রাজকুমার, আলিপুরদুয়ার: ফের পিঠ থেকে মাহুতকে ফেলে চম্পট দিল জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের কুনকি হাতি সুন্দর। রবিবার দুপুরে ডিউটি থেকে পিলখানায় ফিরেই এই কাণ্ড ঘটায় সুন্দর। তবে এবার আর বেশি দূর পালিয়ে যেতে পারেনি। চিলাপাতা গ্রামের পথে যাওয়ার সময়ই ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু করা হয় সুন্দরকে। আপাতত ৫ দিন ফের সুন্দরকে আলাদা করে বেঁধে রেখে পর্যবেক্ষণ করবে বনদপ্তর।
দীর্ঘ ৬ মাস সাসপেন্ড থেকে ফের ৩০ মে কাজে যোগ দিয়েছিল জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের এই পোষা হাতি। কিন্তু ১১ দিন কাজ করার পরেই ফের বেগরবাই করে বসল সুন্দর। ঠিক কী হয়েছিল? বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সুন্দরের নতুন মাহুত ছিল সিমন। জঙ্গলে নজরদারি চালিয়ে পিলখানায় ফিরেছিল সুন্দর। সে সময় মাহুত সিমন সুন্দরের পিঠেই ছিল। সিমনের নির্দেশে অন্য এক পাতাওয়ালা হাতি বাঁধার চেন নিয়ে সুন্দরকে বাঁধতে এগিয়ে আসতে শুরু করেন। আর তাতেই প্রথমে চেন হাতে নেওয়া পাতাওয়ালাকে দেখে চম্পট দেয় সুন্দর। সেসময় মাহুত সিমন পিঠ থেকে পড়ে যায়। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের এডিএফও নবজিৎ দে বলেন, “কোনও অসুবিধে নেই। আমরা সুন্দরকে ধরে ফেলেছি। আপাতত ওকে কয়েকদিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। কী কারণে ও এমন করল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, গত ২৪ নভেম্বর দুপুরে স্নানের পর পিঠ থেকে পাতাওয়ালা বাপি বর্মনকে ফেলে দিয়ে জঙ্গলে পালিয়ে যায় সুন্দর। পরের দিন ২৫ নভেম্বর জলদাপাড়ার তোর্সা ইস্ট কম্পার্টমেন্টে সুন্দরকে ধরতে গেলে সুন্দরের মাহুত দীপক কার্জিকে শুঁড়ে আছড়ে ফেলে বুকের পাঁজরে দাঁত ঢুকিয়ে মেরে ফেলে সুন্দর। নিজের লালন পালনের দায়িত্বে থাকা মাহুতকে মেরে ফের জঙ্গলে পালিয়ে যায়। দীর্ঘ চেষ্টার পর নিখোঁজের ১২ দিনের মাথায় ৫ ডিসেম্বর জঙ্গলে ঘুমপাড়ানি গুলি করে সুন্দরকে কাবু করে বনদপ্তর। পরে জানা যায়, ২১ বছরের পুরুষ সুন্দরের যৌন মিলনের সময় হওয়ায় এমন আচরণ করেছিল সুন্দর। সেদিনই একমাস সুন্দরকে পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ।
একমাস কেটে যাওয়ার পর গত ৬ জানুয়ারি সুন্দরের শারীরিক পরীক্ষা করে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ। সেই দিনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি সুন্দর। চিকিৎসক সুন্দরকে আরও দুসপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু দুই সপ্তাহ কেটে যাওয়ার পরেও স্বাভাবিক হচ্ছে না সুন্দর। ২২ জানুয়ারি সুন্দরের ফের শারীরিক পরীক্ষা হয়। তাতেও ফিট সার্টিফিকেট পায়নি সুন্দর। আরও দুসপ্তাহ তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পর্যবেক্ষণে থাকার সময়েই মাহুত বাপি বর্মনকে তাঁর কাছ থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ। এভাবে নানা পরীক্ষা নিরিক্ষার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ছমাস কাজ থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছিল সুন্দরকে। অবশেষে ৩০ মে তাকে কাজ যোগ দেওয়ানো হয়। প্রায় ১০ দিনই ঠিকই ছিল সুন্দর। কিন্তু এগারো দিনের মাথায় ফের বিপত্তি ঘটাল সুন্দর। সুন্দরের এই আচরণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় বনদপ্তর।
[আরও পড়ুন: কার্বাইন বনাম সার্ভিস রিভলবার! রানিগঞ্জে ডাকাতদের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ ‘দাবাং’ আইসির]
সর্বশেষ খবর
-
বাংলায় বন্দেমাতরম মিউজিয়াম, বঙ্কিমচন্দ্রের জন্মদিনে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
-
ইসলামাবাদ হয়ে উঠছে! দেশ ‘বাঁচাতে’ আজান বন্ধের পথে ডেনমার্ক
-
সপ্তাহান্তে দুর্যোগের লাল সতর্কতা উত্তরবঙ্গে, সোমবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বাড়বে ঝড়বৃষ্টি
-
কিছুতেই মিলছে না মুখ! লেকটাউনের পর জন্মভূমি আর্জেন্টিনাতেও মেসি-মূর্তি নিয়ে মশকরা
-
পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার কমবে ৫০ শতাংশ! বিশেষ উদ্যোগ খড়গপুর আইআইটির