রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা ও বারাসত: এবার পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। পঞ্চায়েত নির্বাচনে সন্ত্রাসের অভিযোগ ও পুরুলিয়ায় দলীয় কর্মী খুনের প্রতিবাদে শুক্রবার কলকাতা-সহ রাজ্যজুড়ে থানা ঘেরাও কর্মসূচি ছিল বিজেপির। হাবড়া থানার সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। সেখানে সরাসরি পুলিশকে আক্রমণ করে দিলীপবাবু বলেন, “পুলিশ তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে তারা ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ। একটা থানায় ১০-১৫ জন পুলিশ কর্মী থাকেন। আমরা চাইলে দু’-চারশো লোক নিয়ে থানায় ঢুকে পিটিয়ে, থানা ভেঙে আগুন লাগিয়ে দিতে পারি। কিন্তু আমরা তা করব না। পুলিশ কর্মীরাও সাধারণ মানুষ।” দিলীপবাবুর এই বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। পার্থবাবুর বক্তব্য, “ওরা (বিজেপি) ক্ষমতার জন্য এখানে-ওখানে লড়াই করছে। ওদের দলের ক্ষমতা বা জনভিত্তি কিছুই নেই। ওদের কাছে মানুষের দুর্দশা বড় বিষয় নয়। লোক দেখানো পঞ্চায়েত নিয়ে ব্যস্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে উন্নয়ন চলছে। সেখানে মানুষই শেষ কথা।”
[ দুর্গাপুরে মিলল নিষিদ্ধ প্লাস্টিক বিক্রির দোকানের সন্ধান, বিক্রেতা আটক ]
এদিন দিলীপবাবু যেখানে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ছিলেন সেই হাবড়া বিধানসভা কেন্দ্রটি রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের। কর্মসূচি থেকে খাদ্যমন্ত্রীকে চড়া সুরে আক্রমণ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। পালটা প্রতিক্রিয়ায় জ্যোতিপ্রিয় বলেন, “মাত্র একশো লোক নিয়ে দিলীপ ঘোষ সভা করেছেন। আমার দলের ব্লক সভাপতির যোগ্য তিনি। সাহস থাকলে আমার বিরুদ্ধে বিধানসভায় লড়ে দেখান।”
শুক্রবার বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি কলকাতাতেও একাধিক থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। উত্তর কলকাতায় রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গিরিশ পার্ক থানা ও দক্ষিণে বেকবাগানে ডিসি সাউথ-ইস্টের অফিসের সামনে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন সায়ন্তন বসু। ছিলেন রাজ্য ও জেলার নেতারা। এদিন দিল্লিতেও বঙ্গ ভবনের সামনে রাজ্যে সন্ত্রাস ইস্যুতে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। তবে হাবড়া থানা ঘেরাও কর্মসূচিতে দলের রাজ্য সভাপতির পুলিশকে দেওয়া হুঁশিয়ারি নিয়েই এদিন বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
[ নারী সুরক্ষায় সমস্ত উচ্চ বিদ্যালয়গুলিতে বিশাখা কমিটি গড়ার নির্দেশ রাজ্যের ]
পুলিশ কর্মীদের উদ্দেশ্যে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য, “মনে রাখতে হবে পরিস্থিতি কখনও এক থাকে না। তিন বছর পর কে কোথায় যাবে কেউ জানে না। তখন পুলিশ ভাইদের কে দেখবে? ঘর সংসার, ছেলেপুলে থাকবে। আমরাও থাকব।” ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে দিল্লির পুলিশ ভোট করাবে, এই হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, লোকসভা ভোটে এখানকার পুলিশের কাজ হবে থানায় বসে চা খাওয়া আর আইপিএল দেখা। শাসকদলের নেতাদেরও এদিন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। বলেছেন, “ওদের (তৃণমূল) কেউ বলছে হাত ভেঙে দেব। আমরাও ভাঙতে পারি। যখন ভাঙব প্লাস্টার করার জায়গা থাকবে না।”
সর্বশেষ খবর
-
হাতে ৩৫ লাখি ব্যাগ, ২১ লক্ষের ঘড়ি পরে সংসদে ‘ক্যুইন’, মহুয়ার পর চর্চায় কঙ্গনার ‘ব্যাগবতী’
-
কলকাতায় আসার ঝঞ্ঝাট নেই, এবার চাকদহ থেকে সোজা শিলিগুড়ি! এসি বাস চালু এ সপ্তাহেই
-
ওয়ানডে বিশ্বকাপের দলে ঢুকতে কী করতে হবে? এবার ‘ব্রাত্য’ শামির জন্য এগিয়ে এলেন জাহির খান
-
স্বাধীনতা বিষয়ক ক্যুইজে সাভারকরের স্তুতি কেন? সাসপেন্ড শিক্ষক, সরগরম কেরল রাজনীতি
-
‘লক্ষ্মী এল ঘরে’, আনন্দে নাচ প্রপিতামহীর! মাইক বাজিয়ে কন্যারত্নকে ঘরে আনল পরিবার