BREAKING NEWS

১৪ অগ্রহায়ণ  ১৪২৮  বুধবার ১ ডিসেম্বর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

বাংলাকে স্বস্তি দিয়ে পিছু হটছে ঘূর্ণিঝড় ‘কিয়ান্ত’

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: October 26, 2016 8:52 am|    Updated: January 9, 2020 2:48 pm

Cyclonic Storm Kyant to bring heavy rain in Odisha

স্টাফ রিপোর্টার: বঙ্গোপসাগরে গত দু’দিনে ঘনীভূত হচ্ছে নিম্নচাপ৷ আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকালে এই নিম্নচাপ কলকাতা থেকে প্রায় ৮০০ কিমি দূরে অবস্থান করছিল৷ কিন্তু বেলা গড়াতেই অভিমুখ আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে যায়৷ ফলে দীপাবলিতে কলকাতার আকাশ পরিষ্কার থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে৷ যদিও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তাও নয়৷ আস্তে আস্তে ঘনীভূত নিম্নচাপটি সাইক্লোনের রূপ নিতে পারে৷ সাইক্লোনের নাম কিয়ান্ত৷ আন্দামান থেকে এই ঘূর্ণাবর্তটি ৬২০ কিমি, ওড়িশার গোপালপুর থেকে ৭১০ কিমি ও বিশাখাপত্তনম থেকে ৮৫০ কিমি দূরে অবস্থান করছে৷ আবহবিদদের অনুমান, সাইক্লোনে পরিণত হওয়ার পর নিম্নচাপ-ঘূর্ণাবর্তটি ওড়িশার দিকে ঘুরে যেতে পারে৷ তবে এর জেরে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সাগর উপকূলে ভারী বৃষ্টি হতে পারে৷ শক্তি বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ৷ আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আরও উত্তর-পশ্চিমে ঘনীভূত হবে এটি৷ কিয়ান্তের জন্য ওড়িশা সরকারের তরফে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে৷ ১৪টি জেলার কালেক্টরদের এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক একটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপকূলবর্তী এলাকা-সহ উত্তর ও দক্ষিণের জেলাগুলিকে সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে বলেছেন রাজ্য প্রশাসনকে৷ বাতিল সরকারি ছুটিও৷

আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা শরৎচন্দ্র সাহু মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের পর বলেন, অন্ধ্র উপকূলের দিকে কিয়ান্তের সরে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে৷ তবে পার্শ্ববর্তী জেলা ও রাজ্যগুলিতে আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর প্রবল বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে৷ শাহু বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের ফলে ২৭-২৯ অক্টোবর প্রতি ঘণ্টায় উত্তর দিক থেকে প্রায় ৪৫-৫০ কিমি বেগে বাতাস বইবে৷ ওড়িশা উপকূলে সমুদ্র আরও বেশি অশান্ত হয়ে পড়বে৷ বাসের গতিবেগ হতে পারে ৬৫ কিমি৷

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা গণেশ দাস জানান, নিম্নচাপটি এখন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে৷ যা প্রবণতা তাতে ঘূর্ণিঝড় ওড়িশায় আছড়ে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি৷ ওড়িশা সরকারের বিশেষ ত্রাণ কমিশনার পি কে মহাপাত্র জানিয়েছেন, মত্স্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে৷ পর্যটকরা যাতে ওই ২৫-২৭ অক্টোবর তিন দিন জলে নামার চেষ্টা না করেন সেজন্য পুরী, গোপালপুর-অন-সি-সহ বেশ কিছু জায়গায় পুলিশ ও প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে৷ উপকূলবর্তী ১১টি জেলার প্রশাসনকে যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য তৈরি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ মহাপাত্র আরও বলেন, কালেক্টরদের শস্যগুলিকে ঢেকে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷

অন্যদিকে, দিল্লি থেকে সাইক্লোন ওয়ার্নিং সেন্টার বা ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত সতর্কতা কেন্দ্রের প্রধান মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরের শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্তটি চট্টগ্রাম ও মায়ানমার উপকূলের দিকে সরে যাচ্ছে৷ একই কথা বলছেন ওড়িশার আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা শরৎচন্দ্র সাহু৷ নবীন পট্টনায়েকের কিয়ান্ত সংক্রান্ত বৈঠকে এদিন মুখ্যসচিব, ডিজিপি, আঞ্চলিক আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা, খাদ্য, শক্তি, কৃষি ও গ্রামীণ দফতরের রাজস্ব সচিব, এসআরসি, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের আধিকারিক, আপৎকালীন বিভাগের অফিসার-সহ আরও অনেকে৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে