BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

সামান্য ইরেজার দিয়ে সরস্বতী বানিয়ে নজির বাংলার এই শিল্পীর

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: January 19, 2018 2:19 pm|    Updated: January 19, 2018 2:19 pm

An Images

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: কখনও নানা রঙের চামচ তাঁর হাতের জাদুতে যেন প্রাণ পেয়েছে। আবার কখনও চাল, ডাল বা বাদামের খোলা দিয়ে সরস্বতীর মূর্তি গড়ে চমক দেখিয়েছেন কারুশিল্পী অমিত সরকার৷ এবার ইরেজার দিয়ে বাগদেবীর মূর্তি তৈরি করে তাক লাকিয়েছেন অমিত।

[তমলুকের বারুনি মেলায় নজির, দেহদানের অঙ্গীকার ২৫ জনের]

দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর এ-জোনের হর্ষবর্ধন রোডের বাসিন্দা বছর পঞ্চাশের শিল্পী অমিত৷ বিশ্বভারতী থেকে সংগীতে মাস্টার ডিগ্রির পর গানকেই পেশা বেছে নিয়ে ঘরেই গানের স্কুল খুলে বসেছিলেন৷ দাদা অসিত সরকার গুণী হস্তশিল্পী হলেও গানকেই পেশার তাগিদে কাছে টেনে নেন অমিতবাবু৷ কিন্তু রক্তে যার শিল্পকলা ঘুরছে, তিনি কীভাবে তা এড়িয়ে থাকবেন? তাই গানের ফাঁকে ফাঁকে চলল হাতের কাজের চর্চা৷ গাছের শিকড়, কাচ বা বোতলের ভিতর শোলা বা থার্মোকলের নিখুঁত শিল্প নৈপুণ্য তৈরি করে তাক লাগাতে লাগাতেন অমিতবাবু৷ শিল্পকলায় পুঁথিগত বিদ্যা না থাকলেও তাঁর এই সৃষ্টিকে কদর করতে লাগল দুর্গাপুরও৷ দীর্ঘ এগারো বছর ধরে নিজের হাতেই সরস্বতীর মূর্তি গড়ে আসছেন তিনি। নিজের গানের স্কুলে দেবী বন্দনার আয়োজন করেন৷ প্রতিবছরই ভিন্ন ভিন্ন জিনিস দিয়ে তাঁর শৈল্পিক হাত নিখুঁত বাগদেবী গড়ে তোলে। আর সেই মূর্তি দেখার জন্যে মুখিয়ে থাকে দুর্গাপুর৷ কখনও তেজপাতা দিয়ে আবার কখনও পেনসিলের খোসা দিয়ে দেবীমূর্তি বানিয়ে থাকেন অমিত৷ এবার যেমন বিভিন্ন রঙের ইরেজার (রাবার) দিয়ে অনন্য শিল্পকলায় ফুটিয়ে তুলেছেন সরস্বতীর মূর্তি৷ মোট ১ হাজার ৫২১ টি ইরেজার দিয়ে ষোলো দিন সময় নিয়ে তৈরি করেছেন এই সরস্বতীর মূর্তি৷ যার উচ্চতা পাঁচ ফুট৷ ওজন ষোলো কেজি৷ প্রায় আড়াই হাজার টাকা খরচ হয়েছে এই মূর্তি গড়তে৷ শিল্পকলা মানুষের প্রশংসা কুড়োলেও তিনি এই সৃষ্টিকে বেচে দেওয়ার পক্ষে নন৷ সাজিয়ে রেখে দেন ঘরের মধ্যেই৷ কিন্তু গানের সঙ্গে সঙ্গে এই শখ কেন? যে শখকে মিটিয়ে গ্রাসাচ্ছাদন করা যায় না সেই শখের মূল্যই বা কী?

[মহানগরে পুজোয় বাড়বে পর্যটকের সংখ্যা, বাঙালিদের ঘরে ঘরে আয়ের সুযোগ]

অমিতবাবুর কাছে এর মূল্য অনেক৷ অমিতবাবু এ বিষয়ে জানান, “নিজের আনন্দ৷ নিজের ইচ্ছে, নিজের শখ বা আনন্দ কি টাকার দাঁড়িপাল্লায় চাপানো যায়?” পালটা প্রশ্ন যেন ছুড়ে দিলেন অন্যদের দিকেই৷ অমিতবাবু আরও জানান, “গানের স্কুলে সরস্বতী পুজোর জন্যে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের মূর্তি গড়াতেই আমার আনন্দ৷ ছাত্র ছাত্রীরাও এতে মনের খোরাক পায়৷”

ছবি: উদয়ন গুহ রায়

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement