সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘোষণা মাত্রই রাজ্য জুড়ে অশান্তির ছবি। মনোনয়নের মাত্র তিনদিনের মাথাতেই যেভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্যগুলি তাতে অশনি সংকেত দেখছে নির্বাচন কমিশন। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পক্ষেই সওয়াল কমিশনের। এ ব্যাপারে শিগগিরি কমিশন রাজ্যকে চিঠি দিতে চলেছে বলেই জানা যাচ্ছে।
[ মুকুলের নেতৃত্বে কমিশনের দপ্তরের সামনে বিজেপির নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ ]
ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দরকার নেই বলেই আগেই জানিয়েছিল রাজ্য। পঞ্চায়েতের পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য পুলিশই দক্ষ বলে আশ্বাস দিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু মনোনয়নের প্রথম দিন থেকেই দিকে দিকে সংঘর্ষের ছবি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিযোগ বিজেপির। তাদের অভিযোগ, শাসকদলের আশ্রিত গুণ্ডারা মনোনয়ন জমাই দিতে পারছে না। জমা দেওয়ার পর হয়তো তা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হবে। কিন্তু সে তো অনেক দূরের কথা, ফর্ম ফিলাপ বা অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যকলাপই করতে পারছেন না বিজেপি সমর্থকরা। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ ও প্রশাসন কার্যত ঠুঁটো জগন্নাথের ভূমিকা নিয়েছে। তাদের চোখের সামনেই শাসকদলের কর্মীরা একের পর এক আক্রমণ করে চলেছে। প্রতিবাদে আজ কলকাতায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের সামনে মুকুল রায়ের নেতৃত্বে বিক্ষোভ জানাচ্ছেন বিরোধীরা। অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানাচ্ছেন, রাজ্য পুলিশ আসানসোল-রানিগঞ্জ সামলাতে পারে না, ভোট সমলাবে কী করে? গতকালই এ ব্যাপারে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। বুধবার নির্বাচন কমিশনকে তলব করেন রাজ্যপাল। আজ তাঁদের বৈঠক হয়। জানা যাচ্ছে, সেই বৈঠকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে কমিশন।
[ সুষ্ঠুভাবে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে বিজেপি ]
একের পর এক বিরোধীদের অভিযোগ নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজ্যপাল নির্বাচন কমিশনের কাছে পুরো বিষয়টি জানাতে চান। সূত্রের খবর, কমিশনের তরফে তাঁকে জানানো হয়, রাজ্যে নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা আছে। এক্ষেত্রে এই প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে কমিশনকে চিঠি দিতে হয় রাজ্যকে। সেইমতো রাজ্য রিকুইজিশন দিলে তবে কেন্দ্র বাহিনী পাঠায়। সেই চিঠি খুব শিগগিরই রাজ্যকে কমিশন দিতে চলেছে বলে জানা যাচ্ছে।
[ ভোটের ময়দানে নয়া কৌশল, ‘হই’ দিলেই হাওয়া বিরোধীরা ]
এদিকে বিজেপির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর পক্ষে সওয়াল করেছেন বামফ্রন্ট নেতা সূর্যকান্ত মিশ্রও। তিনিও জানান, তিনদিনেই যা পরিস্থিতি তাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী না এলে বাংলা বিক্ষত হবে। একই মত বিজেপি নেতা মুকুল রায়েরও। বাংলায় গণতন্ত্র ধর্ষিতা হচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি সূর্যবাবুর কথার রেশ টেনেই তিনি বলেন, এই লড়াইতে যে কেউ সমর্থন জানাতে পারেন। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরিখে বাম-বিজেপি যে এক মঞ্চে তা আজ অনেকটাই স্পষ্ট হল। তার উপর পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হচ্ছে বিজেপি। সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা বারবার করে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিরোধীদের পক্ষ থেকে। এই প্রেক্ষিতে কমিশনের চিঠি গেলে, রাজ্য হয়তো অবস্থান বদলে বাধ্য হবেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
সর্বশেষ খবর
-
ইটিএফ না মিউচুয়াল ফান্ড, বিনিয়োগের জন্য কোনটি বাছবেন? জেনে নিন বিস্তারিত
-
পরকীয়ার জের? ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার পর নিখোঁজ, পরে ক্লাবে মিলল বধূর দেহ!
-
ইজরায়েলের হানায় প্যালেস্টাইনের গোলরক্ষকের মৃত্যু! এখনও নীরব কেন ফিফা? চরমে বিতর্ক
-
আর্থিক অনটন? সংসারে ফিরবে মা লক্ষ্মীর কৃপা, ঘরে রাখুন মাটির তৈরি এই জিনিসগুলি
-
আসানসোল পুরবোর্ড ভেঙে দিল রাজ্য, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে প্রাক্তন পুর কমিশনার অদিতি চৌধুরী