সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: টানা দশদিন হাসপাতালে যুদ্ধ করা পর অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল পুরুলিয়ার সাড়ে তিন বছরের নির্যাতিত শিশুকন্যাটি। আর খবর পাওয়া মাত্রই শোকে বিহ্বল গোটা রাজ্য-সহ পুরুলিয়া মফস্বলের দুই গ্রাম ঘোঙা ও নদিয়াড়া। সকাল থেকেই মৃত শিশুকন্যাটির বাড়ির সামনে লোকের জটলা। শোকে পাথর আট থেকে আশি সকলেই। এর মধ্যেই শ্বশুর ও শিশুটির মায়ের ফাঁসির দাবি তুললেন সনাতনের ছোট ছেলের স্ত্রী রিনা ঠাকুর।
[শহিদ দিবসের নামে শহরে ‘শহিদ’ হতে আসছেন সাধারণ মানুষ, টুইট করে বিতর্কে বাবুল]
শুক্রবার সকাল ৯ টা নাগাদ ফোনে ফোনে চাউর হয়ে যায়, একরত্তি শিশুটির লড়াই শেষ। টানা দশদিন ‘যুদ্ধ’ করতে করতে এসএসকেএমের বিছানায় শুক্রবার সকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে সাড়ে তিন বছরের শিশুকন্যা। মঙ্গলবার হওয়া অস্ত্রোপচার সফল হলেও শিশুটিকে বাহাত্তর ঘন্টা পর্যবেক্ষণে রাখে এসএসকেএম। সংক্রমণের কারণেই শেষমেষ মৃত্যু হয় তার। খবর পাওয়া মাত্রই শোকস্তব্ধ দুই গ্রাম। পুরুলিয়া মফস্বলের ঘোঙা ও নদিয়াড়া। এর মধ্যে ঘোঙা গ্রামেই জন্মেছিল শিশুটি। আর নদিয়াড়াতেই মায়ের সঙ্গে এসে সুচ বিদ্ধ হতে হয়েছিল তাকে।
[সাতসকালে পছন্দের খাবার খাওয়ার জন্য এ কী করলেন নুসরত?]
এদিন সকালে নদিয়াড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পুরুলিয়া-চন্দনকেয়ারি রাস্তার বাঁ দিকে সেই তালাবন্ধ ‘অভিশপ্ত’ বাড়ির সামনে জটলা। মুখ দিয়ে যেন কোন কথাই সরছে না স্থানীয়দের। ঠিক তখনই এই সুচ কান্ডে অভিযুক্ত সনাতন ঠাকুরের ছোট বউমা রিনা ঠাকুর বলে উঠলেন,“এবার কি শিশুর মা মুখ খুলবে। ও মা নয়, ও ডাইনি। ওর বোধহয় এবার শান্তি হল। শ্বশুর আর ওই মহিলা মিলে মেরে ফেলল শিশুটাকে। আমরা ওদের ফাঁসি চাই।’’তখন যেন রিনা দেবীর গলায় গলা মিলিয়ে গোটা গ্রাম বলল, ওদের ফাঁসি না হলে শিশুর আত্মা শান্তি পাবে না। এদিকে এই শিশু মৃত্যুর খবর তার বাবা লক্ষ্মীকান্ত গোস্বামীর কানে যেতেই অবসরপ্রাপ্ত হোমগার্ড অভিযুক্ত সনাতন ঠাকুরের মতো তিনিও পলাতক। অথচ কয়েকদিন আগেই এই লক্ষ্মীকান্ত জানান তিনি শিশুটিকে নিতে চান। ফলে তার আচরণে সন্দেহ করছে পুলিশ। পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে তাতে ওই মৃত শিশুর মা-র নামেও মামলা করবে চাইল্ড লাইন।
[কিরণ বেদিকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা কংগ্রেসের, জোর বিতর্ক]
এদিকে, অভিযুক্ত সনাতন ঠাকুর এখনও অধরা। ঝাড়খণ্ড থেকে সে বিহার বা উত্তরপ্রদেশে গা ঢাকা দিয়েছে বলেই অনুমান করা হচ্ছে। নদিয়াড়ার বাসিন্দা এই বুড়ো সনাতন তার পূর্ব পরিচিত তথা স্বামী পরিত্যক্তা মঙ্গলা গোস্বামীকে গত মার্চ মাসে তার বাড়িতে নিয়ে আসে। ফলে ওই শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে সেখানেই থাকত। অভিযোগ এখানেই ওই শিশুটি পাশবিক অত্যাচারের শিকার হয়। এর মধ্যেই সনাতন ঠাকুরের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুনের মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
[কেন পালন করা হয় শহিদ দিবস? কী বলছেন আম জনতা?]
সর্বশেষ খবর
-
কাচ ঢাকা কালো গাড়িতে অভিষেক, ঝুলতে ঝুলতে যাতায়াত নিরাপত্তারক্ষীদের! ‘যুবরাজে’র বিরুদ্ধে এফআইআর
-
হেপাইটাইটিস বি পজিটিভ রোগীর ত্বকে সফল অস্ত্রোপচার, দেবেন মাহাত মেডিক্যালে অসাধ্যসাধন
-
জোড়া গোলে স্বপ্নের ফেরিওয়ালা কেন, শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড, বিশ্বকাপে কঙ্গোর রূপকথায় ইতি
-
অযোধ্যা পাহাড়ের হোটেলে গা ঢাকা দিয়েও হল না শেষরক্ষা, কীভাবে এসটিএফের জালে অদিতির স্বামী দেবরাজ?
-
খাস কলকাতায় নাবালিকাকে ‘গণধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ২ অভিযুক্ত