Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ আষাঢ় ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ৬ জুলাই ২০২৬

বোতলবন্দি ১০ লাখি ‘ভূত’ বিক্রির নামে প্রতারণা, ধৃত পুলিশকর্মী-সহ ৪

বোতলবন্দি কয়েন দেখিয়েই ১০ লক্ষ টাকা মেটাতে চাপ, প্রাণনাশের হুমকি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৯, ২০১৮, ১৫:১১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৯, ২০১৮, ১৫:১১

options
link
বোতলবন্দি ১০ লাখি ‘ভূত’ বিক্রির নামে প্রতারণা, ধৃত পুলিশকর্মী-সহ ৪ zoom

সৌরভ মাজি, বর্ধমান: ‘এক এক ভূত দশ রুপাইয়া। তো হামি করলাম কী হামি বাজারে গিয়ে ভূত কিনলাম।…বহুত সস্তেমে মিলা।..’
১৯৭৯ সালে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছোটগল্প ‘গরম ভাত’ অথবা নিছক ভূতের গপ্পো অবলম্বনে বিপ্লব রায়চৌধুরির হিন্দি সিনেমা ‘শোধ’। জাতীয় পুরস্কার পাওয়া এই সিনেমায় ওম পুরি-সহ অন্য অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কাঁপন ধরিয়েছিলেন দর্শককূলে। সিনেমার সুরেন্দ্র ভূতের সন্ধান করে বেড়াত। বাজি ধরে টাকা ফেলত, যে ভূত ধরে দেবে তাকে দশ রুপাইয়া দেবে। রাত্তির বেলা গ্রামের একদল লোক ক্যানেস্তারা নিয়ে ভূত খুঁজত। এক এক ভূত দশ রুপাইয়া।

[চেয়েও চা পেলেন না রাহুল সিনহা, তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ]

তার পর কেটে গিয়েছে প্রায় চার দশক। সুপার কমপিউটর এসেছে, স্মার্টফোন এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়া এসেছে। আর ভূতের দামও বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। বৃহস্পতিবারই বর্ধমানে ভূতের দাম পৌঁছেছে ১০ লক্ষ টাকায়। সুনীলের গল্পের গরীব-গুর্বোরা দশ রুপাইয়ার জন্য ভূতের সন্ধানে মেতেছিল। কিন্তু বর্ধমানের কাহিনীতে ভূত নিতে এসেছিলেন যাঁরা তাঁরা গরীব-গুর্বো নয় নিশ্চয়। না হলে সেই উত্তর ২৪ পরগনার বাগুইআটি থেকে বর্ধমানে ছুটে আসতেন না ১০ লাখি ভূত কিনতে। বোতলবন্দি ভূতের আশায় এসে মিলল অনেক কিছুই। ভূত ছাড়া। হোটেলের ঘরে আটকে রাখা। বোতলবন্দি কয়েন দেখিয়েই ১০ লক্ষ টাকা মেটাতে চাপ, প্রাণনাশের হুমকি। শেষপর্যন্ত মোবাইলে ফোন করে এক বন্ধুর সহায়তায় রক্ষা পান ভূতের ক্রেতারা। পুলিশের জালে ধরা পড়ে ভূতের কারবারিরা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

বৃহস্পতিবার রাতে বর্ধমান থানার পুলিশ বোতলবন্দি ভূত বিক্রির অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে শহরের তিনকোনিয়া এলাকার একটি হোটেল থেকে। ধৃতরা হল সুপ্রকাশ দে ওরফে বাপ্পা, জয়ন্ত ধারা, অরূপ দাস ও বিকাশ গিরি। শুক্রবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে তোলা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাগুইআটির কৃষ্ণপুর মিশন বাজারের তাপস রায়চৌধুরি। মঙ্গলবার তাঁর মোবাইলে পাশের জগতৎপুরের দীনেশ সিং ফোন করে জানায় একজনের কাছে ভূত রয়েছে। সে বিক্রি করবে। তাঁর কথা শুনে তাপসবাবু জগৎপুরের বাসুদেব কুণ্ডুকে জানান। দু’জনেরই ভূত দেখার ইচ্ছা হয়। ঠিক করে যত টাকা লাগে লাগুক ভূত কিনে দেখবে তারা। তাপস ও বাসুদেববাবুরা আরও একজনকে ঠিক করেন। তাঁর ভূত কেনার শখ হয়। বুধবার দুপুরে সুপ্রকাশ ফোন করে তাপসবাবুকে। জানায়, ভূত কিনতে চাইলে ১০ লক্ষ টাকা লাগবে। ভূত কিনতে চাইলে বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার মধ্যে তাঁদের বর্ধমানে আসতে বলা হয়। তাপস ও বাসুদেব কথামতো বর্ধমানে আসেন। শহরের উল্লাস মোড়ে পুলিশ স্টিকার লাগানো গাড়ি নিয়ে সুপ্রকাশ-সহ চারজন। তাদের নিয়ে সুপ্রকাশ হোটেলে আসে। সেখানে নিজেকে পুলিশ অফিসার পরিচয় দেয় সুপ্রকাশ। তাপস ও বাসুদেবের সঙ্গে আরও একজনের ভূত কেনার জন্য আসার কথা থাকলেও তিনি আসায় ক্ষুব্ধ হয় ভূতের কারবারিরা।

হোটেলের ঘরে নিয়ে গিয়ে ক্রেতাদের একটা ঠান্ডা পানীয়ের বোতলে এক টাকার কয়েন রয়েছে বলে দেখায় সুপ্রকাশরা। বলে, এটা ভূতই ঢুকিয়েছে ভিতরে। এবার ১০ লক্ষ দিলেই বোতলের ভিতরে থাকা ভূত দেখানো হবে। তার পর তাদের ভূতটা বিক্রি করে দেওয়া হবে। প্রতারিত হচ্ছে বুঝতে পেরে অত টাকা নেই বলে জানান বাসুদেবরা। তখন ঠকবজরা একটি অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে তাতে ২০ হাজার টাকা জমা করাতে বলে। না হলে খুন করা হবে বলে হুমকি দেয়। কিন্তু তা না করায় তাপস ও বাসুদেবকে হোটেলের একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। তাঁদের কাছে থাকা কিছু টাকা-পয়সা কেড়ে নেওয়া হয়। তখন কোনওক্রমে তাপসবাবু এক বন্ধুকে ফোন করেন। তিনিই বর্ধমান থানায় খবর দেন। রাতেই পুলিশ হোটেলে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করে। উদ্ধার করে তাপসবাবুদের। ধৃতদের হেফাজতে থাকা পুলিশ স্টিকার লাগানো গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করেছে। উদ্ধার করেছে ভূতের বোতলটিও।

[বিচারকের দাওয়াইয়ে কাজ, মিষ্টিমুখে পুনর্মিলন সিউড়ির দম্পতির]

বর্ধমান থানার আইসি তুষারকান্তি কর জানান, ভূত বিক্রি ও দেখানোর নামে বহু লোককে ঠকিয়েছে এই চক্রটি। জানা গিয়েছে, ধৃত সুপ্রকাশের বাড়ি হুগলির আরামবাগের মলয়পুরে। সে কলকাতা পুলিশের গাড়ির চালক বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। জয়ন্তর বাড়ি হুগলির শ্রীরামপুরের বড়বেগম লেনে। সিঙ্গুরের বলরামপুরে বাড়ি অরূপের এবং বিকাশের বাড়ি ভদ্রেশ্বরে। হুগলি জেলার ভূত বর্ধমানে এনে উত্তর ২৪ পরগনার লোককে বিক্রি করতে গিয়ে পুলিশের জালে। সিনেমার সুরেন্দ্রকেও গ্রামছাড়া হতে হয়েছিল। চোখের জলে বিদায় নিতে হয়েছিল। বর্ধমানের কাহিনিতে তাপস-বাসুদেবদের ভূতের দেখা না পেয়েই ফিরতে হয়েছে। চোখের জল নয়, প্রাণে রক্ষা পাওয়ার স্বস্তি নিয়ে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.