Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৯ আগস্ট ২০২৬
Jhargram

অবিরাম বৃষ্টিতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল দোতলা বাড়ি, ঝাড়গ্রামে মর্মান্তিক পরিণতি কলেজ পড়ুয়ার

পরিবারের আত্মীয় শিবশঙ্কর দাস সংবাদমাধ্যমে জানান, টানা বৃষ্টির জেরে মাটির দেওয়াল দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং সেটিই ভেঙে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

সুনীপা চক্রবর্তী
সুনীপা চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: মে ২, ২০২৬, ১৭:১৯

link
সুনীপা চক্রবর্তী
সুনীপা চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: মে ২, ২০২৬, ১৭:১৯

options
link
অবিরাম বৃষ্টিতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল দোতলা বাড়ি, ঝাড়গ্রামে মর্মান্তিক পরিণতি কলেজ পড়ুয়ার zoom
দেওয়াল ভেঙে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু কলেজ পড়ুয়ার।
Advertisement

অবিরাম বৃষ্টিতে দুর্বল হয়ে পড়া দোতলা মাটির বাড়ির দেওয়াল ভেঙে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এক কলেজ পড়ুয়ার। আহত অবস্থায় পরিবারের আরও তিন সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শুক্রবার গভীর রাতে ঝাড়গ্রামের বিনপুর-২ ব্লকের শিলদা গ্রাম পঞ্চায়েতের শুকজোড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম পিঙ্কি দাস (১৯)। তিনি শিলদা চন্দ্রশেখর কলেজের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তাঁর বাবা মৃণালকান্তি দাস, দাদা সুজিত দাস এবং ঠাকুমা শোভা দাস। তাঁদের ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Advertisement

মৃতার নাম পিঙ্কি দাস (১৯)। তিনি শিলদা চন্দ্রশেখর কলেজের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তাঁর বাবা মৃণালকান্তি দাস, দাদা সুজিত দাস এবং ঠাকুমা শোভা দাস। তাঁদের ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টিনের ছাউনি দেওয়া দোতলা মাটির বাড়িতে পাঁচজনের পরিবারটি বসবাস করত। পিঙ্কির দাদা সুজিত, যিনি অন্ধ্রপ্রদেশে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন, কয়েক মাস আগে বাড়ি ফিরে পাকা বাড়ি তৈরির উদ্যোগ নেন। প্রায় ১৫ দিন আগে নতুন বাড়ির কাজ শুরু হয়। সেই জন্য মাটি খুঁড়ে লোহার কাঠামো বসানো হয়েছিল। টানা বৃষ্টিতে বাড়ির একটি অংশ দুর্বল হয়ে পড়ে বলে অনুমান।

শুক্রবার রাতে বাড়ির নিচতলার একটি ঘরে খাটের ওপর ঘুমিয়ে ছিলেন পিঙ্কি, তাঁর দাদা ও ঠাকুমা। পাশের ঘরে ছিলেন তাঁর মা ও বাবা। গভীর রাতে আচমকা একটি দেওয়াল ভেঙে পড়ে তাঁদের ওপর। দেওয়ালের অংশ পাশের ঘরেও ছিটকে পড়ায় পিঙ্কির বাবাও আহত হন।
দেওয়াল ভাঙার বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় গ্রামবাসীদের। পিঙ্কির মা মামনি দাস চিৎকার করে সাহায্য চাইলে স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। আহতদের দ্রুত বেলপাহাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা পিঙ্কিকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে অন্য আহতদের ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। 

পরিবারের আত্মীয় শিবশঙ্কর দাস সংবাদমাধ্যমে জানান, টানা বৃষ্টির জেরে মাটির দেওয়াল দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং সেটিই ভেঙে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা মহাদেব দাস বলেন, রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়।
ঘটনার পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। মেয়ের মৃত্যুর শোকে ভেঙে পড়েছেন মা মামনি দাস।

শনিবার আহতদের দেখতে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজে যান ঝাড়গ্রাম বিধানসভার নির্দল প্রার্থী অশোক মাহাতো। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানান। অন্যদিকে, বিনপুর-২ ব্লক প্রশাসনের বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। জেলা শাসক আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর সংবাদমাধ্যমে জানান, ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক কারণে দেওয়াল ভেঙে পড়ার প্রমাণ মিললে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এদিকে এদিন শনিবারও বিকেল থেকে তুমু্ল ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.