Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৩ জুলাই ২০২৬

সরকারি হাসপাতালের মধ্যেই ছাত্রীকে ঝাড়ফুঁক গুনিনের!

দেওয়া হয়েছে তদন্তের নির্দেশ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৭, ০৯:২৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৭, ০৯:২৮

options
link
সরকারি হাসপাতালের মধ্যেই ছাত্রীকে ঝাড়ফুঁক গুনিনের! zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এগোচ্ছে দেশ, এগোচ্ছে রাজ্য। কিন্তু এখনও যে আমরা কতটা পিছিয়ে, কুসংস্কারাচ্ছন্ন- মেদিনীপুর সরকারি হাসপাতালের ঘটনা ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করল সেকথা। সরকারি হাসপাতালে প্রকাশ্যেই চলল গুনিনরাজ! এক কিশোরী স্কুলছাত্রীকে মা মনসা ভর করেছে, একথা জানতে পেরে হাসপাতালের মধ্যেই দিনভর চলল ঝাড়ফুঁক৷ শুধু তাই নয়, তাকে ঘিরে অন্যান্য রোগীর বাড়ির লোকজনও মেতে উঠলেন সারাদিন৷ কেউ কেউ আবার ওই কিশোরীকে মনসা জ্ঞানে পুজোও করলেন। হল ধূপ-ধুনো জ্বালিয়ে আরতিও৷

[নাপিতের কাছে ঘাড়ে ম্যাসাজ করান? জানেন, কী ক্ষতি করছেন নিজের?]

জানা গিয়েছে, পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ায় ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল পাপিয়া সিং নামে দশম শ্রেণির ওই ছাত্রী৷ তার বাড়ি খড়গপুর থানার মাদপুর গ্রামে৷ পাপিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ রবিবার পাপিয়া অনেকটাই সুস্থ হয়ে ওঠে বলে জানা যায়৷ এদিন সকালে হঠাৎই পাপিয়া বিড়বিড় করে কী যেন বলতে শুরু করে৷ হাসপাতালের বেডে শুয়ে পাপিয়া নাকি বলে, ‘‘আমাকে মা মনসা ডেকেছেন৷ আমি চলে যাচ্ছি।” পাপিয়ার মা মিঠু সিং জানান, “এরপর পাপিয়া সাপের মতো মেঝেতে এঁকেবেঁকে হাসপাতালের তিনতলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসে৷ আমরাও ওর সঙ্গে নিচে নেমে আসি৷” এর পরই গুনিন ডাকা হয়। মিঠুদেবী অবশ্য বলেন,“বৃহস্পতিবার থেকে ভর্তি হলেও চিকিৎসায় মেয়ের কোনও উন্নতি হয়নি৷ তাই আমরা গুনিন ডেকে এনেছিলাম৷ সেই গুনিন ঝাড়ফুঁক শুরু করেন৷ ” এদিকে এই কাণ্ড দেখে ভিড় জমে যায় হাসপাতাল চত্বরে৷ অনেকে আবার ধূপ-ধুনো নিয়ে কিশোরীকে পুজো করতে শুরু করে দেন৷ হাসপাতালের বাইরে থাকা মনসা মন্দিরে গিয়ে মিঠুদেবী পুজোও দেন৷ ঢাক-ঢোল, কাঁসর ঘণ্টা বাজানো হয়৷

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[ব্রহ্মপুত্রের জল নিয়ে ভারত নয়, বাংলাদেশকে তথ্য দিচ্ছে চিন]

এদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে সুপার তন্ময়কান্তি পাঁজা বলেন, “এত নিরাপত্তারক্ষী থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই ঘটনাটি ঘটল তার খোঁজ চলছে৷” যদিও খবর, হাসপাতালের কর্মীরা তা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতে থাকেন৷ কেউ বাধা দিতে এগিয়ে আসেননি৷ একসময় মিঠুদেবী পাপিয়াকে সেখান থেকে বাড়ি নিয়ে চলে যান হাসপাতাল থেকে ছুটি না নিয়েই৷ ওয়ার্ড মাস্টার সঞ্জীব গোস্বামী বলেন, “হাসপাতাল রেজিস্টারে সই না করে ওই রোগীকে নিয়ে চলে গিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি৷ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হবে৷” এর মাস দুই আগে এক সাপে কাটা মৃত রোগীকে হাসপাতালের মধ্যেই বাঁচিয়ে তোলার জন্য ওঝা ডেকে দিনভর ঝাড়ফুঁক করা হয়েছিল৷ তা নিয়েও শোরগোল শুরু হয়েছিল৷ হাসপাতালে নিরাপত্তারক্ষীরা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এত বহিরাগত লোকজন হাসপাতালে ঢুকে ঝাড়ফুঁক চালাল, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে৷

[রেহাই পেল না ৬ মাসের শিশুও, চোখ ফুঁড়ে অ্যাসিড ইঞ্জেকশন]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.