সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: দীর্ঘদিনের ভরসাযোগ্য প্রশাসনিক অধিকর্তা। জেলাশাসক (DM) হিসেবে জেলা প্রশাসন সামলাতে তাঁর দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল না তেমন। তবে সম্প্রতি জেলার নাগরিক পরিষেবায় অনিয়মের অভিযোগের আঙুল ওঠে সরকারি কর্মী, আধিকারিকদের দিকে। এমনকী চলতি সপ্তাহে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। এই ঘটনার দিন দুই পরই বদলি করা হল পুরুলিয়ার (Purulia) জেলাশাসক রাহুল মজুমদারকে। তাঁকে আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ এবং আসানসোল পুরনিগমের সিইও পদে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারই নবান্নের তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে তাঁর নতুন দায়িত্বের কথা। পাশাপাশি ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ মোট ৮ জেলার জেলাশাসককে বদলির বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার পুরুলিয়ায় প্রশাসনিক বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। সেখানেই সরকারি কাজকর্ম নিয়ে একাধিক অভিযোগ পেয়ে তিনি ক্ষুব্ধ হন। প্রশ্ন তোলেন, “এত কিছু দিচ্ছি মানুষকে। তাও কয়েকজন কেন লোভী হয়ে গিয়েছে? আর কত চাই?” এরপরই তিনি বলেন, “আমার পার্টির লোক হলে টেনে চারটে থাপ্পড় মারতাম। তাদের আমি সবসময় শাসন করি।” অভিযোগ পান, ইটভাটা থেকে পাওয়া রাজস্ব সরকারের কোষাগারে আসার বদলে এক শ্রেণির সরকারি কর্মচারীর পকেটে চলে যাচ্ছে। এর পরই প্রশাসনের উপর খড়গহস্ত হন তিনি। উদ্বেগের সুরে জেলাশাসকের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ডিএম শুনতে পাচ্ছো? এগুলো কিন্তু তৃণমূল করেনি। করছে প্রশাসনের নিচুতলার কর্মীরা।” জেলাশাসক রাহুল মজুমদারের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি,”কী জেলা চালাচ্ছে? আমার ধারণাই বদলে গেল।”
[আরও পড়ুন: কামারকুণ্ডু রেলব্রিজ উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী, জানেই না রেল! শুরু বিতর্ক]
মুখ্যমন্ত্রীর এই ভর্ৎসনার ঠিক ২ দিন পরই বদলি হলেন জেলাশাসক রাহুল মজুমদার। দ্রুত তাঁকে নতুন দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবান্নের নয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পুরুলিয়ার নতুন জেলাশাসক রজত নন্দা। তিনি হাওড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক ছিলেন।
এছাড়া পশ্চিম মেদিনীপুরের (West Midnapore) জেলাশাসক রশ্মি কোমল, দক্ষিণ দিনাজপুরের আয়েশা রানি, ঝাড়গ্রামের (Jhargram) জয়শী দাশগুপ্তকেও বদলি করা হয়েছে। মোট ২৪ জন অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। কয়েকজন জেলাশাসকের অবশ্য শুধুমাত্র জেলাই বদল হয়েছে। একাধিক গুরুত্বের নিরিখে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসকদের বদলি করে আরও অভিজ্ঞ অফিসারদের আনা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে একে রুটিন বদলি হিসেবে দেখানো হলেও বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, জেলায় জেলায় প্রশাসনিক কাজকর্ম ঢেলে সাজাতে এত বড়সড় রদবদল করা হল।
[আরও পড়ুন: এবার কলকাতা মেট্রোর স্টেশনের অন্দরেই করা যাবে বিজ্ঞাপনী অনুষ্ঠান! চলবে সিনেমার প্রমোশনও]
সর্বশেষ খবর
-
পুরদলেও ফাটল, আইনি জটের আশঙ্কা, মমতার পছন্দে মেয়র বাছতে ‘সই’ দিলেন না অধিকাংশ কাউন্সিলর!
-
ছবির দেশ, কবিতার দেশে রূপকথা! ফরাসি ওপেনে প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের স্বাদ জাভেরেভের
-
পাহাড় থেকে সমতল, ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলা! আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বাসিন্দারা
-
‘একে নেব না, ওকে নেব না বললে হবে না’, বঙ্গে বৃহত্তর হিন্দু ঐক্যের বার্তা বনশলের
-
শ্বাস যন্ত্রে কিছুতেই ফুঁ দিতে পারছেন না মদ্যপ! চড় কষালেন পুলিশকর্মী, ভিডিও ঘিরে বিতর্ক