১৯ অগ্রহায়ণ  ১৪২৮  সোমবার ৬ ডিসেম্বর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

আজ টাটাদের কাঠামো ভাঙা শুরু সিঙ্গুরে

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: September 19, 2016 9:44 am|    Updated: September 19, 2016 9:44 am

From Today Demolition Of Tata Nano Plant In Singur Is In Full Swing

নব্যেন্দু হাজরা ও দিব্যেন্দু মজুমদার: আজ, সোমবার থেকে ভাঙা শুরু হচ্ছে সিঙ্গুরে অধিগৃহীত জমির উপর তৈরি টাটা কারখানার কাঠামো৷ তবে ভাঙার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করতে চায় না রাজ্য৷ গোটা কারখানার পরিকাঠামো খুঁটিয়ে দেখে, পরিকল্পনা করে তারপর তা ভাঙার কাজে গতি আনতে চান প্রশাসনের কর্তারা৷ কারখানা ভাঙার কাজে কলকাতা পুরসভার সাহায্য নিচ্ছে হুগলি জেলা প্রশাসন৷ তাই রবিবার সিঙ্গুরে প্রকল্প এলাকায় কারখানার কাঠামো ঘুরে দেখেন কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা৷ কারখানার শেড কীভাবে লাগানো হয়েছে, কী ধরনের নাট লাগানো আছে সেখানে, তা খতিয়ে দেখেন তাঁরা৷ এই যাবতীয় বিষয় ভাল করে দেখেই আজ থেকে কারখানা ভাঙার কাজ শুরু করা হবে৷ তবে আজ থেকে পুরোদমে কাজ শুরু হলেও কারখানার কাঠামোর মূল অংশ ভাঙতে আরও দিন কয়েক লাগবে৷
রবিবার হলেও সিঙ্গুর নিয়ে এদিন হুগলি জেলা প্রশাসনের কর্তারা বৈঠক করেন৷ আলোচনা চলে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গেও৷ কারণ কারখানা ভাঙার কাজ হবে যৌথভাবে৷ এদিন একদিকে যেমন চলছে ইচ্ছুকদের চেক বিলির কাজ, অনিচ্ছুকদের পরচা বিলি, তেমনই প্রশাসনের কর্তাদের এখন মূল মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে কারখানার কাঠামো ভাঙার কাজটি৷ এদিন কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং, রোডস এবং এসডব্লুএম বিভাগের আধিকারিকরা সেখানে যান৷ কারখানার কাঠামো দেখেন৷ কিছু নমুনা সংগ্রহ করে ফিরে আসেন৷ তবে সূত্রের খবর, কারখানার ভেতরের অংশ পরিষ্কারের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে৷ কারখানা ভাঙার কাজে ব্যবহৃত বুলডোজার থেকে শুরু করে জেসিবি মেশিন সবই নিয়ে যাওয়া হবে৷ প্রকল্পের সীমানার মধ্যে বহু কংক্রিটের পিলার রয়েছে, যেগুলো মাটির নিচে অনেক গভীর পর্যন্ত চলে গিয়েছে সেই পিলারগুলো ভাঙার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে৷ পাশাপাশি মাটির নিচে এবং বেশ কিছু জায়গায় জল থাকায় সে জায়গায় মেশিন দিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হচ্ছে৷ দিন দুই ধরেই বন্ধ রাখা হয়েছে কৃষি দফতরের কাজকর্ম৷ জঙ্গল পরিষ্কারের কাজও প্রায় শেষ৷ আপাতত প্রশাসনের মূল দৃষ্টি কাঠামো সরানোর উপর৷
হুগলি জেলা প্রশাসনসূত্রে খবর, আজ থেকে কারখানা ভাঙার কাজ শুরু কথা হলেও কোন অংশ প্রথম ভাঙা হবে তা এখনও ঠিক হয়নি৷ কারণ পুরো বিষয়টিই কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা করবেন৷ সাহয্য করবে জেলা প্রশাসনের লোকজন৷ কেএমসির কথা মতোই পরিকল্পনা করবেন তাঁরা৷ কারখানা ভাঙার সময় এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেকারণে কারখানা চত্বরে মোতায়েন থাকছে বিশাল পুলিশ বাহিনী৷ থাকবেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা৷ জমি পরিষ্কার করতে মোতায়েন থাকছে অন্যান্য কর্মীও৷ এদিকে প্রায় আট বছর আগে তৈরি হওয়া কারখানা ভাঙা ঘিরে সাধারণ গ্রামবাসীদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে৷ কারখানার ভেতরে কোনও যন্ত্রাংশ আছে কি-না, সেগুলোর কী অবস্থা, তা নিয়ে আগ্রহের কথা শোনা গিয়েছে বেড়াবেড়ি, বাজেমেলিয়া, খাসের ভেড়ি, গোপালনগরের বাসিন্দাদের গলায়৷ জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, “সোমবার থেকেই পুরোদমে কারখানা ভাঙার কাজ শুরু করবে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা৷ তার জন্য বিভিন্ন যন্ত্রাংশও প্রস্ত্তত রাখা হয়েছে৷ জেলা প্রশাসনও সবদিক থেকে প্রস্তুত৷”

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে