Advertisement
Advertisement
North Bengal flood

ফুঁসছে তিস্তা-জলঢাকা-সঙ্কোশ, উত্তরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, মৃত বেড়ে ৯

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের তিস্তাপাড় এলাকা ঘুরে দেখেন সেচদপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন।

Death toll increased to 9 in North Bengal flood
Published by: Paramita Paul
  • Posted:July 9, 2024 9:12 pm
  • Updated:July 9, 2024 9:12 pm

বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি: উত্তরে বন্যাজনিত বিপর্যয় অব্যাহত। যাচ্ছে প্রাণ। ভাঙছে বাঁধ, জনপদ। গৃহহীন প্রচুর মানুষ। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের মঙ্গলবার তিস্তাপাড় এলাকা ঘুরে দেখেন সেচদপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। অন্যদিকে লালটং বস্তির বিপন্নদের পাশে দাড়ান রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায়। মন্ত্রী জানান, উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী খুবই উদ্বিগ্ন। তার নির্দেশে ময়নাগুড়ির পাশাপাশি ক্রান্তি এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। তিস্তা, তোরসা, জলঢাকা সহ বিভিন্ন নদী সংলগ্ন এলাকার শতাধিক জায়গা কম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেচ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার এবং কর্মীরা দিনরাত কাজ করে চলেছেন। এদিন পাহাড়ের ভূমিধস বিধ্বস্ত পাগলাঝোরা এলাকা ঘুরে দেখেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা।

মঙ্গলবার হড়পা বানের বলি হয়েছেন এক তরুণী। ভারত-নেপাল সীমান্তে নকশালবাড়ির মণিরাম জোতে ফুঁসে ওঠা মেচি নদীতে ভেসে যান তিনি। পুলিশ জানায়, মৃতের নাম সাকিনা কিসান (১৮)। এদিনের ঘটনা নিয়ে ভরা বর্ষায় উত্তরে জলে ডুবে ৯ জনের মৃত্যু হল। এর আগে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুর জেলায় ৮ জনের মৃত্যু হয়। এদিন আত্রেয়ী ও পূর্ণভবার জলে প্লাবিত বালুরঘাট ও গঙ্গারামপুর শহরের কয়েকটি এলাকা। অন্যদিকে মঙ্গলবার সন্ধে থেকে সিকিম পাহাড়ে তিস্তা ফের বিধ্বংসী রূপ নিতে শুরু করে। জলে তলিয়ে যায় তিস্তাবাজার-পেশক এবং তিস্তা-দার্জিলিং রোড। ওই দুটি রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তিস্তা বাজার এলাকা জলে তলিয়ে যাওয়ায় সেখানকার বাসিন্দারা অন্যত্র নিরাপদ জায়গায় সরে যান। উদ্বেগ বেড়েছে সেভক সংলগ্ন তিস্তা নিয়েও।

Advertisement

[আরও পড়ুন: অগ্নিমূল্য বাজার, ১০ দিনের মধ্যে দাম কমাতে কড়া দাওয়াই মুখ্যমন্ত্রীর]

এদিকে ‘গোদের উপর বিষফোঁড়া’র মতো ফের ভারী বর্ষণের কবলে উত্তরবঙ্গের পাচ জেলা। সোমবার রাত থেকে বিক্ষিপ্তভাবে দফায়-দফায় বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়েছে জনজীবন। ভুটান পাহাড়ে অতিভারী বৃষ্টির জেরে প্রতিটি পাহাড়ি নদীর জলস্তর বেড়ে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। শিসামারা বাধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে আলিপুরদুয়ারের শালকুমার এলাকা। ভোলা নালার জলোচ্ছ্বাসে ভেসেছে ভুটান সীমান্তের কালচিনি এলাকার একাধিক চা বাগান। অতিভারী বর্ষণে প্লাবিত হয়েছে বারোবিসা এলাকা। অন্যদিকে কোচবিহারের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ফের তোরসা, মানসাই সহ প্রতিটি নদীর জলস্তর বাড়ছে। সোমবার রাতের একটানা ভারী বর্ষণে জলপাইগুড়ি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জলবন্দি হয়েছে। ধস নেমেছে বক্সা পাহাড়ে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে টোটোপাড়া। কালিম্পংয়ে লালটং বস্তিতে ৩৬টি বাড়ি ভেসে গিয়েছে।

Advertisement
দার্জিলিংয়ের সাংসদ ধস বিধ্বস্ত পাগলাঝোরা এলাকায়। নিজস্ব চিত্র।

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের সিকিম কেন্দ্রের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা বলেন, “বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের প্রবল সম্ভাবনা সিকিম এবং উত্তরবঙ্গের পাহাড়-সমতলে। ওই কারণে হড়পা বান এবং ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।” কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গজলডোবায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৮১ মিলিমিটার। এছাড়াও সেভকে ১৭৪ মিলিমিটার, বক্সা পাহাড়ে ১৫৩ মিলিমিটার, নাগরাকাটায় ১৪৩ মিলিমিটার, জলপাইগুড়িতে ১২৮ মিলিমিটার এবং নেওড়ায় ১০১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ভুটানের আবহাওয়া দপ্তর ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর হাইড্রোলজি অ্যান্ড মেট্রোলজি’ সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ভুটানে তুমুল বৃষ্টিপাত চলছে। তারই জেরে তোরসা, রায়ডাক, সংকোশ, কালজানি নদী ফুঁসতে শুরু করেছে। কোচবিহারে প্রচুর মানুষ ঘরছাড়া। তারা ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এদিন ত্রাণ বিলি করা হয়। কোচবিহারের পুলিশ সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্য জানান, দিনহাটার মাতালহাট এবং তুফানগঞ্জে ত্রাণ বিলি করা হয়েছে। এদিন বিকেলের পর মাথাভাঙার মানসাই নদীর জল বাড়তে শুরু করে। যদিও সংকেত জারি হয়নি। অন্যদিকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মেখলিগঞ্জ এলাকায় তিস্তা নদীতে ‘লাল’ সর্তকতা রয়েছে। তিস্তার চর এলাকা প্লাবিত থাকায় সেখানকার বাসিন্দারা ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন।

[আরও পড়ুন: মানিক ভট্টাচার্যের নির্দেশেই OMR শিট ধ্বংস! হাই কোর্টে বিস্ফোরক প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ]

আবহাওয়া দপ্তরের কর্তারা জানান, বুধবার থেকে উত্তরে বৃষ্টির তীব্রতা অনেকটাই বাড়বে। ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। আলিপুরদুয়ার জেলায় ‘লাল’ সতর্কতা জারি হয়েছে। এছাড়াও দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়ি জেলায় অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।  ভারী বৃষ্টি হতে পারে  মালদহ এবং দুই দিনাজপুর জেলায়। বৃহস্পতিবারও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার জেলায়। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং উত্তর দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। এদিনের জন্য আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং এবং কোচবিহারে ‘লাল’ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। সেখানে ২০০ মিলিমটারের বেশি বৃষ্টি হতে পারে। শুক্রবারে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলায়। রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায় জানান, কালিম্পংয়ের লালটং বস্তির ৩৬টি বাড়ি হড়পা বানে ভেসেছে। প্রশাসনকে পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। এদিন দার্জিলিং পাহাড়ের মংপুতে ফের ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি পরিবার।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ