নিজস্ব সংবাদদাতা, বনগাঁ: জন্ম থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন। মাস তিনেক আগে একটি বিয়েবাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন। শেষপর্যন্ত হ্যাম রেডিও অপারেটরদের তৎপরতায় ছেলেকে ফিরে পেলেন পরিবারের লোকেরা। এমনই মানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকল বনগাঁ।
[আরও পড়ুন: মধ্যযুগীয় মানসিকতার প্রতিবাদ, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়ে গান লিখলেন ‘তেপান্তর’-এর বাবী]
রাস্তার পাশে ডাস্টবিন থেকে খাবার তুলে খাচ্ছে এক যুবক। আর তাঁকে ঘিরে দাঁড়িয়ে কৌতুহলী মানুষজন। মঙ্গলবার রাতে ডিউটি থেকে ফেরার পথে এমন দৃশ্য দেখে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন বনগাঁর কাজল চট্টোপাধ্যায়ও। কাজলবাবু পেশায় পুলিশকর্মী, চাকরি করেন কলকাতা পুলিশে। রোজকার মতোই সেদিন ডিউটি সেরে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। কলকাতার পুলিশের ওই কর্মী জানিয়েছেন, ‘ওই যুবকের সঙ্গে কথা বলেই বুঝতে পারি, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। অনাহারে শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।’ দ্রুত নিজের কর্তব্যও স্থির করে ফেলেন কাজলবাবু। কিন্তু, তাঁকে কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ। শেষপর্যন্ত ওই যুবককে নিজের বাইকে চাপিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হন কাজল চট্টোপাধ্যায়। রোগীর হাসপাতালে ভরতি করেন চিকিৎসকরাও। রাখা হয় আইসোলেশন ওয়ার্ডে।
কিন্তু ওই যুবকের পরিচয় কী? তিনি বনগাঁয় এলেনই বা কী করে? মুশকিল আসান করলেন হ্যাম রেডিও অপারেটররা। হ্যাম রেডিও মারফত খবর পেয়ে বুধবার সন্ধ্যায় বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে আসেন ওই যুবকের পরিবারের লোকেরা। জানা যায়, ওই যুবকের নাম হায়দার মণ্ডল। বাড়ি বর্ধমানের মালোচা গ্রামে। পরিবারের লোকের দাবি, জন্ম থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন হায়দার। মাস তিনেক আগে একটি বিয়েবাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ছেলের আর খোঁজ পাননি পরিবারের লোকেরা। এদিকে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে ঘুরতে বর্ধমান থেকে বনগাঁয় এসে হাজির হন হায়দার।