সঞ্জীব মণ্ডল, শিলিগুড়ি: অধ্যাপকের বিরুদ্ধে স্বজন পোষণের অভিযোগ। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের চুক্তি ভিত্তিক সহকারী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত অধ্যাপকের নাম দিলীপ রায় চৌধুরি। অভিযোগ, পছন্দের পড়ুয়াদের শিক্ষা সহায়ক সুযোগ সুবিধা দেন ওই অধ্যাপক। পরীক্ষার আগে সাজেশন থেকে শুরু করে নম্বর। সব ক্ষেত্রেই অগ্রাধিকার পায় দিলীপবাবুর প্রিয় পড়ুয়ারা। তবে এখানেই শেষ নয়, সুযোগ বুঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের কুপ্রস্তাবও দিয়েছেন বলে অভিযোগ। দিনের পর দিন এই অবিচারের শিকার হয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধানকে বিষয়টি জানানো হয়। তবে তিনি কোনওরকম ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ। কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপকের এহেন আচরণে স্বভাবতই ক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীরা সুবিচারের আশায় স্মারকলিপি জমা দিল বুধবার। একইসঙ্গে ছাত্রীদের তরফে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ দায়ের হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিলা সেলে।
[কে বলে নারী অবলা! প্রিয়াঙ্কার পাঞ্চই ভরসা জোগাচ্ছে রাজ্যের মেয়েদের]
বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল করেন ক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীরা। তারপর প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে রেজিস্ট্রারের অফিসে স্মারকলিপি জমা দিল। বিশেষ কাজে রেজিস্ট্রার বাইরে থাকায় তাঁর দপ্তরেই জমা দেওয়া হল স্মারকলিপি। এদিকে ঘটনার খবর পৌঁছে গিয়েছে রেজিস্ট্রার দিলীপ সরকারের কাছে। তিনি ফোনে জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। সে খবর পেয়েছেন। এই মুহূর্তে উচ্চশিক্ষা সংসদের বৈঠকে যোগ দিতে কলকাতায় আছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও কলকাতায়। বিকেলের মধ্যেই উত্তরবঙ্গে ফিরে আসছেন। ফিরে এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক ২০০৮ সাল থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নতুন কিছু নয়। কম্পিউটার সায়েন্সের দুটি পোস্ট গ্রাজুয়েট কোর্স রয়েছে। একটি দু’বছরের অন্যটি তিন বছরের। বুধবার সংশ্লিষ্ট বিভাগের সমস্ত ছাত্রছাত্রীরাই প্রতিবাদে সরব হন। তবে মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন চতুর্থ সেমেস্টারের ছাত্রছাত্রীরা। এর আগেও দিলীপ রায় চৌধুরির বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান রাকেশ কুমার মণ্ডলের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন পড়ুয়ারা। সেই অভিযোগ উপাচার্যের টেবিল পর্যন্ত গড়ায়। সেই সময় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন উপাচার্য। ইতিমধ্যেই সেই তদন্ত শেষ হয়েছে। উপাচার্য কলকাতা থেকে ফিরলেই রিপোর্ট প্রকাশিত হবে। তবে বিশ্বস্ত সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, তদন্ত রিপোর্টে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন ওই অধ্যাপক। এদিকে যতক্ষণ না বিষয়টির সমাধান হচ্ছে, ততক্ষণ অভিযুক্ত দিলীপ রায় চৌধুরিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ করা হয়েছে।
[মমতার ধমকেই কাজ, ২ লাখ টাকায় চিতা জ্বলল ১৭০০ বেওয়ারিশ লাশের]
অন্যদিকে এহেন অভিযোগের ভিত্তিতে পালটা অভিযোগ করেছেন সহকারী অধ্যাপক দিলীপ রায়চৌধুরি। তাঁর দাবি, পরীক্ষার সময় অসদুপায়ে প্র্যাকটিকাল করছিল কিছু পড়ুয়া। তিনি তাতে বাধা দিতেই এই ধরনের অভিযোগ আসছে তাঁর বিরুদ্ধে। তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ। তাই নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছেন। যদিও গত ২২ তারিখ থেকে ক্লাস নিতে পারছেন না। এদিনও এসেছিলেন, কিন্তু বিক্ষোভ দেখে ফিরে গিয়েছেন।
বিশৃঙ্খলার জেরে বিশ্বিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের পড়াশোনা শিকেয় উঠেছে। এখন উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার ফিরলেই সমাধানের আশা দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
সর্বশেষ খবর
-
বিতর্কিত গোল বাতিলেই হার! অদম্য লড়াইয়ের পরও মেসিদের বিরুদ্ধে ট্র্যাজিক নায়ক সালাহ
-
নাগাল্যান্ডের ভুয়ো লাইসেন্সে কেনা পিস্তল দেখিয়ে তাণ্ডব চালাত মিনি ফিরোজ, উদ্ধার সেই ‘বিদেশি’ পিস্তল
-
বিশ্বকাপে অব্যাহত মেসি মহাকাব্য! দু’গোলে পিছিয়ে পড়েও নাটকীয় জয়ে শেষ আটে আর্জেন্টিনা
-
কলকাতা, হাওড়ায় পুরভোট নভেম্বরের শেষেই! ৬০টি ওয়ার্ডে ভাগ হবে হাওড়া
-
১৬০ কোটির সন্দেহজনক লেনদেন, তৃণমূলের টাকাতেই বিমান-হেলিকপ্টার কেনে সংস্থা! প্রকাশ্যে বিস্ফোরক তথ্য