BREAKING NEWS

১৭ অগ্রহায়ণ  ১৪২৮  শনিবার ৪ ডিসেম্বর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

দুর্গাপুর ব্যারাজের লক গেট ভেঙে বিপত্তি, জল বেরোনোয় বাড়ছে সমস্যা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: November 24, 2017 10:10 am|    Updated: November 24, 2017 10:10 am

Durgapur barrage lock gate broken, problem arise durgapur and bankura

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: আচমকা ভেঙে পড়ল দুর্গাপুর ব্যারাজের এক নম্বর লক গেট। দীর্ঘক্ষণ পরও তা মেরামত না হওয়ায় হু হু করে জল বেরিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে জলসঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে দুর্গাপুরে। পাশাপাশি জলমগ্ন হতে পারে বাঁকুড়া, বর্ধমান ও হুগলির একাংশ।

DGP BARRAGE.jpg 2

[শহরে ধৃত আরও এক জঙ্গি, সন্ত্রাসের জাল গোটাচ্ছে STF]

মূলত দামোদরের জলকে ধারার রাখার জন্য তৈরি হয়েছিল এই ব্যারাজ। মোট ৩২টি লকগেটের মধ্যে এক নম্বর লকগেটের কার্যকারিতা ছিল সবথেকে বেশি। কিন্তু শুক্রবার ভোরেতা ভেঙে যাওয়ায় বিপত্তি বেড়েছে। দুর্গাপুর ব্যারাজের জলস্তর ২০৯.৫ ফুটে নেমে গিয়েছে। যা স্বাভাবিক অবস্থায় ২১২ ফুট থাকার কথা। অর্থাৎ গত কয়েক ঘন্টায় জলস্তর নেমেছে প্রায় আড়াই ফুট। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে ইতিমধ্যেই নবান্নয় মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে গোটা বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সেচ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা গেট মেরামতির চেষ্টা চালালেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। সেচ দপ্তর আদৌ এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য কতটা প্রস্তুত সে প্রশ্নও কিন্তু ইতিমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে।

DGP BARRAGE

[বাইপাসের ধারে জুতোর কারখানায় ভয়াবহ আগুন, আতঙ্কে এলাকাবাসী]

১৯৫৫ সালে তৈরি হয়েছিল এই ব্যারাজ। যার রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বে সেচ দপ্তর। প্রথমে জল ধারনের ক্ষমতা ৭ লক্ষ কিউসেক থাকলেও, পলি পড়ে বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৬০ হাজার কিউসেক। ব্যারাজ তৈরি হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনও রক্ষনাবেক্ষন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নিয়মানুযায়ী দুর্গাপুরের দিকের প্রথম তিনটি গেট ও বাঁকুড়ার দিকের শেষ তিনটি গেট বর্ষার সময়ে প্রবল জলের চাপ ছাড়া খোলা হয় না। কিন্তু ১ নং গেটের মিটারের কাঁটা দেখাচ্ছে গেট তোলা হয়েছে এক ফুট চার ইঞ্চি। এখানেই কোনও চক্রান্তের ইঙ্গিত পাচ্ছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ,  মাঝেমধ্যে মাছ ধরা-সহ অন্যান্য কারণে রাতের দিকে কিছুক্ষণের জন্য খুলে দেওয়া হয় গেট। বৃহস্পতিবার রাতেও তাই করা হয়েছিল। কোনও কারণে গেটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ফলে এই বিপত্তি ঘটে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন সেচ দপ্তরের রক্ষনাবেক্ষণ বিভাগের আধিকারক তারকনাথ দে। ব্যারাজের আপৎকালীন তিনটি গেট রয়েছে। কিন্তু তা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো। কাজেই সেই গেটকে উঠিয়ে এনেও ভাঙ্গা গেট সারানোর পরিকল্পনাও এখন বিশ বাঁও জলে। ব্যারাজের জলস্তর থাকে ২১২ ফুট। বেলা তিনটে পর্যন্ত জলস্তর ২ ফুট নেমেছে এবং তা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য এখনই জলস্তর অনেকটা নেমেছে। তার জেরে দুর্গাপুরের বুকে জলসঙ্কট দেখা দিতে পারে। পানীয় জলের জোগানের সমস্যা হবে। পাশাপাশি দুর্গাপুরের কলকারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যারাজের জলে চিন্তা বাড়ছে বাঁকুড়ার বড়জোড়ার মানচরের বাসিন্দারা। কারণ ব্যারাজের নিচের অংশ রয়েছে এই এলাকা। লকগেট দিয়ে জল বেরোতে থাকলে বা জল ছাড়ার পরিমান বেড়ে গেলে ৫০ হাজার বাসিন্দা বিপদে পড়বেন। ক্ষতি হবে ফসলের।

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে