নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: তিন ঘণ্টার জায়গায় চিকিৎসক লিখে দিয়েছেন তিন দিন না খেয়ে থাকতে হবে! চিকিৎসকের এই চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জেরেই প্রায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন এক বৃদ্ধা। শিবানি সাহানি (৬০) নামে ওই বৃদ্ধাকে ন’ঘণ্টা না খাইয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। ঘটনার জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রোগী এবং চিকিৎসক মহলে। আর এই খবরে রীতিমতো বিস্মিত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত চিকিৎসক গৌরীশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন হাসপাতাল সুপার গয়ারাম নস্কর।
[নাগরাকাটায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ২ ঠিকাকর্মীর]
জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার বাড়িতে পড়ে গিয়ে হাতে চোট পান জলপাইগুড়ি শহরের আশ্রম পাড়ার বাসিন্দা শিবানী সাহানি। তাঁর ছেলে হারাধন জানান, বাড়িতে ঝাড়-ফুঁক মালিশ করেও কোনও কাজ না হওয়ায় সোমবার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মাকে নিয়ে যান তিনি। চিকিৎসক তাঁকে পরের দিন মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তি করাতে বলেন। বয়স বেশি হওয়ায় অজ্ঞান করে হাতের প্লাস্টার করা হবে বলে জানান তিনি। সেই মতো সকাল দশটা নাগাদ ওটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। বেলা বারোটা নাগাদ ওটি থেকে বের করে বেডে দেওয়া হয়। অপারেশনের পরেই চিকিৎসক লিখে দেন, তিন দিন কোনও খাবার খাওয়া যাবে না। হারাধনবাবু জানান, সেই সময় মায়ের জ্ঞান ছিল না। একটা নাগাদ জ্ঞান ফেরে। তারপর কর্তব্যরত নার্সদের কাছে জানতে চান, কী খাবার খেতে দিতে হবে। হারাধনবাবু বলেন, “নার্সরা আমাকে জানায়, তিন দিন কোনও খাবার না দেওয়ার কথা লিখে দিয়েছেন চিকিৎসক। তাতে অবাক হয়েই বাড়ি ফিরে আসি। বিকেলের পর আবার গিয়ে একই প্রশ্ন করলে সেই কথাই ফের জানানো হয়। রাতে খানিকটা উদ্বিগ্ন চিত্তেই সরাসরি ফোন করি চিকিৎসক গৌরীশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ডাক্তারবাবু জানান, তিন দিন নয় তিন ঘণ্টা খাবার না দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। ফোনে জানতে পেরেই তড়িঘড়ি মায়ের খাওয়ার ব্যবস্থা করি। কিন্তু ততক্ষণে ন’ঘণ্টা কেটে গিয়েছে।”
[যুবকের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার, খুনের অভিযোগে শোরগোল তেহট্টে]
হারাধন আরও জানান, এতক্ষণ খালিপেটে থাকার জেরে দুর্বল হয়ে পড়েন তাঁর মা। তবে এখনও তিনি কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। তবে গোটা ঘটনাকে সাজানো অভিযোগ বলে মন্তব্য করেছেন ডাক্তার গৌরীশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, অজ্ঞান করার পর স্বাভাবিক নিয়মেই তিন ঘন্টা খাবার না দেওয়ার কথা বলা হয়। এটা কর্তব্যরত নার্স থেকে স্বাস্থ্য কর্মী সকলেরই জানা। রোগীর পরিবার ভুল শুনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। একই কথা জানিয়েছেন হাসপাতাল সুপার গয়ারাম নস্কর। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি জানা নেই। তবে কোথাও একটা ভুল হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখে গাফিলতি হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
[মদ্যপানের প্রতিবাদের মাশুল, ২ অন্তঃসত্ত্বাকে রাস্তায় ফেলে মার মদ্যপ যুবকদের]
সর্বশেষ খবর
-
ভিউয়ের লোভে ফেসবুকে বেবি ইউনিটের ভিডিও পোস্ট! ডিলিটের নির্দেশ দিয়ে কী বলল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ?
-
সেশেলসের সর্বোচ্চ সম্মান প্রাপ্তি নিয়ে মোদিকে ‘অপমান’, পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে তোপ ভারতের!
-
‘যুবরাজের’ গাড়িতে ঝুলে নিরাপত্তারক্ষীরা! থানায় ‘অসম্পূর্ণ’ নথি অভিষেকের, ফের নোটিসের প্রস্তুতি!
-
পালাবদলে বেড়েছে শ্যামাপ্রসাদের মূর্তির চাহিদা! জন্মদিনের আগে হিমশিম খাচ্ছেন শিল্পী
-
মাকেও জানায়নি! অভিষেকের খবর সবার আগে কাকে দেয় বৈভব? ভাইরাল প্রথম পোস্টও