বাংলার একেকটি পুজো যেন ইতিহাসের একেকটি অনন্য দলিল। অনেক আনন্দ উৎসবের নেপথ্যেও চাপা পড়ে থাকে কত করুণ কাহিনি! বাংলার এই পুজোয় নবমী নিশি নয়, মহাষ্টমীতেই যেন বেজে ওঠে বিষাদের সুর। সাঁকরাইলের পালবাড়ির পুজো আজও বহন করে চলেছে এক বিশেষ ঐতিহ্য। দশমীর পরিবর্তে এখানে অষ্টমীতে হয় সিঁদুর খেলা। সিঁদুর খেলেন পরিবারের গৃহিণীরা। আর এই বিশেষ প্রথার নেপথ্যেই রয়েছে এক করুণ কাহিনি।
শোনা যায়, একসময় এই বাড়ির বড় ছেলে ললিতচন্দ্র পাল মাত্র ১৮ বছর বয়সে মারা গিয়েছিলেন। দিনটি ছিল মহাষ্টমী। সেদিনই বাড়িতে মরদেহ রেখে সিঁদুর খেলা-সহ যাবতীয় নিয়ম সম্পন্ন করে বিসর্জন দেওয়া হয়েছিল দেবীকে। তারপর থেকেই অষ্টমীতে এই বাড়িতে সিঁদুর খেলা হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিশে গিয়ে যে খেলায় অংশ নেন গ্রামের সধবা মহিলারাও।
আরও পড়ুন:
প্রায় ১৭০ বছর ধরে নফর পালের বাড়িতে পূজিতা হয়ে আসছেন উমা। আন্দুল রাজবাড়ির দেওয়ান ছিলেন পাল বংশের পূর্বপুরুষ চূড়ামণি পাল। রাজার কাছ থেকে গঙ্গার পাশে রাজগঞ্জে তিনটি গ্রামের জমিদারিত্ব পেয়েছিলেন তিনি। তারপর হাওড়ার রাজগঞ্জেই অট্টালিকাসম জমিদার বাড়িতে বসবাস শুরু করে পাল পরিবার। আর সেই সঙ্গেই শুরু হয় দুর্গাপুজো।

জমিদার বাড়ির বিশাল দুর্গা মণ্ডপ, সামনে প্রশস্ত উঠোন, তিনদিকে খোলা বারান্দা আজও অটুট। দেবী এখানে একচালার ডাকের সাজে চিন্ময়ী রূপে সজ্জিতা। পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি বাড়ির মেয়ে। ফল, নানা প্রকারের নাড়ু ও মিষ্টি দিয়ে সাজানো হয় দেবীর নৈবেদ্য। অষ্টমীর ভোগ বিতরণ করা হয় গ্রামবাসীদের মধ্যে। তবে সেযুগের পালবাড়ির দুর্গাপুজোর আভিজাত্য এখন অবশ্য আর নেই। বংশের বর্তমান প্রজন্মের সদস্য স্বরূপ পাল জানালেন, ‘‘পুরোহিত থেকে ঢাকি, প্রত্যেকেই বংশ পরম্পরায় এই বাড়ির পুজোতে সামিল হয়ে আসছেন। আমাদের পরিবারে বৈষ্ণব মতে পূজিতা হন দুর্গা। দশমীর পরিবর্তে অষ্টমীর দিন সিঁদুর খেলা হয়। বাড়ির মেয়েরা সিঁদুর খেলেন। দশমীর দিন আর সিঁদুর খেলা হয় না। সেদিন সাধারণভাবেই ভাসান হয়।’’

এই পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্বপুরুষ নফর চন্দ্র পাল অত্যন্ত দূরদর্শী ছিলেন। আগামী প্রজন্ম যাতে দুর্গাপুজোর দায়িত্ব নিতে পারে, সেজন্য তিনি তৈরি করেছিলেন দেবোত্তর ট্রাস্ট। আন্দুল বাসস্ট্যান্ড এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়িক জায়গা থেকে ট্রাস্টে সারা বছর অর্থ জমা হয়। সেখান থেকেই হয়ে আসছে পালবাড়ির দুর্গাপুজো।

প্রসঙ্গত, এই বাড়ির কৃতি সন্তানের হাত ধরেই সুদূর বিলেতেও সুখ্যাতি পেয়েছিল বাংলায় তৈরি ইট। নফর চন্দ্র পালের বিখ্যাত ইট ব্যবহার করতেন ব্রিটিশরাও। চূড়ামণি পালের পরবর্তী বংশধরেরা বেছে নিয়েছিলেন ব্যবসা। এই বংশেরই কৃতি সন্তান ছিলেন নফর। শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে কারিগরি শিক্ষা লাভের পর তিনি তৈরি করেন নিজস্ব ইটভাঁটা। বঙ্গসন্তানের সেই ইটভাঁটার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিল ব্রিটেনেও। এনসি পালের বিখ্যাত ইট ব্যবহার করত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। শহর কলকাতার বহু প্রাচীন স্থাপত্য সেই ইটেই গড়া।
সর্বশেষ খবর
-
রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনা, নিউটাউনে দু’টি বাইকের সংঘর্ষে মৃত্যু নিরাপত্তারক্ষীর
-
দিনের পর দিন টাট্টু ঘোড়ার সঙ্গে যৌনতা! জেলে ব্রিটিশ কিশোর
-
রাজ্যবাসীকে ‘ফেস্টিভ প্যাকেজ’ উপহার খাদ্যমন্ত্রীর! ৫০ শতাংশ ছাড়ে মিলবে রেশন সামগ্রী
-
খুদে দুর্গা গড়েই চমক! দেশ-বিদেশে পাড়ি কৃষ্ণনগরের কৃশানুর অভিনব শিল্পকর্ম
-
‘তার মানে বিচার হবে’, অভয়া সৎকার মামলা সিবিআইয়ের হাতে যাওয়ার পর বললেন মা রত্না