মণিরুল ইসলাম, উলুবেড়িয়া: সন্দেশখালির ১৩ জনের প্রতিনিধি দল প্রচারে আসায় ধুন্ধুমার উলুবেড়িয়ায়। গোলমালের আশঙ্কায় বাড়ির মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁদের সোমবার রাতে উদ্ধার করে নিয়ে আসে উলুবেড়িয়া থানা। মঙ্গলবার মুক্তি দেয়। এদিকে তাদের প্রতিনিধি দলের সদস্যদের অন্যায়ভাবে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে বিজেপি নেতানেত্রীরা বিক্ষোভ দেখায় উলুবেড়িয়া থানায়। কয়েক ঘন্টা ধরে চলে এই বিক্ষোভ। পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের ধস্তাধস্তিও হয়। যদিও তার আগেই পুলিশ ওই প্রতিনিধি দলকে ছেড়ে দেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে সন্দেশখালি থেকে মোট ১৩ জন উলুবেড়িয়ায় আসেন। তাঁদের মধ্যে ১১ জন মহিলা। এলাকার একটি বিয়েবাড়ির হলে রাতে থাকার ব্যবস্থা করে বিজেপি। কথা ছিল, বিজেপি মহিলা মোর্চার সঙ্গে তাঁরা বৈঠক করবেন এবং প্রচার করবেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়াতে পারে এই আশঙ্কায় বাড়ির মালিক বিজেপির লোকেদের জানান ওই প্রতিনিধি দলকে তাঁর বাড়ি থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক। তিনি লিখিতভাবে উলুবেড়িয়া থানায় বিষয়টি জানান। তখনই পুলিশ প্রতিনিধিদের উদ্ধার করে উলুবেড়িয়া থানায় নিয়ে যায়। পরে দুই আইনজীবীর ব্যক্তিগত দায়িত্বে পুলিশ তাঁদের ছেড়েও দেয়। সূত্রের খবর, লঞ্চে করে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। এদিকে এর পরেই বিজেপি নেতাকর্মীরা উলুবেড়িয়া থানায় এসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। ধুন্ধুমার বেঁধে যায়। বিজেপি নেতাকর্মীরা প্রশ্ন করে, সন্দেশখালির ১৩ জনকে কেন রাতে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল? বিজেপি নেতৃত্বকে না জানিয়ে কেনইবা তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হল?
[আরও পড়ুন: মেট্রোয় UPI দিয়ে কাটা যাবে টিকিট! কী বলছে কর্তৃপক্ষ?]
এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা রমেশ সাধুখাঁ বলেন, “পুলিশ সন্দেশখালি নির্যাতিতাদের নিয়ে উলুবেড়িয়া প্রচারে বাধা দিতেই ওই প্রতিনিধি দলকে তুলে নিয়ে আসে। পুলিশ বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে ওই মহিলাদের ছেড়ে দিয়েছে।” তাঁরা দাবি করতে থাকে, পুলিশ তাঁদের আবার উলুবেড়িয়ায় নিয়ে আসুক। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির মহিলা সভা নেত্রী ফাল্গুনী পাত্র, বিজেপি নেতা উমেশ রাই, অনুপম মল্লিক, বিজেপি নেতা চিরন বেরা, দ্বিজেন অধিকারী, উত্তম দত্ত প্রমুখ।
যদিও পুলিশের দাবি, তাঁরা বাড়ির মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতেই সন্দেশখালির ওই বিজেপি মহিলা ও পুরুষদের উদ্ধার করে এনেছে। পুলিশ বিজেপি নেতানেত্রীদের বারবার জানিয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, তাঁরা যা করেছে আইনমাফিকই করা হয়েছে। পুলিশ তাঁদের নিরাপদভাবে গাড়িতে তুলে দেয়। এদিন গাড়িতে ওঠার সময় এক মহিলা জানান,”আমরা সন্দেশখালি থেকে এখানে এসেছিলাম বিজেপির হয়ে প্রচার করতে। পুলিশ কৌশলে সেটা করতে দিল না।” এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী পুলক রায় বলেন,”মানুষ জেনে গিয়েছে সন্দেশখালির ঘটনা মিথ্যা। তা নিয়ে অশান্তি পাকানোর লক্ষ্যে বিজেপি সেখানকার লোকদের উলুবেড়িয়ায় এনেছিল। যদিও এলাকার মানুষের সচেতনতার কারণে অশান্তি হয়নি। বিজেপির মনে রাখা উচিৎ বাংলার মানুষকে ভরসা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
[আরও পড়ুন: হতাশায় ঝুঁকে কাঁধ, কাঁদছেন রোহিত! কী এমন হল? ভিডিও ভাইরাল]
সর্বশেষ খবর
-
অবশেষে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইর সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প! কথা হবে চুক্তি নিয়ে, এবার যুদ্ধ থামবে?
-
ভারতকে চাপ দিলে বিশ্বজুড়ে অশান্তি! মার্কিন শুল্কবাণের মধ্যেই মোদির ‘ঢাল’ পুতিন
-
আচমকা ‘প্রসন্ন’ শরিকরা, বাড়তি দুই রাজ্যসভা আসন প্রাপ্তি কংগ্রেসের! প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপিও
-
লোকসভাতেও ‘আসল তৃণমূল’, দলনেতা হচ্ছেন কাকলি! জল্পনার মাঝে বিস্ফোরক পোস্ট সাংসদের
-
‘সিএবি কর্তা হয়েও সংস্থার গঠনতন্ত্র জানেন না’, কোষাধ্যক্ষকে পাল্টা প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়ার