BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

শরিকি চাপে কংগ্রেসের মিছিলে ‘না’ সিপিএমের

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 24, 2016 4:37 pm|    Updated: June 24, 2016 5:23 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে বাম-কংগ্রেসের জোটের অস্তিত্ব আছে না নেই, তা এখন লাখ টাকার প্রশ্ন৷ শুক্রবার বামেদের পরিষদীয় দলের সিদ্ধান্তে সেটা আরও একবার উসকে উঠল৷ কংগ্রেসের ডাকা মিছিলে বামেরা যে যোগ দিচ্ছে না এদিন জানিয়ে দেওয়া হল৷ ফলত নেতাদের কথায় জোট থাকল, খাতায় কলমে অটুট থাকল বিরোধী ঐক্যও, কিন্তু কার্যত মুখ দেখাদেখি থাকল না দুই ঘরের৷

রাজ্যের বাম-কং জোট যে দ্রুততায় তৈরি হয়েছিল, ততধিক দ্রুততায় তা অস্তিত্বের সংকটে পড়ে৷ বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর সিপিএমের পলিটব্যুরোয় জানিয়ে দেওয়া হয়, এই জোট কেন্দ্রীয় কমিটির সমর্থিত নয়৷ পরবর্তী কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে আরও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়৷ রাজ্যের এই জোট পার্টি লাইন বিরুদ্ধ৷ কিন্তু এই জোট না হলে পশ্চিমবঙ্গে সিপিএমের অস্তিত্ব যে প্রায় ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যেতো তাও বিলক্ষণ জানেন কেন্দ্রীয় কমিটিক নেতারা৷ তাই খানিকটা ধরি মাছ না ছুঁই পানির মতো করেই বৃহত্তর বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলারও প্রস্তাব দেন তাঁরা৷ অর্থাৎ সেখানে কংগ্রেস থাকলে কোনও আপত্তি নেই৷ আসলে অন্যান্য রাজ্যে বামেদের ঘর বাঁচাতে এ ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না কেন্দ্রীয় কমিটির হাতে৷ এদিকে কমিটির এই সিদ্ধান্তকে ছুঁচো গেলার মতো মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না৷ সুতরাং সাময়িক পদক্ষেপ হিসেবেই কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতেই হতো সিপিএমকে৷ সেইমতোই এদিন সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী৷

ইতিমধ্যে কংগ্রেসের মিছিলে অধীর চৌধুরীর আমন্ত্রণে সাড়াও দিয়েছিলেন জোটের অন্যতম কাণ্ডারী সূর্যকান্ত মিশ্র৷ আলিমুদ্দিনের বৈঠকে তা নিয়ে একরকম সবুজ সংকেতই মিলেছিল৷ কিন্তু বামেদের শরিক দলকে গোড়া থেকেই পাত্তা দেয়নি কংগ্রেস৷ ফলে অন্যান্য শরিক দলের বিধায়কদের নিয়ে কংগ্রেসের মিছিলে যোগ দেওয়ার সিপিএমের পরিকল্পনা মাঠে মারা গেল৷ ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপির মতো শরিক দলগুলি এদিন মিছিলে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনড় অবস্থানে থাকেন৷ শরিকি ঐক্য ধরে রাখতেই সামগ্রিকভাবে কংগ্রেসের মিছিলে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল সিপিএম৷ ১১ জুলাই বামফ্রন্টের মিছিলেও যে কংগ্রেসকে ডাকা হবে না, তাও জানিয়ে দেওয়া হল আজই৷

এই সিদ্ধান্তে জোটের ভবিষ্যত নিয়ে যে অনেকখানি ধোঁয়াশা তৈরি হল তা বলাই বাহুল্য৷ যে দুটি দল বিরোধিতার স্বার্থে এক হওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়েছিল, তারা এখন একই প্রশ্নে একমত হতে পারছে না৷ একই বিরোধিতায় দুটো আলাদা মিছিলের সাক্ষী থাকতে হবে রাজ্যবাসীকে৷ সেক্ষেত্রে এই জোট থাকার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন উঠল৷ যখন বিরোধিতার সামগ্রিকতায় ঐক্যে আসার সম্ভাবনা থাকছেই না, তখন জোট যে কার্যত বায়বীয় অবস্থায় চলে গেল এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ এই সিদ্ধান্তের পরবর্তী পর্যায়ে এই জোটের প্রতি জনগণের যেটুকু আস্থা ছিল, তাও আর আদৌ থাকবে কি না সে জল্পনাও দানা বাঁধছে৷

 

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement