সম্যক খান: ছেলের মৃতদেহ পাওয়ার জন্য একসপ্তাহ ধরে অপেক্ষায় ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। আশ্বাসও মিলেছিল। সেইমতো কাগজপত্র ও তথ্যাদি আদানপ্রদানের কাজও সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু সোমবার একটি মেল মারফত তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হল, মৃতদেহে পচন ধরে যাওয়ায় তা দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। দেশে ফেরানো গেল না কেশপুরের চিরঞ্জীব হাজরার দেহ।
কেশপুরের নেড়াদেউলে হাজরা পরিবারের ছেলে চিরঞ্জীব হাজরার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে সুদূর অস্ট্রেলিয়ায়। মৃতদেহ পাওয়ার জন্য সাতদিন অপেক্ষার পর অস্ট্রেলিয়াস্থিত ভারতীয় দূতাবাস থেকে এ ধরনের ই-মেল পেয়ে হতাশ পরিবারের সদস্যরা এদিন দরবার করেন জেলাশাসকের অফিসে। অতিরিক্ত জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করে তাঁরা যে কোনও উপায়ে মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানান। মৃত চিরঞ্জীবের আত্মীয় তনয় মণ্ডল জানান, চিরঞ্জীবকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে বলেই মনে করছেন তাঁরা। তাঁর দাবি, পরিবারের হাতে মৃতদেহ তুলে দেওয়া হোক। এ বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে চিরঞ্জীবের পরিবার।
[পোষ্যের জন্মদিন পালন করে ফেসবুকে ছবি, অশ্লীল গালিগালাজ তরুণীকে]
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে এমবিএ পাশ করার পর এক বেসরকারি কোম্পানিতে মোটা মাইনের চাকরি করছিলেন চিরঞ্জীব। ঘরভাড়া নিয়ে থাকতেন সেখানেই। সেই ঘরেই এক সপ্তাহ আগে ৩০ জানুয়ারি তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ। ময়নাতদন্তে তার শরীরে বিষক্রিয়ার চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। তারপরই চিরঞ্জীবকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁর পরিবারের লোকজন। বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করার পাশাপাশি চিরঞ্জীব সেখানে পাঁচ বন্ধুর সঙ্গে পার্টনারশিপে একটি রেস্তরাঁও খুলেছিলেন। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগও করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে রেস্তরাঁর ব্যবসা নিয়ে পার্টনারদের মধ্যে সমস্যাও দেখা দেয়। টাকা ফেরত নিয়ে পার্টনারশিপ থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছিলেন তিনি।
এরপরই তাঁর মৃত্যু সন্দেহ বাড়িয়েছে পরিবারের। চিরঞ্জীবের জামাইবাবু অনুপ সামন্ত বলেছেন, রহস্যজনকভাবে মৃতদেহ উদ্ধারের পর থেকেই তাঁরা দেহ দেশে ফেরতের জন্য লাগাতার অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছিলেন। প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য নানা প্রমাণপত্রও দাখিল করতে হয়েছে। শেষমেশ গত শনিবার ভারতীয় দূতাবাস থেকে জানানো হয় যে, সোমবার মৃতদেহ প্লেনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু এদিন সকালে হঠাৎই দূতাবাস থেকে ই-মেল করে জানানো হয়, মৃতদেহে পচন ধরেছে তাই আর দেহ দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না। দূতাবাসের এই সিদ্ধান্তে হতাশ হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। অনুপবাবুদের প্রশ্ন, যেখানে খুনের অভিযোগ আছে সেখানে দেহ সংরক্ষণ করে রাখার দায়িত্ব ছিল দূতাবাসের। কিন্তু তা কেন করা হয়নি, সেটাই আশ্চর্যের।
[মালদহে ব্যাঙ্কের গাড়ি ভেঙে লুট ২৫ লক্ষ, উদ্ধার বন্দুক ]
সর্বশেষ খবর
-
আমেরিকায় কোয়েলের পরনে শাড়ি, ভারী গয়না! শুটিং নয়, নিজেই জানালেন বিদেশ পাড়ির কারণ
-
‘পণের জন্য বেল্ট দিয়ে মার’, দিল্লিতে বিয়ের দু’মাসের মাথায় বধূর ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যুতে অভিযোগ মায়ের
-
পাহাড়ি পথে ৯ কিমি হেঁটে সফর, ৩৫৫০ সিঁড়ি ভেঙে তিরুমালায় পুজো ১১৬ বছরের বৃদ্ধার! ভিডিও ভাইরাল
-
মন্মথপুর প্রণব মন্দিরে উদযাপিত ডা. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী
-
বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে পথে মমতা, বাড়ির সামনেই মোমবাতি মিছিল তৃণমূলনেত্রীর