর্গ করলেন মমতা৷ “এই জয় সত্যের, গণদেবতার, অনশনের, আন্দোলনের- এক কথায় যা প্রকাশ করা যায় না৷ আমি স্যালুট জানাই সিঙ্গুরের সেই সব মানুষদের, যারা এত কষ্ট সহ্য করেও আন্দোলনের পথ থেকে সরে যায়নি,” জানালেন মমতা৷ সেইসঙ্গে এদিন তিনি স্মরণ করলেন তাপসী মালিক-সহ সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম-নেতাই আন্দোলনের সকল শহিদকেও৷ মনে করলেন তাঁর আন্দোলনের সহযাত্রীদের৷ সদ্যপ্রয়াতা মহাশ্বেতা দেবীকে স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, “হাজার চুরাশির মা থাকলে আজ সবথেকে খুশি হতেন৷”

বাম আমলের এই অধিগ্রহণকে ঐতিহাসিক আত্মহত্যা বলেও আখ্যা দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ জানান, “দশ বছর ধরে এই রায়ের জন্য অপেক্ষা করেছি৷ কখনও হাই কোর্টে, কখনও সুপ্রিম কোর্টে৷ আজ এল ঐতিহাসিক রায়৷ মানুষের যে রায় ছিল আজ তাতেই সিলমোহর দিল সুপ্রিম কোর্ট৷” আর এই রায় যে সিঙ্গুরে উৎসবের আবহ বয়ে এনেছে তা জেনেই ১৪ সেপ্টেম্বর বিজয় সমাবেশের ডাক দিলেন তিনি৷  এ ঘোষণা যখন তিনি নবান্নে বসে করছেন, তখন সিঙ্গুরে প্রায় ছেয়ে গিয়েছে সবুজ আবিরে৷ শঙ্খধ্বনি ও মমতার নামে জয়ধ্বনিতে নতুন এক অধ্যায়ের যেন সূচনা হয়েছে সিঙ্গুরে৷ আর সেই আনন্দে চোখের জল সামলাতে পারছেন না অপামর সিঙ্গুরবাসী৷ এ কান্না আনন্দের৷ তার প্রতিধ্বনি শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীর গলাতেও৷ তিনি কতখানি খুশি? মমতার জবাব,  “যে আনন্দে চোখে জল আসে, আমি আজ সেরকমই খুশি৷” আর তাই ২ সেপ্টেম্বর রাজ্যের প্রতি ব্লকে ব্লকে ‘সিঙ্গুর উৎসব’  পালন করে সেই খুশি ভাগ করে নিতে চান তিনি৷ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপন করা হবে এই দিনটিকে৷ পশ্চিমবাংলার নাম বাংলা হবে বলে বিধানসভায় সদ্য প্রস্তাব পাশ হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “বাংলা মায়ের আঁচলে প্রথম যে সম্পদ এল তা এই ঐতিহাসিক রায়৷” এই রায়ের খবরে তিনি এদিন বলেন, ”এবার আমি শান্তিতে মরতেও পারি৷”

১২ সপ্তাহের মধ্যে সিঙ্গুরে অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত৷ আগামীকাল বিকেলে নবান্নে এক বৈঠকে সে সম্পর্কে কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হবে৷ প্রথম দফায় তাঁর একটিই কাজ বাকি ছিল, মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, তা হল সিঙ্গুরে জমি ফিরিয়ে দেওয়া৷ দ্বিতীয় দফায় তা যে পূরণ হয়েছে তাতেই আক্ষরিক অর্থেই তৃপ্ত মুখ্যমন্ত্রী৷ তৃপ্ত সেদিনের জননেত্রীও৷ মাটি নিয়ে যে আন্দোলন বাংলার ঐতিহ্য, যে গণআন্দোলনের স্পিরিট বাংলার শিরা-উপশিরায় মিশে আছে, সেই পরম্পরা মেনেই সিঙ্গুর আন্দোলন আজ সারা দেশের সামনে উদাহরণ হয়ে থাকল৷ আর সেই সঙ্গে থেকে গেল জননেত্রী মমতার নামও৷ প্রশাসনিক দলিল দস্তাবেজ নিয়ম মেনেই মুখ্যমন্ত্রী মমতার সাফল্যের খতিয়ান নথিবদ্ধ করে রাখবে৷ তবে মমতার সবথেকে বড় সাফল্য এই যে, বাংলার রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাস, তথা সারা দেশের জমি আন্দোলনের ইতিহাস তাঁকে বাদ দিয়ে আর তৈরি হওয়া সম্ভব নয়৷ সুপ্রিম রায় আজ যেন সে সত্যেই সিলমোহর দিয়ে গেল৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement