ধীমান রায়, কাটোয়া: রক্ষকরাই ভক্ষক। মা মারা যাওয়ার পর অসহায় অবস্থার কারণে এক পিসির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল ছোট্ট মেয়েটি। স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শিখে নিজের পায়ে দাঁড়াবে। কিন্তু দু’বছরের মধ্যেই স্বপ্নভঙ্গের পর তাকে বাড়ি ফিরে আসতে হয়। বাড়িতে ফিরে আসার পরেও নিরাপদ থাকতে পারেনি বছর পনেরোর কিশোরী। যাদের সে নিজের বলে ভেবেছিল, সেই আপনজনদের যৌন লালসার থাবায় আজ বিক্ষত সে। পিতৃসম পিসেমশাই থেকে পিসতুতো দাদা। পিসতুতো জামাইবাবু থেকে নিজের দাদাও। সকলের কাছেই তাকে যৌন লালসার শিকার হতে হয়েছে। এমনই অভিযোগ তুলেছে কাটোয়ার দাঁইহাটের নবম শ্রেণির ছাত্রীটি। অভিযোগ পেয়ে ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত পিসেমশাই ও দাদাকে গ্রেপ্তার করেছে কাটোয়া থানার পুলিশ।
[মরা মুরগির ব্যবসা বন্ধে কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর]
পুলিশ জানিয়েছে ধৃতদের নাম প্রদীপ সরকার (৫৪) ও সপ্তদীপ রায় (১৮)। দাদা সপ্তদীপ এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। তাকে দু’দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। যদিও মেয়েটির পিসি ধৃত প্রদীপের স্ত্রী সুজাতা সরকার বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। মেয়েটি দু’বার বাড়ি থেকে পালিয়েছিল অন্য একটি ছেলের সঙ্গে। পরে ওকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়। ওই ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় প্রতিহিংসার বশে পরিবারের সকলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
নির্যাতিতা ছাত্রীর বাড়ি দাঁইহাটের স্কুল মোড়ে। একই বাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকেন কিশোরীর পিসিও। নির্যাতিতা কিশোরী স্থানীয় সুধাময় গার্লস হাইস্কুলের নবম শ্রেণিতর ছাত্রী। তার একটি ভাই ও বাবা স্থানীয় একটি দোকানে কাজ করেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১২ সালে মেয়েটির মা মারা যান।
জানা গিয়েছে, গত সোমবার মেয়েটির বাবা কাটোয়া থানায় এসে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, তাঁর মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর সন্দেহ তির পাড়ারই এক যুবকের বিরুদ্ধে। মেয়েটির বাবার কাছে মৌখিক অভিযোগ পেয়ে পুলিশ একজনকে আটকও করেছিল। এরপর মঙ্গলবার মেয়েটি নিজেই থানায় চলে আসে। তাই বিষয়টি বেশিদুর এগোয়নি। এরপরেই মেয়েটি তার বাবার সঙ্গে কাটোয়া চাইল্ড লাইনের অফিসে দেখা করতে যায়। এই প্রসঙ্গে চাইল্ড লাইনের এক কর্মী সুচেতনা ভট্টাচার্য বলেন, মেয়েটি যাতে ভালভাবে থাকে। ভাল করে পড়াশোনা করে। তা বোঝাতেই আমাদের কাছে নিয়ে এসেছিলেন তার বাবা। আমরা ওই নাবালিকার সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলি। তখন সে ঘটনার কথা খুলে বলে। আমরা ওর কাছে ওই সমস্ত ঘটনা শুনে স্তম্ভিত হয়ে যাই।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১২-তে মায়ের মৃত্যুর পর বাবা মেয়েকে দক্ষিণেশ্বরে বড় পিসির বাড়িতে মেয়েকে পাঠিয়ে দেন। ওখানেই একটি স্কুলে ভর্তি হয়েছিল সে। নাবালিকার অভিযোগ, পিসির বাড়িতে থাকাকালীন পিসতুতো দাদা ও জামাইবাবু তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছিল। বাধ্য হয়ে দু’বছর পর দাঁইহাটে ফিরে আসে সে। দাঁইহাটে আসার পরেও একই ঘটনা ঘটে তার সঙ্গে। তাদের বাড়িতে থাকার সুবাদে ছোট পিসেমশাই তার শ্লীলতাহানি করে। এমনকী, ধর্ষণ করে নিজের দাদাও। চাইল্ড লাইনের কর্মীর কাছে এই সমস্ত ঘটনা বলে দেয় নির্যাতিতা ছাত্রী। এরপরেই ওই ছাত্রীকে সঙ্গে করে থানায় নিয়ে যান চাইল্ড লাইনের কর্মীরা। চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি ও নিয়েছে আদালত। বুধবার নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে আদালতে। ধৃত প্রদীপ সরকারকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
[মদ্যপদের হাতে আক্রান্ত মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার ও তাঁর পরিবার]
সর্বশেষ খবর
-
বিতর্কিত গোল বাতিলেই হার! অদম্য লড়াইয়ের পরও মেসিদের বিরুদ্ধে ট্র্যাজিক নায়ক সালাহ
-
নাগাল্যান্ডের ভুয়ো লাইসেন্সে কেনা পিস্তল দেখিয়ে তাণ্ডব চালাত মিনি ফিরোজ, উদ্ধার সেই ‘বিদেশি’ পিস্তল
-
বিশ্বকাপে অব্যাহত মেসি মহাকাব্য! দু’গোলে পিছিয়ে পড়েও নাটকীয় জয়ে শেষ আটে আর্জেন্টিনা
-
কলকাতা, হাওড়ায় পুরভোট নভেম্বরের শেষেই! ৬০টি ওয়ার্ডে ভাগ হবে হাওড়া
-
১৬০ কোটির সন্দেহজনক লেনদেন, তৃণমূলের টাকাতেই বিমান-হেলিকপ্টার কেনে সংস্থা! প্রকাশ্যে বিস্ফোরক তথ্য