Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৪ জুলাই ২০২৬

বৃদ্ধা মাকে রাস্তায় ফেলে উধাও ছেলে-বউমা

অমানবিক!!!

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯, ১৬:৪৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯, ১৬:৪৯

options
link
বৃদ্ধা মাকে রাস্তায় ফেলে উধাও ছেলে-বউমা zoom

নিজস্ব সংবাদদাতা: “এই বাসা ছেড়ে আমরা নতুন ভাড়া বাড়িতে চলে যাব। চলো! আজ সেটা দেখে আসি”। মাকে ডেকে এমনটাই বলেছিল ছেলে। নিজের ছেলে বলে কথা! তাই নিশ্চিন্তে বৃহস্পতিবার বিকেল হতে না হতেই ছেলে-বউমার সঙ্গে ‘নতুন বাড়ি’ দেখতে রিষড়ার বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন ৭৬ বছরের বৃদ্ধা রেণুবালা দে।

[অমানবিক! অসুস্থ বাবাকে ঘরে আটকে রেখে ভ্রমণে পুত্র ও পুত্রবধূ]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

কোন্নগর স্টেশনের কাছে এসে মাকে ছেলে বলেছিল “একটু বোসো, এক্ষুনি আসছি।” ব্যস! সেই যে গেল দু’জনে, আর ফিরে আসেনি। মাঝ নভেম্বরের রাতভর টানা বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় বসে ছিলেন অসহায় বৃদ্ধা। সঙ্গে টাকাপয়সা না থাকায় খাওয়াও জোটেনি। শুক্রবার সকালে আলো ফোটার পর ক্ষুধায়-তৃষ্ণায় কাতর, প্রায় অর্ধমৃত রেণুবালাদেবীকে দেখতে পান স্থানীয় মানুষজন। তাঁরাই খাবার ও জল দিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন বৃদ্ধার। খবর যায় প্রশাসনের কাছে। ততক্ষণে খোঁজখবর করে জানা গিয়েছে রিষড়ার বাড়ি তালাবন্ধ। স্পষ্ট হয়ে যায়, বৃদ্ধা মাকে রাস্তায় ফেলে পালিয়েছে গুণধর ছেলে ও বউ। শেষপর্যন্ত স্থানীয় পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে পরিত্যক্ত বৃদ্ধার আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয় কাছের একটি বৃদ্ধাশ্রমে।

শুক্রবার হুগলির এই ঘটনার কথা জানাজানি হওয়ার পর শিউরে উঠেছেন সবাই। এতটা অমানবিকও হতে পারে কেউ? প্রশ্ন সবার। স্থানীয় বাসিন্দাদের বৃদ্ধা জানিয়েছেন, রিষড়ার বারুজীবী এলাকায় ছেলে বাপি ও বউমা রত্নার সাথে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি থেকে তাড়ানোর চেষ্টা করছিল দু’জন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ছেলে-বউমা তাঁকে বলে, তারা নতুন ভাড়া বাড়িতে চলে যাবে। একটা বাসার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। সেটা সবাই মিলে দেখতে যাবে। সরল বিশ্বাসে বৃদ্ধা ছেলে-বউমার সঙ্গে এক কাপড়ে বেরিয়ে পড়েন। দেখে যেহেতু বাড়িতেই ফিরে আসবেন, তাই সঙ্গে কিছু নেওয়ার প্রায়োজনীয়তা অনুভবও করেননি। কোন্নগর স্টেশনের কাছে এসে তাঁকে বসিয়ে রেখে ‘একটু আসছি’ বলে পালিয়ে যায় দু’জনে। আর ফিরে আসেনি।

উদ্ধার হওয়ার পর স্থানীয়দের কাছে নিজের অসহায় জীবনের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন রেণুবালাদেবী। ৭৬ বছরের বৃদ্ধা জানিয়েছেন, দু’বেলা দুমুঠো খাবারের জন্য নিত্য সারাদিন কটু কথা শুনতে হয় তাঁকে। অথচ নিজের বাড়ির লোকজনকে ডেকে এনে বাড়িতে রেখে ভালমন্দ খাওয়াতে কার্পণ্য করে না বউমা।” যে মা ১০ মাস ধরে পেটে ধরেছে, নিজে না খেয়ে ছেলেকে খাইয়ে বড় করেছে, সেই মায়ের বেলায় দু’মুঠো খাবার জোটে না। এর থেকে আর দুঃখের কিছু হতে পারে কি?” কান্নায় ভেঙে পড়তে পড়তে প্রশ্ন করেছেন রেণুবালা। তারপরও তাঁর সন্তানের সুখকামনা করেছেন মা।

স্থানীয় পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে দীপ্তি ভট্টাচার্য জানান, স্থানীয় এক যুবককে রিষড়ার বারুজীবী এলাকায় বৃদ্ধার ছেলের ভাড়া বাড়িতে খোঁজ করতে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে গিয়ে দেখা গিয়েছে বাড়িতে তালা ঝুলছে। প্রতিবেশীদের কাছে খোঁজ করাতে জানা গিয়েছে বৃদ্ধার ছেলে বাপি দে ও বউমা রত্না দে শুক্রবার সকালে বাড়িতে তালা লাগিয়ে চলে গিয়েছে। দীপ্তিদেবী জানান, “এখানকার একটি হোমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের সহায়তায় ওই বৃদ্ধাকে সেখানে একটা আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।” কিন্তু কোথায় ছেলে বাপি ও বউমা রত্না? তা এখনও ধাঁধা।

[আংটি চুরির সন্দেহ, সালিশির নিদানে নগ্ন করে ছাত্রীকে ‘তল্লাশি’]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.