তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেই রাজ্যসভার টিকিট পেয়েছেন তিন প্রাক্তন সাংসদ। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর হাত ধরে সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকের এই প্রাপ্তি বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম আলোচ্য হয়ে উঠেছে। বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর যে শমীক ভট্টাচার্য বিজেপিতে ‘তৃণমূলীকরণ’ হতে দেবেন না বলে গোড়া থেকে বার্তা দিয়েছিলেন, তাঁর ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। যদিও এই সিদ্ধান্ত যে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের, তা রাজনীতির খবরাখবর রাখলে যে কেউ বুঝতে পারবেন। এসব নিয়ে আলোচনার মাঝে তিন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদকে নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। কেন তাঁদের বিজেপি থেকে ফের রাজ্যসভায় পাঠানো হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা দিলেন। জানালেন, কর্মীদের এনিয়ে বেশি ভাবনাচিন্তা করার দরকার নেই। বিষয়টা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বুঝে দেবেন।
দিলীপের বক্তব্য, ‘‘তাঁরা রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। সাংসদ থাকতে চান। মোদিজির জন্য কাজ করতে চান। সেকথা আমাদের জানিয়েছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে তো কোনও অপরাধমূলক মামলা নেই। আগে যা হয়েছে, হয়েছে। এখন তাঁদের আমরা ফের কাজ করার সুযোগ দিচ্ছি। আমাদেরও তো রাজ্যসভায় লোক লাগবে। যেসব কর্মীরা এটা নিয়ে বেশি ভাবনাচিন্তা করছেন, তাঁদের বেশি ভাবার দরকার নেই। ওটা আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বুঝে নেবে।”
আরও পড়ুন:
ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলের বিরুদ্ধে সরব হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছেড়েছিলেন দীর্ঘদিনের নেতা সুখেন্দুশেখর রায়। তাঁর দেখানো পথে একে একে রাজ্যসভা থেকে ইস্তফার পথে হাঁটেন সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক, কোয়েল মল্লিকও। সকলেই তৃণমূলের তরফে সংসদের উচ্চকক্ষের জনপ্রতিনিধি ছিলেন।
পদত্যাগের মাস খানেকের মধ্যেই সুখেন্দুশেখর রায়-সহ তিনজন সল্টলেকের বিজেপি সদর দপ্তরে গিয়ে দলে যোগ দেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই যোগদানের পর রাতেই তিনজনের নামই বিজেপি ঘোষণা করে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে। আগামী ২৪ জুলাই রাজ্যসভার ভোট। সংখ্যাতত্ত্বের নিরিখে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক জিতবেন। অর্থাৎ এবার সেই তিনজনই আবারও রাজ্যসভায় যাচ্ছেন, তফাৎ শুধু প্রতীকে। ঘাসফুল থেকে এবার তাঁরা পদ্মশিবিরের জনপ্রতিনিধি।
এনিয়ে সমালোচনা শুরু হতেই রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ কার্যত সমালোচকদের চুপ করিয়ে দিলেন। রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ প্রসঙ্গে দিলীপের বক্তব্য, ‘‘তাঁরা রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। সাংসদ থাকতে চান। মোদিজির জন্য কাজ করতে চান। সেকথা আমাদের জানিয়েছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে তো কোনও অপরাধমূলক মামলা নেই। আগে যা হয়েছে, হয়েছে। এখন তাঁদের আমরা ফের কাজ করার সুযোগ দিচ্ছি। আমাদেরও তো রাজ্যসভায় লোক লাগবে। যেসব কর্মীরা এটা নিয়ে বেশি ভাবনাচিন্তা করছেন, তাঁদের বেশি ভাবার দরকার নেই। ওটা আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বুঝে নেবে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সীমান্তে গলবে না মাছিও! কাঁটাতার দিতে মেখলিগঞ্জে ১৮৫ একর জমি পেল বিএসএফ
-
হালাল নাকি ঝটকা? মাংসের দোকানে ঝোলাতে হবে বোর্ড, ‘দাবি’ হিন্দু জাগরণ মঞ্চের!
-
‘ফরাসিদের থামতে হবে…’, ভিডিও কল করে ছেলেকে উদ্বুদ্ধ করছেন ইয়ামালের বাবা
-
হরমুজে জাহাজে ইরানি হামলা, ছিলেন ১১ ভারতীয় নাবিক! নিখোঁজ ১, কড়া নিন্দা নয়াদিল্লির
-
‘অভিষেককে সরালে অনেকেই ফিরবে’, মমতার সঙ্গ ছেড়ে ঋত শিবিরে গিয়ে বিস্ফোরক রবীন্দ্রনাথ