BREAKING NEWS

১২ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

মমতার কঠোর নির্দেশে বিধায়করা ২৪x৭

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 29, 2016 9:12 am|    Updated: May 29, 2016 9:13 am

An Images

সন্দীপ চক্রবর্তী ও দীপঙ্কর মণ্ডল: বিধায়কদের মোবাইল যেন বন্ধ না থাকে৷ সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে৷ মানুষ যেন ডাকলেই বিধায়কদের পায়৷ দ্বিতীয়বার সরকার গড়ার পর বিধানসভায় বিধায়কদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে দলীয় বৈঠকে এমনই বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে এবার আরও বেশি কঠোর তৃণমূল নেত্রী৷

মমতা তাই তৃণমূল বিধায়কদের বৈঠকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, বিরাট জয় হয়েছে৷ সবাইকে অভিনন্দন৷ মানুষকে মর্যাদা দিতে হবে৷ সরকারি কাজকে আরও বেশি করে মানুষের সামনে পৌঁছে দিতে হবে৷ মানুষ যেন এমএলএ-কে কাছে পায়৷ মানুষের স্বার্থে ২৪ ঘণ্টাই খুলে রাখতে হবে মোবাইল৷ পাশাপাশি একসঙ্গে উন্নয়নের কাজ করে যাওয়ারও নির্দেশ তাঁর৷ তিনি বলেছেন, জেলাপ্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে৷ প্রথমবার সরকারে যেখানে কাজ শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই যেন উন্নয়নের কাজে গতি আনতে চান মমতা৷ দলের বিধায়কদের প্রতি তাঁর সাবধানী পরামর্শ, “বিধানসভায় নিয়মিত হাজির থাকতে হবে৷ গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নিতে হবে৷ বিরোধীরা ভোটের মতোই নানা প্ররোচনা দেবে৷ এই প্ররোচনায় কেউ যেন পা না দেয়৷” মূলত দলের নতুন বিধায়কদের প্রশিক্ষণও দেবেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়-সহ সিনিয়ররা৷

সরকারি দলের মুখ্যসচেতক হচ্ছেন পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ৷ উপ মুখ্যসচেতকের দায়িত্ব পালন করবেন বরানগরের বিধায়ক তাপস রায়৷ এছাড়া বিধাননগরের জয়ী সুজিত বসুকে তৃণমূল পরিষদীয় দলের সেক্রেটারির দায়িত্ব দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ শনিবার নৌসের আলি কক্ষে মন্ত্রী ও পাঁচ জেলার জয়ীদের শপথের পরই মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে চলে আসেন মমতা৷ তাঁর পাশে ছিলেন সুব্রত বক্সি, মুকুল রায়৷ উচচপদস্থ অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা৷ এরপরই একে একে নতুন মন্ত্রী ও বিধায়করা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেন৷

মন্ত্রী ও বিধায়কদের আলাদাভাবে নির্দেশও দেন৷ সদ্য মন্ত্রিত্বের শপথ নেওয়া অসীমা পাত্রকে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, মা খুশি হয়েছেন তো? এরপরই তাঁর নির্দেশ, “ভালভাবে কাজ করবে৷ টেকনিক্যাল এডুকেশনে কিন্তু আমরা নম্বর ওয়ান৷ উজ্জ্বল বিশ্বাসের পরামর্শ নেবে৷ ও ভাল কাজ করেছে৷ ওকেই আবার দায়িত্ব দেব৷ আপাতত তুমিই দেখবে৷” উল্লেখ্য, কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন অসীমা৷ প্রথমবার বিজয়ী তরুণ গোঘাটের মানস মজুমদারকে আরামবাগের কৃষ্ণচন্দ্র সাঁতরার কাছে শিখে কাজ করতেও বলেছেন৷ আলিপুরদুয়ারের সৌরভ চক্রবর্তীকে মুখ্যমন্ত্রী চা-বাগানগুলির অধিকর্তার দায়িত্ব দেবেন৷ তিনি সৌরভকে বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঘোষের সঙ্গে মিলে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর দেখতে হবে৷” উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সভাধিপতি রহিমা মণ্ডলও এসেছিলেন৷ তিনি এখন বিধায়ক৷ সভাধিপতি পদে ইস্তফা দিতে বলেছেন তাঁকে৷ বলেন, “জেলা পরিষদের সভাধিপতি কে হবেন, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ঠিক করবে৷”

বিধানসভায় তৃণমূল শিবিরে ছিল খুশির হাওয়া৷ নির্বাচিতরা একে অপরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন৷ বিধানসভায় মন্ত্রীদের ঘরেও কিছু বদল হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের দিকের মণীশ গুপ্তর পুরনো ঘরে বসবেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়৷ তিনি এখন বিদ্যুৎমন্ত্রী৷ শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত আগের বছরগুলোর বিদ্যুতের বাজেটপুস্তিকা পড়েন তিনি৷ অফিসারদের নিয়ে এদিন বৈঠকও করেছেন৷ কয়লার জোগান নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷ গত সরকারের সাফল্যই এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছেন তিনি৷ শোভন চট্টোপাধ্যায় অরূপ বিশ্বাসের পাশের ঘরে বসছেন৷ অরূপ আবার এদিনই ক্রীড়া দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লর সঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠক সারেন নিজের ঘরেই৷ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের মধ্যে শুভেন্দু অধিকারী এদিন আসেননি৷ তিনি সাংসদ পদে ইস্তফা দিতে দিল্লিতে গিয়েছিলেন৷ সোমবার শপথ নেবেন বিধায়ক পদে৷ এদিকে, কৃষি  বিপণন দফতরের মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত সোমবারই খাদ্যভবনে গিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন৷ তাঁর বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করে যাব৷ কৃষকরা যাতে দাম পান যেমন দেখতে হবে, তেমনই দ্রব্যমূল্য যেন না বাড়ে দেখব৷”

 

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement