৮ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২৬  বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০১৯ 

Menu Logo নির্বাচন ‘১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

পলাশ পাত্র, তেহট্ট: পারিবারিক বিবাদ নাকি কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ কিংবা কোনও ষড়যন্ত্র, নোডাল অফিসার নিখোঁজের ঘটনায় একাধিক প্রশ্নচিহ্নের ভিড়৷ নদিয়া জেলা প্রশাসন ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে৷ তবে নিখোঁজ ডায়েরি করার পর থেকেও কেটে গিয়েছে প্রায় সপ্তাহখানেক৷ এখনও উধাও অর্ণব রায়৷ পুলিশের ভূমিকায় পরোক্ষে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাঁর স্ত্রী অনিশা যশ৷ এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি৷ 

 [ আরও পড়ুন: রেললাইনে আটকে গেল হুডখোলা জিপ, দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলেন মিমি]

১৮ এপ্রিল বাড়ি থেকে শেষবার বেড়িয়েছিলেন অর্ণব রায়৷ স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথাও হয়েছিল সেদিনই৷ তখনও বুঝতে পারেননি স্বামীর মনের কথা৷ ভাবতে পারেননি বাড়ি ফিরে আসবেন না তিনি৷ ওইদিন দুপুরের পর থেকে উধাও নোডাল অফিসার৷ নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে৷ তাতেও সুরাহা হয়নি৷ তদন্ত এগোচ্ছে বলেই দাবি জেলা প্রশাসনের৷ তবে আধিকারিকের স্ত্রী অনিশা সন্তুষ্ট নন৷ পুলিশের তরফে তাঁকে সঠিকভাবে সাহায্য করা হচ্ছে না বলেই পরোক্ষে অভিযোগ তাঁর৷ ইভিএম এবং ভিভিপ্যাটের দায়িত্বে থাকা আধিকারিক নিখোঁজের নেপথ্য রহস্যটা ঠিক কী? অনিশার বক্তব্য, ‘‘অর্ণব কোনও জামাকাপড়, ভোটার কার্ড, এটিএম কার্ড নিয়ে যায়নি৷ হোটেলে থাকতে গেলেও ভোটার কার্ড লাগবে৷ সেটাও নিয়ে যায়নি৷ নিশ্চয়ই ষড়যন্ত্র রয়েছে৷’’ শোনা যাচ্ছে শেষবার  অফিস থেকে বেরোনোর সময় তাঁর অধস্তন কর্মীকে বেশ কয়েকটি চাবি দিয়ে গিয়েছিলেন অর্ণব৷ এই বিষয়টি নিয়েও রহস্যের ভিড়৷ কর্মক্ষেত্রে কোনও চাপ তৈরি করা হয়েছিল কিনা, সেই প্রশ্নও তুলেছেন অনিশা৷  

[ আরও পড়ুন: ‘মমতাকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই’, আসানসোলে মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে সওয়াল যশবন্ত সিনহার]

বছর দশেক আগে ঠিক একইভাবে দিনকয়েকের জন্য নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন নোডাল অফিসার৷ তখন অবশ্য তিনি সবে সবে চাকরি জীবনে পা রেখেছেন৷ বীরভূমের জয়েন্ট বিডিও ছিলেন সেই সময়৷ উধাও রহস্যে চাঙ্গা সেই স্মৃতি৷ অনেকেই বলছেন, সেভাবেই কোথায় চলে গিয়েছেন অর্ণব৷ কিন্তু নোডাল অফিসারের স্ত্রী ‘কোথাও চলে যাওয়ার’ তত্ত্ব খারিজ করে দিয়েছেন৷ তিনি বলেন,‘‘কল্পতরু উৎসব দেখার ইচ্ছা হয়েছিল অর্ণবের৷ অথচ কিছুতেই ছুটি পাচ্ছিলেন না৷ তাই বাধ্য হয়েই কাউকে কিছু না জানিয়ে সেই সময় বীরভূম থেকে দক্ষিণেশ্বরে চলে এসেছিলেন৷ বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আবারও যোগ দিয়েছিলেন কাজে৷’’ কিন্তু এই ঘটনার সঙ্গে উধাও রহস্যের কোনও সম্পর্ক নেই বলেই দাবি অনিশার৷

[ আরও পড়ুন: অশান্তির আশঙ্কায় আত্মহত্যা! বাড়ি থেকে উদ্ধার ভোটকর্মীর ঝুলন্ত দেহ]

নোডাল অফিসারের নিখোঁজ রহস্যের নেপথ্যে পারিবারিক অশান্তিকে দায়ী করেছেন অনেকেই৷ কেউ কেউ সন্দেহ করছেন স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কে হয়তো ফাটল ধরেছিল তাঁর৷ তাই কাউকে কিছু না জানিয়েই উধাও হয়ে গিয়েছেন৷ কিন্তু এই তত্ত্বকে নেহাত গুজব বলেই দাবি করছেন অনিশা৷ কোনও প্রয়োজনে ফোন সুইচড অফ করলেও অর্ণব স্ত্রীকে জানাতেন৷ তাই দিনের পর দিন দু’টি নম্বর সুইচড অফ রাখার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে বলেই দাবি অনিশার৷ কেন নোডাল অফিসার নিখোঁজ হয়ে গেলেন, তা অজানা তাঁর স্ত্রীর৷ ভেজা চোখে তাঁর কাতর আরজি যেভাবেই হোক অর্ণবকে বাড়িতে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হোক৷ স্বামীর নিখোঁজ রহস্য উদঘাটনে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি৷

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং