৪ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

জাতীয় দলের মর্যাদা হারাবে সিপিএম: মুকুল রায়

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 24, 2016 8:58 am|    Updated: June 24, 2016 8:58 am

An Images

স্টাফ রিপোর্টার: ভোটে ভরাডুবির পর এবার সিপিএমের জাতীয় দলের মর্যাদা হারানো শুধুই সময়ের অপেক্ষা৷ একই সঙ্গে সিপিএমের হাত ধরে জোটের গেরোয় পড়ে আঞ্চলিক দল হিসাবেও খাতায় কলমে অস্তিত্ব বিপন্ন হতে চলেছে বাম শরিক দলের৷ বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে এমনই দাবি করলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মুকুল রায়৷ রীতিমতো তথ্য-পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি বলেন, “দেশের রাজনীতিতে সিপিএম তথা বামেরা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গিয়েছে৷ গণতন্ত্রে শেষ কথা বলে মানুষই৷ এখন সিপিএমের জাতীয় পার্টির তকমা হারানো শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি জারির অপেক্ষা৷ কারণ কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী কোনও মাপকাঠিতেই তারা আর জাতীয় দলের মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য নয়৷”
মানুষের বিধানে রাজ্য রাজনীতিতে সিপিএম এখন তিন নম্বরে৷ নির্বাচন কমিশনের চলতি নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় দলের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে গেলে যে কোনও রাজনৈতিক দলকেই অন্তত তিনটি রাজ্য থেকে সাকুল্যে ১১টি লোকসভা আসনে জিততেই হবে৷ অথবা অন্তত চারটি লোকসভা আসনে জেতার পাশাপাশি চারটি রাজ্য থেকে ৬ শতাংশ ভোট পেতেই হবে৷ এছাড়াও চারটি বা তারও বেশি রাজ্যে আঞ্চলিক দল হিসাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারলেও জাতীয় দলের মর্যাদার দাবিদার হওয়া যায়৷ কিন্তু ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে প্রায় কোনও ক্ষেত্রেই সিপিএম আর জাতীয় দলের মর্যাদার দাবিদার নয়৷ কারণ ২০১৪-র লোকসভা ভোটে সারা দেশ থেকে মাত্র ৯টি আসন পেয়েছে সিপিএম৷ তাদের মোট ভোট শতাংশের হার মাত্র ৩.২৫ শতাংশ৷ অর্থাত্‍ জাতীয় দলের তকমা ধরে রাখার জন্য ন্যূনতম ৬ শতাংশের থেকে ২.৭৫ শতাংশ কম৷
এ দিকে এতদিন কেরল, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তামিলনাড়ুতেও আঞ্চলিক দল হিসাবে স্বীকৃত ছিল সিপিএম৷ জয়ললিতার রাজ্যে মোট ১১ জন বিধায়ক ছিল তাদের৷ কিন্তু সাম্প্রতিক নির্বাচনে একটি আসনও জিততে পারেনি তারা৷ ফলে খাতায় কলমে সিপিএম এখন কেরল, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে মাত্র তিনটি রাজ্যেই সীমাবদ্ধ৷ ফলে কোনও নিয়মের ফাঁক গলেই সিপিএম আর জাতীয় দলের মর্যাদা ধরে রাখতে পারছে না৷ যদিও মুকুলবাবুর অভিযোগ, “অতীতে যখনই ভোটের ফল খারাপের ফলে সিপিএমের জাতীয় দল তকমা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের রক্ষা করার জন্য কোনও না কোনও উপায় বার করেছে নির্বাচন কমিশন৷” ২০১৪-এ বিহার নির্বাচনে সিপিএমের অস্তিত্ব মুছে যাওয়ার পর কমিশন তড়িঘড়ি নিয়মে সংশোধনী এনেছে৷ মুকুলবাবু বলেন, সেই নিয়ম বলেই ২০১৪-র লোকসভা ভোটে খারাপ ফল সত্ত্বেও এতদিন সিপিএম জাতীয় দলের তকমা টিকিয়ে রেখেছিল৷
যদিও সূত্রের খবর, এখনও আবার নিয়মে নতুন সংশোধনী আনার ভাবনাচিন্তা চলছে৷ পাঁচ বছর অন্তর রাজনৈতিক দলগুলির জাতীয় দলের মর্যাদার ‘স্টেটাস’ খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়ার বদলে এবার দশ বছর করা হতে পারে৷ অর্থাত্‍ পর পর দু’টি লোকসভা নির্বাচনে ধারাবাহিক খারাপ ফল করলে তবেই জাতীয় দলের তকমা বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে কমিশন৷ যদিও এ হেন নিয়ম বদলের খবরের এখনই কোনও সরকারি বৈধতা নেই৷ তবে এই সিদ্ধান্ত যদি কার্যকর হয় তবে আপাতত ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত মুখরক্ষা হতে পারে সিপিএমের৷ কারণ ২০১৪-র লোকসভা ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই সিপিআই, এনসিপি, বিএসপি-র জাতীয় দলের তকমা থাকা উচিত নয়৷ কিন্তু কমিশন এ বিষয়ে নোটিস দিলেও এখনও কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি৷
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটে এবার ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রাপ্ত ভোট শতাংশ মাত্র ২.০৮৷ আরএসপি-র ১.৭ শতাংশ এবং সিপিআই-এর ১.৫ শতাংশ৷ ২টি আসনে জেতার কারণে হয়তো আঞ্চলিক দলের মর্যাদা বাঁচিয়ে নিতে পারবে ফরওয়ার্ড ব্লক৷ কিন্তু রীতিমতো সঙ্কটের মুখে আরএসপি এবং সিপিআই৷ দু’টি দলেরই প্রয়োজনীয় ৬ শতাংশ ভোটের তুলনায় প্রাপ্ত সমর্থন যথেষ্টই কম৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement